ঢাকা ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালপুরে তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস পালিত মানিক সওদাগর বললেন ‘ওটা ছিল ‘স্লিপ অব টাং’ জামালপুরে হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সরকার সর্বোচ্চ পৃষ্ঠপোষকতা দেবে : উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরকার হস্তক্ষেপ করে না : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ধূমকেতু রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা : একটি ঐতিহাসিক বয়ান দেওয়ানগঞ্জে ভারতীয় মদসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত চলছে : সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল মাদারগঞ্জে ১০৭৫ মিটার নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস জামালপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন
মাত্র ছয়জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে

দেওয়ানগঞ্জ : ৫০ শয্যা বিশিষ্ট দেওয়ানগঞ্জ হাসপতালে রোগীদের ভিড়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (হাসপাতাল) মাত্র ছয়জন চিকিৎসক দিয়া চলছে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। চিকিৎসক সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি এই হাসপতাল ব্যতীত এ উপজেলায় ভাল কোন প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্র বা হাসপাতাল নেই। রোগীরা তাই চিকিৎসা সেবায় এই সরকারি হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল।

অন্যদিকে জেলা সদর থেকে এ উপজেলার দূরত্ব বেশি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে এ হাসপাতালে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চাপ থাকে কয়েকগুণ। চিকিৎসক সংকটের কারণে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, দেওয়ানগঞ্জ হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে ২০১০ সালে। ৫০ শয্যা হিসাবে এ হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা, চিকিৎসা কর্মকর্তা, সহকারী সার্জন, কনিষ্ঠ বিশেষজ্ঞ মিলে ২৯ জন চিকিৎসকের পদায়ন রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক রয়েছেন (এ্যানেসথেসিয়া ও অর্থপেডিক কনসালটেনটসহ) ছয়জন। পদ থাকলেও ২৩ জন চিকিৎসকের পদ দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ১০ জন কনিষ্ঠ বিশষেজ্ঞের পদায়ন থাকলেও হাসপাতালে শুধুমাত্র অ্যানেসথেসিয়া ও অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। গাইনি, মিডিসিন, চক্ষু, হৃদরোগ, নাক-কান-গলা, চর্ম ও যৌন, সার্জারি, ফিজিওলজি বিভাগে কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। অন্যদিকে দু’জন চিকিৎসা কর্মকর্তার পদায়ন থাকলেও দুটি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা নেই। সহকারী সার্জন ১৩ জন পদায়ন রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে এ হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন মাত্র চারজন, আটটি সহকারী সার্জনের পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

হাসপাতালটিতে প্রতিদিন ২৯ জন চিকিৎসকের কাজ মাত্র ছয়জন চিকিৎসককে করতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। তাদের অনেককে এ হাসপাতালে এসে প্রয়োজনীয় বিভাগের চিকিৎসক না পেয়ে ফেরত যেতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য তাদেরকে দৌঁড়াতে হচ্ছে জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে। এতে তাদের অর্থ ও সময় ব্যয়সহ পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, এ হাসপাতালে প্রতিদিন গাইনি বিভাগে প্রচুর নারী রোগীরা আসেন। গাইনি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় বিপুল সংখ্যক রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলার অন্যান্য হাসপাতাল থেকে গাইনি চিকিৎসক ধার করে আনা হচ্ছে মাঝে মধ্যে। এতে করেও রোগীদের চাহিদা মিটছে না।

দেওয়ানগঞ্জ : ৫০ শয্যা বিশিষ্ট দেওয়ানগঞ্জ হাসপতালের বহির্বিভাগে রোগীদের ভিড়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

বাহাদুরাবাদ কান্দির গ্রামের রোগী হারুন অর রশিদ বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে আমার কান ও গলার সমস্যায় ভুগছি। দেওয়ানগঞ্জ হাসাপাতালে এসে নাক-কান-গলা বিভাগের চিকিৎসক না থাকায় আমাকে চিকিৎসার জন্য জামালপুর সদরে ছুটতে হচ্ছে। আমি গরিব মানুষ। চিকিৎক খরচ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যয়, যাতায়াত ব্যয় ও ওষুধ কেনার অর্থ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দেওয়ানগঞ্জ হাসপাতালে নাক-কান-গলা বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকলে আমাদের মত গরিব মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজসাধ্য ও সুলভ হত।

