রোগীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে দ্বিগুণ ভাড়া হাতিয়ে নিয়ে চলছে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স। দীর্ঘদিন ধরে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে এক প্রকার জিম্মি করেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ টাকা নিচ্ছেন চালক মফিজ উদ্দিন।
এতে করে যমুনা ব্রহ্মপুত্র বেষ্টিত এই অঞ্চলের একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ন্ত্রিত দুটি এবং উপজেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রিত একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। উক্ত তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি অনেক দিন ধরেই অচল। অন্য দুটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে চলে এখানকার রোগীদের সেবা কার্যক্রম। তবে অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন হয় গড়ে ৪-৫ জনের। সরকার কর্তৃক প্রতি ৫ কিলোমিটারে এক লিটার জ্বালানি দেওয়া হয়। ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে ভাড়া সরকার কর্তৃক ৭০০ টাকা নির্ধারণ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটি উপজেলার পাঁচ লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হলেও চিকিৎসাসেবাসহ নানা অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলমান। চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি সামান্য অসুস্থ রোগীদেরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে জামালপুর বা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে।
এই হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে জামালপুর ও ময়মনসিংহ গেলে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুণতে হয় রোগীর স্বজনদের। ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে ভাড়া সরকার কর্তৃক ৭০০ টাকা নির্ধারিত। কিন্তু সেই ভাড়ার তোয়াক্কা না করে রোগীর অসহায়ত্বকে জিম্মি করে স্বজনদের কাছ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা করে নেন অ্যাম্বুলেন্সের চালক। যা নির্ধারিত ফি’র দুই থেকে আড়াই গুণ বেশি। ভাড়া নিয়ে দরদাম করলে মুহূর্তেই যেতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
উপজেলার দুর্গম যমুনার চর সাপধরী ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজনে কিছুদিন আগে ফোন দিলে চালক বলেন, আমি জেলাতে আছি। এরপর জামালপুর যাওয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া জিজ্ঞেস করলে বলে, একদাম এক হাজার ৬০০ টাকা হলে যাবে। না হয় অন্য ব্যবস্থা করেন।দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স দরকার, রোগীর চিকিৎসা জরুরি। আর এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে থাকেন চালক। এই চালককে অপসারণ করা জরুরি। নয়তো দ্রুত সময়ে জেলা সদরে নিতে না পারায় চিকিৎসার অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে।
পাথর্শী ইউনিয়নের শাপলা আক্তার বলেন, আমার দুলাভাইকে জামালপুরে নিতে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে এক হাজার ৬০০ টাকা দিতে হয়েছে। এছাড়াও অক্সিজেন ছিল না অ্যাম্বুলেন্সে। অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার থাকা বাধ্যতামূলক হলেও দ্বায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি অসহায়ত্বের সুযোগে ব্যস্ত। সরকারি হাসপাতালের এই অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন জরুরি। নয়তো এই অমানুষদের কারণে অনেকের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
বিষয়টি নিয়ে ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক মফিজ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটি অস্বীকার করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এ এম আবু তাহের এই প্রতিবেদককে বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার কোন সুযোগ নেই। তবে রোগীদের জিম্মি করে যদি অতিরিক্ত ভাড়া নেয় সেটা অন্যায়। বিষয়টি দেখব।
লিয়াকত হোসাইন লায়ন : নিজস্ব প্রতিবেদক, ইসলামপুর, বাংলারচিঠিডটকম 



















