ঢাকা ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিডি ক্লিন প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ জামানত ছাড়াই ৫ কোটি টাকা ঋণ পাবে তরুণ উদ্যোক্তারা : প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে ইংল্যান্ড জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের কার্যক্রমকে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হেফাজ উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ যুবদলনেতা সোহেল রানা খানের উদ্যােগে খাল পরিষ্কার অভিযান শুরু পলাশতলায় পানিবন্দি ২০০ পরিবার পেল বিএনপির খাদ্য সহায়তা দেওয়ানগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার হলেন জেলায় শ্রেষ্ঠ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা গভীর : প্রধানমন্ত্রী এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি থাকলে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে: আন্তঃশিক্ষা বোর্ড

মাদারগঞ্জে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে ১১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়

মাদারগঞ্জ : উত্তর জোরখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যেখানে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ২০১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৬টিতে নেই প্রধান শিক্ষক। একইভাবে ২৯টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ‘ভারপ্রাপ্ত’ দিয়ে।

আর অন্যান্য সহকারী শিক্ষকদের উপর বাড়তি চাপ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে সহকারী শিক্ষকের কাজ। ফলে উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার মান ব্যাপক হারে ব্যাহত হচ্ছে। যদিও সংকট নিরসনে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে শিক্ষকের শূন্য পদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত শূন্য পদে শিক্ষক পদায়ন হয়নি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ২০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৬টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি প্রতিষ্ঠানে মামলা সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদে চলতি দায়িত্ব পালন করছেন ৭৯ জন শিক্ষক।

অভিভাবক আব্দুর রহিম জানান, বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় একজন সহকারী শিক্ষককে ‘ভারপ্রাপ্ত’ প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় শিক্ষাদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক দুর্বলতাসহ বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়াও স্থানীয় অভিভাবক সাইফুল ইসলাম ও রাজু মিয়াসহ আরও বেশ কয়েকজন অভিভাবক একই সমস্যার কথা জানান।

উপজেলার একাধিক সহকারী শিক্ষক জানান, প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দাপ্তরিক ও সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলায় ঘোরাঘুরি করতে হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা এসব কাজ করতে গেলে সহকারী শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম সঠিকভাবে পালন করে না। এতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়। তাছাড়া, অন্য শিক্ষকেরা সমমর্যদার হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ মেনে চলছেন না। ফলে সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি মাদারগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও চরগুজামানিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ শওকত আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। একজন সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের কাজ করতে হয়। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার মানোন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় পাঠদান থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে সব জট নিরসন করে দ্রæত পদোন্নতির ব্যবস্থা নেয়া এবং নতুন শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন প্রয়োজন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন এ প্রতিবেদককে বলেন, অবসর, অন্যত্র বদলি, মৃত্যু ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় প্রধান শিক্ষকের পদগুলো শূন্য রয়েছে। যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে সেসব বিদ্যালয়ের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিডি ক্লিন প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

মাদারগঞ্জে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে ১১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপডেট সময় ০৮:৪১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ২০১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৬টিতে নেই প্রধান শিক্ষক। একইভাবে ২৯টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ‘ভারপ্রাপ্ত’ দিয়ে।

আর অন্যান্য সহকারী শিক্ষকদের উপর বাড়তি চাপ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে সহকারী শিক্ষকের কাজ। ফলে উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার মান ব্যাপক হারে ব্যাহত হচ্ছে। যদিও সংকট নিরসনে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে শিক্ষকের শূন্য পদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত শূন্য পদে শিক্ষক পদায়ন হয়নি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ২০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৬টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি প্রতিষ্ঠানে মামলা সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদে চলতি দায়িত্ব পালন করছেন ৭৯ জন শিক্ষক।

অভিভাবক আব্দুর রহিম জানান, বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় একজন সহকারী শিক্ষককে ‘ভারপ্রাপ্ত’ প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় শিক্ষাদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক দুর্বলতাসহ বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়াও স্থানীয় অভিভাবক সাইফুল ইসলাম ও রাজু মিয়াসহ আরও বেশ কয়েকজন অভিভাবক একই সমস্যার কথা জানান।

উপজেলার একাধিক সহকারী শিক্ষক জানান, প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দাপ্তরিক ও সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলায় ঘোরাঘুরি করতে হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা এসব কাজ করতে গেলে সহকারী শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম সঠিকভাবে পালন করে না। এতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়। তাছাড়া, অন্য শিক্ষকেরা সমমর্যদার হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ মেনে চলছেন না। ফলে সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি মাদারগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও চরগুজামানিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ শওকত আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। একজন সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের কাজ করতে হয়। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার মানোন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় পাঠদান থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে সব জট নিরসন করে দ্রæত পদোন্নতির ব্যবস্থা নেয়া এবং নতুন শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন প্রয়োজন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন এ প্রতিবেদককে বলেন, অবসর, অন্যত্র বদলি, মৃত্যু ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় প্রধান শিক্ষকের পদগুলো শূন্য রয়েছে। যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে সেসব বিদ্যালয়ের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।