তারাটিয়ার মো. বাবলু মিয়া জানান, তারাটিয়াতে একটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের পদায়ন থাকলেও কোন চিকিৎসক বসেন না। এখানকার রোগীদের সাধারণ রোগে প্রতিদিন বিশ কিলোমিটার পাড়ি নিয়ে ছুটতে হচ্ছে উপজেলা সদরের হাসপাতালে। কিন্তু উপজেলার একমাত্র হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটে তারা পাচ্ছেন না প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা। ফলে অধিক সময়, অর্থ ব্যয় করে ভোগান্তি নিয়ে তাদেরকে ছুটতে হচ্ছে জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে।

বাঘারচর গ্রামের মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ২৩ এপ্রিল বুধবার আমি চর্ম রোগের চিকিৎসার জন্য ত্রিশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দেওয়ানগঞ্জ হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখারে গিয়ে চর্ম রোগের কোন চিকিৎসক না পেয়ে বাধ্য হয়ে আমাকে ফেরত আসতে হয়েছে। পরবর্তীতে আমি জামালপুর গিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চর্ম রোগের চিকিৎসক দেখিয়ে ওষুধ খাচ্ছি। আমার মত অনেককে বিভিন্ন রোগে উপজেলা হাসপাতারে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চিকিৎসক না পেয়ে ফেরত আসতে হচ্ছে।

কাজলাপাড়া গ্রামের মো. বাবুল মিয়া বলেন, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলাটি অনেক বড় এবং উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত। এ উপজেলায় চিকিৎসা কেন্দ্র বলতে ওই একটি মাত্র হাসপাতাল রয়েছে। সে কারণে প্রতিদিনই এ হাসপাতালে রোগীদের চাপ থাকে। চিকিৎসক সংকটের কারণে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রতিদিন পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক আহসান হাবীব এ প্রতিবেদককে বলেন, দেওয়ানগঞ্জ হাসপাতালটিতে প্রতিদিন রোগীদের চাপ থাকে। কিন্তু চিকিৎসক সংকটের কারণে ২৯ জন চিকিৎসকের কাজ এ্যানেসথেসিয়া ও অর্থপেডিক কনসালটেনটসহ মাত্র ছয়জন চিকিৎসককে করতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসকদের উপর যেমন বেড়েছে চাপ, অন্যদিকে ভোগীদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। পদ থাকলেও এ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ও বিষয়ভিত্তিক চিকিৎসক নেই। অথচ এই হাসপাতাল চিকিৎসা সামগ্রী, অ্যাম্বুলেন্স, রোগ শনাক্তকরণ যন্ত্র রয়েছে। পদ অনুযায়ী চিকিৎসক থাকলে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করা যেত।

জামালপুরে তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস পালিত

মাত্র ছয়জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে

আপডেট সময় ০২:০৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (হাসপাতাল) মাত্র ছয়জন চিকিৎসক দিয়া চলছে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। চিকিৎসক সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি এই হাসপতাল ব্যতীত এ উপজেলায় ভাল কোন প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্র বা হাসপাতাল নেই। রোগীরা তাই চিকিৎসা সেবায় এই সরকারি হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল।

অন্যদিকে জেলা সদর থেকে এ উপজেলার দূরত্ব বেশি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে এ হাসপাতালে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চাপ থাকে কয়েকগুণ। চিকিৎসক সংকটের কারণে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, দেওয়ানগঞ্জ হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে ২০১০ সালে। ৫০ শয্যা হিসাবে এ হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা, চিকিৎসা কর্মকর্তা, সহকারী সার্জন, কনিষ্ঠ বিশেষজ্ঞ মিলে ২৯ জন চিকিৎসকের পদায়ন রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক রয়েছেন (এ্যানেসথেসিয়া ও অর্থপেডিক কনসালটেনটসহ) ছয়জন। পদ থাকলেও ২৩ জন চিকিৎসকের পদ দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ১০ জন কনিষ্ঠ বিশষেজ্ঞের পদায়ন থাকলেও হাসপাতালে শুধুমাত্র অ্যানেসথেসিয়া ও অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। গাইনি, মিডিসিন, চক্ষু, হৃদরোগ, নাক-কান-গলা, চর্ম ও যৌন, সার্জারি, ফিজিওলজি বিভাগে কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। অন্যদিকে দু’জন চিকিৎসা কর্মকর্তার পদায়ন থাকলেও দুটি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা নেই। সহকারী সার্জন ১৩ জন পদায়ন রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে এ হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন মাত্র চারজন, আটটি সহকারী সার্জনের পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

