ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরিষাবাড়ীতে শাপলা ফুল তুলতে গিয়ে বিলের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু জামালপুরে উন্নয়ন সংঘ সিডস প্রকল্পের উদ্যোগে বাল্যবিয়ে বন্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত সরকারি দপ্তরে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ মাদারগঞ্জের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে জামালপুরে জেন্ডার সহিংসতা রোধে কার্যদলের সভা অনুষ্ঠিত বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা বিজ্ঞানীদের মৌলিক গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে হবে : কৃষিমন্ত্রী অটোরিকশাচালক নায়েব হত্যার ঘটনায় ৬ জন গ্রেপ্তার মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ইসলামপুরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রফিকুল ইসলাম গাদু হত্যা মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জামালপুরে রফিকুল ইসলাম গাদু হত্যা মামলায় দুইজন আসামির বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। বাকি ১০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেওয়া হয়।

৯ এপ্রিল বুধবার দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক মো. আবু বকর সিদ্দিক এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামি লেবু মিয়া ও মজনু মিয়াকে হত্যা ও অপহরণে জড়িত থাকার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং মরদেহ গুমের ঘটনায় সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া তাদেরকে আর্থিক জরিমানা করা হয়।

মামলাটির রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ. কে. এম নাজমুল হুদা জানান, ১৯৯৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর রাতে জামালপুর সদরের হাসিল গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম গাদু নিজের বাড়ির পাশের পুকুর পাহারা দিতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। রাত পার হলেও তার কোন খোঁজ না পেয়ে পরদিন সকালে স্ত্রী লাইলী বেগম খোঁজ করতে গিয়ে দেখতে পান, পুকুর পাড়ের ছাপরা ঘরের বিছানা এলোমেলো। ঘরের ভেতরে ধস্তাধস্তির চিহ্ন রয়েছে এবং একটি গামছা পড়ে আছে। পরে সেটি স্থানীয় লেবু মিয়ার বলে শনাক্ত করেন প্রতিবেশীরা। নিখোঁজের পাঁচদিন পর ১৯৯৮ সালের ২৮ ডিসেম্বরে এক প্রতিবেশীর বাড়ির টয়লেটের সেফটি ট্যাংকের ভেতর থেকে রফিকুল ইসলাম গাদুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলায় একটি মাফলার প্যাঁচানো ছিল। পরবর্তীতে মাফলারটি মজনু মিয়ার বলে শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পরদিন নিহতের স্ত্রী লাইলী বেগম জামালপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হলেও পুলিশি তদন্ত শেষে ২০০০ সালের ৬ জুন লেবু মিয়াসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলায় ১৯ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এই রায় দেন বিচারক।

রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ২৬ বছর পর এই রায়ে সন্তুষ্টি জানিয়েছের বাদী পক্ষ।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরিষাবাড়ীতে শাপলা ফুল তুলতে গিয়ে বিলের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

রফিকুল ইসলাম গাদু হত্যা মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০৮:৪৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫

জামালপুরে রফিকুল ইসলাম গাদু হত্যা মামলায় দুইজন আসামির বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। বাকি ১০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেওয়া হয়।

৯ এপ্রিল বুধবার দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক মো. আবু বকর সিদ্দিক এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামি লেবু মিয়া ও মজনু মিয়াকে হত্যা ও অপহরণে জড়িত থাকার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং মরদেহ গুমের ঘটনায় সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া তাদেরকে আর্থিক জরিমানা করা হয়।

মামলাটির রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ. কে. এম নাজমুল হুদা জানান, ১৯৯৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর রাতে জামালপুর সদরের হাসিল গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম গাদু নিজের বাড়ির পাশের পুকুর পাহারা দিতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। রাত পার হলেও তার কোন খোঁজ না পেয়ে পরদিন সকালে স্ত্রী লাইলী বেগম খোঁজ করতে গিয়ে দেখতে পান, পুকুর পাড়ের ছাপরা ঘরের বিছানা এলোমেলো। ঘরের ভেতরে ধস্তাধস্তির চিহ্ন রয়েছে এবং একটি গামছা পড়ে আছে। পরে সেটি স্থানীয় লেবু মিয়ার বলে শনাক্ত করেন প্রতিবেশীরা। নিখোঁজের পাঁচদিন পর ১৯৯৮ সালের ২৮ ডিসেম্বরে এক প্রতিবেশীর বাড়ির টয়লেটের সেফটি ট্যাংকের ভেতর থেকে রফিকুল ইসলাম গাদুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলায় একটি মাফলার প্যাঁচানো ছিল। পরবর্তীতে মাফলারটি মজনু মিয়ার বলে শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পরদিন নিহতের স্ত্রী লাইলী বেগম জামালপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হলেও পুলিশি তদন্ত শেষে ২০০০ সালের ৬ জুন লেবু মিয়াসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলায় ১৯ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এই রায় দেন বিচারক।

রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ২৬ বছর পর এই রায়ে সন্তুষ্টি জানিয়েছের বাদী পক্ষ।