ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ইসলামপুরে পোল্ট্রি খামারি ব্যবসায় লোকসানের ধাক্কা, ঝুঁকছেন অন্য পেশায়

ইসলামপুর : লেয়ার মুরগির খামার। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

পোল্ট্রি শিল্পে লেয়ার মুরগির খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি ও ডিমের দাম কমে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। কম দামে ডিম বিক্রির বাধ্যবাধকতায় টানা লোকসান ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে একের পর এক বন্ধ হচ্ছে খামার, খামার ব্যবসায়ী মালিকেরা ঝুঁকছেন অন্য পেশায়।

জানা গেছে, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় ১৫০টি মুরগির খামার রয়েছে। অধিকাংশ খামারিরাই খাদ্যের দোকানে বাকি, ব্যাংক ঋণের ঝামেলায় দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও বিনিয়োগ সবই ঝুঁকির মুখে পড়ায় ব্যবসা বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্তমানে ৫০ কেজি লেয়ার খাদ্যের দাম দুই হাজার ৭০০ টাকা। অন্যদিকে প্রতিটি ডিম আট টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করেও এক টাকা থেকে দেড় টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে।

ডিমের বাজার ধসে পড়ায় অনেক খামারি একসঙ্গে তাদের বাতিল (রিজেক্ট) মুরগি বিক্রি করছেন। এতে বাতিল মুরগির দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। একটি এক হাজার লেয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন খামারে, ডিম উৎপাদন শুরু হওয়া পর্যন্ত, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে প্রায় আট লাখ টাকা থেকে নয় লাখ টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু উৎপাদন শেষে বাতিল মুরগি বিক্রি করে খামারিরা মাত্র চার লাখ টাকা পাচ্ছেন। অর্থাৎ অর্ধেকই লোকসানে হচ্ছে।

কাছিমা গ্রামের সফল উদ্যোক্তা খামারি মমতা বেগম বলেন, এইভাবে লোকসান দিয়ে আর ব্যবসা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাতিল মুরগি বিক্রি করে অন্য ব্যবসায় যাওয়ার চিন্তা করছি।

বোয়ালমারী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও জুনাইন সাইয়ারা পোল্ট্রি ফার্মের স্বত্বাধিকারী আজিজুর রহমান বলেন, ব্যাংক ঋণ নিয়ে ফার্ম করেছি। কিন্তু এখন এমন লোকসান যে কিস্তি শোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

খামার ব্যবসায়ী ফিরোজ খান লোহানী বলেন, শীতকালীন সবজি বাজারে বেশি আমদানি হওয়ায় রমজান পর্যন্ত ডিমের দাম আরও কমতে পারে। সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ইসলামপুরে লেয়ার পোল্ট্রি শিল্প পুরোপুরি ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কাজী ফার্মের ডিলার সোহেল মিয়া আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে খামারগুলো বন্ধ হতে থাকলে আগামী বছরের জুন মাস থেকে ডিমের দাম হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। তখন দেশে ডিম সংকটও দেখা দিতে পারে।

ইসলামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল আলিম এ প্রতিবেদককে বলেন, ডিমের মূল্যহ্রাস ও খামারিদের সংকট সম্পর্কে অধিদপ্তর অবগত আছে। সরকার খাদ্যের দাম কমাতে কাজ করছে। এতে খামারিদের লোকসান আংশিক হলেও কমবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ

ইসলামপুরে পোল্ট্রি খামারি ব্যবসায় লোকসানের ধাক্কা, ঝুঁকছেন অন্য পেশায়

আপডেট সময় ১০:০৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

পোল্ট্রি শিল্পে লেয়ার মুরগির খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি ও ডিমের দাম কমে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। কম দামে ডিম বিক্রির বাধ্যবাধকতায় টানা লোকসান ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে একের পর এক বন্ধ হচ্ছে খামার, খামার ব্যবসায়ী মালিকেরা ঝুঁকছেন অন্য পেশায়।

জানা গেছে, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় ১৫০টি মুরগির খামার রয়েছে। অধিকাংশ খামারিরাই খাদ্যের দোকানে বাকি, ব্যাংক ঋণের ঝামেলায় দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও বিনিয়োগ সবই ঝুঁকির মুখে পড়ায় ব্যবসা বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্তমানে ৫০ কেজি লেয়ার খাদ্যের দাম দুই হাজার ৭০০ টাকা। অন্যদিকে প্রতিটি ডিম আট টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করেও এক টাকা থেকে দেড় টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে।

ডিমের বাজার ধসে পড়ায় অনেক খামারি একসঙ্গে তাদের বাতিল (রিজেক্ট) মুরগি বিক্রি করছেন। এতে বাতিল মুরগির দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। একটি এক হাজার লেয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন খামারে, ডিম উৎপাদন শুরু হওয়া পর্যন্ত, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে প্রায় আট লাখ টাকা থেকে নয় লাখ টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু উৎপাদন শেষে বাতিল মুরগি বিক্রি করে খামারিরা মাত্র চার লাখ টাকা পাচ্ছেন। অর্থাৎ অর্ধেকই লোকসানে হচ্ছে।

কাছিমা গ্রামের সফল উদ্যোক্তা খামারি মমতা বেগম বলেন, এইভাবে লোকসান দিয়ে আর ব্যবসা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাতিল মুরগি বিক্রি করে অন্য ব্যবসায় যাওয়ার চিন্তা করছি।

বোয়ালমারী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও জুনাইন সাইয়ারা পোল্ট্রি ফার্মের স্বত্বাধিকারী আজিজুর রহমান বলেন, ব্যাংক ঋণ নিয়ে ফার্ম করেছি। কিন্তু এখন এমন লোকসান যে কিস্তি শোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

খামার ব্যবসায়ী ফিরোজ খান লোহানী বলেন, শীতকালীন সবজি বাজারে বেশি আমদানি হওয়ায় রমজান পর্যন্ত ডিমের দাম আরও কমতে পারে। সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ইসলামপুরে লেয়ার পোল্ট্রি শিল্প পুরোপুরি ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কাজী ফার্মের ডিলার সোহেল মিয়া আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে খামারগুলো বন্ধ হতে থাকলে আগামী বছরের জুন মাস থেকে ডিমের দাম হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। তখন দেশে ডিম সংকটও দেখা দিতে পারে।

ইসলামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল আলিম এ প্রতিবেদককে বলেন, ডিমের মূল্যহ্রাস ও খামারিদের সংকট সম্পর্কে অধিদপ্তর অবগত আছে। সরকার খাদ্যের দাম কমাতে কাজ করছে। এতে খামারিদের লোকসান আংশিক হলেও কমবে।