হাসপাতালটিতে প্রতিদিন ২৯ জন চিকিৎসকের কাজ মাত্র ছয়জন চিকিৎসককে করতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। তাদের অনেককে এ হাসপাতালে এসে প্রয়োজনীয় বিভাগের চিকিৎসক না পেয়ে ফেরত যেতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য তাদেরকে দৌঁড়াতে হচ্ছে জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে। এতে তাদের অর্থ ও সময় ব্যয়সহ পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, এ হাসপাতালে প্রতিদিন গাইনি বিভাগে প্রচুর নারী রোগীরা আসেন। গাইনি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় বিপুল সংখ্যক রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলার অন্যান্য হাসপাতাল থেকে গাইনি চিকিৎসক ধার করে আনা হচ্ছে মাঝে মধ্যে। এতে করেও রোগীদের চাহিদা মিটছে না।

দেওয়ানগঞ্জ : ৫০ শয্যা বিশিষ্ট দেওয়ানগঞ্জ হাসপতালের বহির্বিভাগে রোগীদের ভিড়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

বাহাদুরাবাদ কান্দির গ্রামের রোগী হারুন অর রশিদ বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে আমার কান ও গলার সমস্যায় ভুগছি। দেওয়ানগঞ্জ হাসাপাতালে এসে নাক-কান-গলা বিভাগের চিকিৎসক না থাকায় আমাকে চিকিৎসার জন্য জামালপুর সদরে ছুটতে হচ্ছে। আমি গরিব মানুষ। চিকিৎক খরচ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যয়, যাতায়াত ব্যয় ও ওষুধ কেনার অর্থ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দেওয়ানগঞ্জ হাসপাতালে নাক-কান-গলা বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকলে আমাদের মত গরিব মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজসাধ্য ও সুলভ হত।

তারাটিয়ার মো. বাবলু মিয়া জানান, তারাটিয়াতে একটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের পদায়ন থাকলেও কোন চিকিৎসক বসেন না। এখানকার রোগীদের সাধারণ রোগে প্রতিদিন বিশ কিলোমিটার পাড়ি নিয়ে ছুটতে হচ্ছে উপজেলা সদরের হাসপাতালে। কিন্তু উপজেলার একমাত্র হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটে তারা পাচ্ছেন না প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা। ফলে অধিক সময়, অর্থ ব্যয় করে ভোগান্তি নিয়ে তাদেরকে ছুটতে হচ্ছে জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে।

বাঘারচর গ্রামের মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ২৩ এপ্রিল বুধবার আমি চর্ম রোগের চিকিৎসার জন্য ত্রিশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দেওয়ানগঞ্জ হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখারে গিয়ে চর্ম রোগের কোন চিকিৎসক না পেয়ে বাধ্য হয়ে আমাকে ফেরত আসতে হয়েছে। পরবর্তীতে আমি জামালপুর গিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চর্ম রোগের চিকিৎসক দেখিয়ে ওষুধ খাচ্ছি। আমার মত অনেককে বিভিন্ন রোগে উপজেলা হাসপাতারে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চিকিৎসক না পেয়ে ফেরত আসতে হচ্ছে।

কাজলাপাড়া গ্রামের মো. বাবুল মিয়া বলেন, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলাটি অনেক বড় এবং উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত। এ উপজেলায় চিকিৎসা কেন্দ্র বলতে ওই একটি মাত্র হাসপাতাল রয়েছে। সে কারণে প্রতিদিনই এ হাসপাতালে রোগীদের চাপ থাকে। চিকিৎসক সংকটের কারণে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রতিদিন পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক আহসান হাবীব এ প্রতিবেদককে বলেন, দেওয়ানগঞ্জ হাসপাতালটিতে প্রতিদিন রোগীদের চাপ থাকে। কিন্তু চিকিৎসক সংকটের কারণে ২৯ জন চিকিৎসকের কাজ এ্যানেসথেসিয়া ও অর্থপেডিক কনসালটেনটসহ মাত্র ছয়জন চিকিৎসককে করতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসকদের উপর যেমন বেড়েছে চাপ, অন্যদিকে ভোগীদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। পদ থাকলেও এ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ও বিষয়ভিত্তিক চিকিৎসক নেই। অথচ এই হাসপাতাল চিকিৎসা সামগ্রী, অ্যাম্বুলেন্স, রোগ শনাক্তকরণ যন্ত্র রয়েছে। পদ অনুযায়ী চিকিৎসক থাকলে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করা যেত।