ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বঙ্গভবনে কার্যক্রম শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি উন্নয়ন কাজে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকলিস্টেড করা হবে : গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী রাজিব বাস সার্ভিস নিরাপদ করতে পরামর্শ সভা, ১৩ নির্দেশনা অসহায়ত্বের সুযোগে দ্বিগুণ ভাড়ায় চলছে ইসলামপুরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভেজাল সরিষার তেল কারখানা সিলগালা, ১ লাখ টাকা জরিমানা যুবদলনেতা সোহেল রানার উদ্যোগে চলছে গবাখালি খাল পরিষ্কার স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী জলাবদ্ধতা নিরসনে পদক্ষেপ নিলেন বকশীগঞ্জের বিএনপি নেতা শাকিল যুবদল নেতা মোখলেস ও মহিলা দলনেত্রী মনির সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল জামালপুরে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফোরাম গঠিত

রাজশাহীতে বিচারকপুত্র সুমন খুন, সরিষাবাড়ীর নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন

সরিষাবাড়ী : তাওসিফ রহমান সুমনের মরদেহ রাজশাহী থেকে তার বাড়ি সরিষাবাড়ীতে আনা হয় অ্যাম্বুলেন্সে করে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম 

রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আব্দুর রহমানের ছেলে নবম শ্রণির ছাত্র তাওসিফ রহমান সুমনকে (১৮) হত্যায় গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। ১৪ নভেম্বর, শুক্রবার রাতে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া চকপাড়া এলাকায় নিহতের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছলে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।

জানা গেছে, রাজশাহী শহরের দাপ্তলা এলাকায় ভাড়াবাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আব্দুর রহমান। ১৩ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার দুপুরে লিমন নামে এক ব্যক্তি বিচারকের ভাই পরিচয় দিয়ে পরিবারের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। লিমন বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহারের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন।

কিছুক্ষণ পর তাদের মধ্যে তর্ক বাধে। একপর্যায়ে হামলাকারী ছুরি বের করলে তাসমিন নাহার নিজেকে একটি কক্ষে আটকে ফেলেন। পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা তাওসিফ রহমান সুমন দরজা ভাঙার শব্দে বেরিয়ে এলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি তাকে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাড়ির গৃহকর্মী ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে প্রতিবেশীদের খবর দেন। পরে স্থানীয়রা তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাওসিফ রহমান সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের মা তাসমিন নাহার এবং একমাত্র সন্দেহভাজন লিমন মিয়া গুরুতর আহত হয়েছেন।রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লিমনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

তাওসিফ রহমান সুমনের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর গ্রামের বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বয়ড়া চকপাড়া এলাকায় পৌঁছলে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে বয়ড়া ইসরাইল আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাযা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদির কবরের পাশে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

জানাযা নামাজে রাজশাহী ও জামালপুর দায়রা জজ, পুলিশ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের মানুষ জানাযায় অংশ নেন।

সরিষাবাড়ী : বয়ড়া ইসরাইল আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় তাওসিফ রহমান সুমনের নামাজে জানাজা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নিহতের আত্মীয় বিএনপিনেতা চান মিয়া চানু এ প্রতিবেদককে বলেন, তাওসিফ রহমান সুমনের পায়ে গভীর ক্ষত থেকে ব্যাপক রক্তপাত হয়েছিল।পাশাপাশি তার গলায় শ্বাসরোধের চিহ্নও পাওয়া গেছে। ছুরিআঘাতের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় হামলাকারীর বিচার ও শাস্তির দাবি জানান স্বজন ও এলাকাবাসী।

উল্লেখ, নিহতের মা তাসমিন নাহার ৬ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সিলেট কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, লিমন টাকা দাবিসহ পরিবারকে হুমকি দিচ্ছিলেন। এ ঘটনার সাতদিন পরেই হত্যা করা হল তাওসিফ রহমান সুমনকে।

এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান এ প্রতিবেদককে বলেন, ১৪ নভেম্বর, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে রাজশাহী থেকে নিহতের মরদেহ গ্রামের বাড়ি পৌঁছে। বয়ড়া ইসরাইল আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নামাযে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গভবনে কার্যক্রম শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

রাজশাহীতে বিচারকপুত্র সুমন খুন, সরিষাবাড়ীর নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন

আপডেট সময় ১০:৫৩:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আব্দুর রহমানের ছেলে নবম শ্রণির ছাত্র তাওসিফ রহমান সুমনকে (১৮) হত্যায় গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। ১৪ নভেম্বর, শুক্রবার রাতে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া চকপাড়া এলাকায় নিহতের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছলে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।

জানা গেছে, রাজশাহী শহরের দাপ্তলা এলাকায় ভাড়াবাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আব্দুর রহমান। ১৩ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার দুপুরে লিমন নামে এক ব্যক্তি বিচারকের ভাই পরিচয় দিয়ে পরিবারের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। লিমন বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহারের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন।

কিছুক্ষণ পর তাদের মধ্যে তর্ক বাধে। একপর্যায়ে হামলাকারী ছুরি বের করলে তাসমিন নাহার নিজেকে একটি কক্ষে আটকে ফেলেন। পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা তাওসিফ রহমান সুমন দরজা ভাঙার শব্দে বেরিয়ে এলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি তাকে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাড়ির গৃহকর্মী ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে প্রতিবেশীদের খবর দেন। পরে স্থানীয়রা তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাওসিফ রহমান সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের মা তাসমিন নাহার এবং একমাত্র সন্দেহভাজন লিমন মিয়া গুরুতর আহত হয়েছেন।রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লিমনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

তাওসিফ রহমান সুমনের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর গ্রামের বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বয়ড়া চকপাড়া এলাকায় পৌঁছলে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে বয়ড়া ইসরাইল আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাযা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদির কবরের পাশে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

জানাযা নামাজে রাজশাহী ও জামালপুর দায়রা জজ, পুলিশ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের মানুষ জানাযায় অংশ নেন।

সরিষাবাড়ী : বয়ড়া ইসরাইল আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় তাওসিফ রহমান সুমনের নামাজে জানাজা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নিহতের আত্মীয় বিএনপিনেতা চান মিয়া চানু এ প্রতিবেদককে বলেন, তাওসিফ রহমান সুমনের পায়ে গভীর ক্ষত থেকে ব্যাপক রক্তপাত হয়েছিল।পাশাপাশি তার গলায় শ্বাসরোধের চিহ্নও পাওয়া গেছে। ছুরিআঘাতের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় হামলাকারীর বিচার ও শাস্তির দাবি জানান স্বজন ও এলাকাবাসী।

উল্লেখ, নিহতের মা তাসমিন নাহার ৬ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সিলেট কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, লিমন টাকা দাবিসহ পরিবারকে হুমকি দিচ্ছিলেন। এ ঘটনার সাতদিন পরেই হত্যা করা হল তাওসিফ রহমান সুমনকে।

এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান এ প্রতিবেদককে বলেন, ১৪ নভেম্বর, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে রাজশাহী থেকে নিহতের মরদেহ গ্রামের বাড়ি পৌঁছে। বয়ড়া ইসরাইল আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নামাযে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।