ঢাকা ০২:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরিষাবাড়ীতে শাপলা ফুল তুলতে গিয়ে বিলের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু জামালপুরে উন্নয়ন সংঘ সিডস প্রকল্পের উদ্যোগে বাল্যবিয়ে বন্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত সরকারি দপ্তরে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ মাদারগঞ্জের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে জামালপুরে জেন্ডার সহিংসতা রোধে কার্যদলের সভা অনুষ্ঠিত বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা বিজ্ঞানীদের মৌলিক গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে হবে : কৃষিমন্ত্রী অটোরিকশাচালক নায়েব হত্যার ঘটনায় ৬ জন গ্রেপ্তার মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ইসলামপুরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রেলওয়ে ওভারপাসের জন্য উচ্ছেদ, ক্ষতিপূরণ চায় ব্যবসায়ীরা

জামালপুর : ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরে রেলওয়ের লিজ নেয়া জমিতে থাকা ৪৪টি দোকান ভেঙে দিয়ে জামালপুর রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ করায় ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। ক্ষতিপূরণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন তারা। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইফতেখার ইউনুস।

৯ এপ্রিল বুধবার সকালে শহরের ফৌজদারি মোড়ে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। পরে তারা জেলা প্রশাসক হাছিনা বেগমের কাছে স্মারকলিপি দেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন গেইটপাড় এলাকার ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিরল ইসলাম, মোখলেছুর রহমান সোহেল, রুহুল আমিন রাজা, মনিরুল ইসলাম মনি, লিখন, ফরহাদ হাসান, ফরিদ হোসেন, আবুল কালাম, কামরুজ্জামান নয়ন, আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা জানান, জামালপুর পৌরসভার গেইটপাড়ে রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ করা হয়। এতে রেলওয়ের অংশের কিছু জমি (০৪/২০১৭-২০১৮ নং এল.এ কেস মূলে) স্থানীয় ৪৪ জন মালিকের লিজ নেয়া। তারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে দোকানপাট তুলে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। ওই ওভারপাস ব্রিজ ও সড়কের কিছু অংশের জমি বাংলাদেশ রেলওয়ে মালিকাধীন। এই জমিতে রেলওয়ে কৃর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে (১৪১৪১, ১৪০০৩, ১৪০০৮, ১৪০০৬ এবং ১৪০০৭ নং দাগে মোট ০.৩০০০ একর) ব্রিজ ও সড়ক নিমার্ণ করা হয়।

জামালপুর : স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইফতেখার ইউনুস। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

তারা আরও জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকাধীন বর্ণিত দাগগুলোতে আমাদের ৪৪টি পরিবার ৯৯ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে লিজ নিয়ে ৪৪টি দোকান ঘর নিমার্ণ করে দীর্ঘদিন যাবত ব্যবসাবাণিজ্য পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। যার বাণিজ্যিক লিজকৃত প্লট নং- ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৬/এ, ৪৬, ৫৬, ৫৭, ৪৯, ৫৮, ৫১, ৫৯, ১৫১, ১৫০, ১১৭/এ, ১৫২, ১১১ ভাড়াটিয়া ও মালিকেরা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এমপি মির্জা আজম, জামালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. ছানোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিজন কুমার চন্দ ও পৌর কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিনের সরাসরি মদদে ও ক্ষমতাবলে সড়ক ও জনপথের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাদ্দাম হোসেন, সার্ভেয়ার মো. ফরহাদ হোসেন, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার তৎকালীন কর্মরত সার্ভেয়ার মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. জহুরুল হক, মালেক মিয়া ও ইসমাইলের পরামর্শে বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্ণিত দাগগুলো বেআইনিভাবে অধিগ্রহণের আওতায় আনা হয়নি। উল্টো বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে প্রায় দুই কিলোমিটার বাইপাস সড়ক ও ওভারপাস ব্রিজ নির্মাণ করা হয়।

বক্তারা বলেন, তারা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে দোকান ঘর ভেঙে নিয়ে যেতে বলেন। পরবর্তীতে আপনাদের ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হবে। তবুও আমরা নোটিশ না পাওয়া পর্যন্ত দোকান ঘরগুলো ভেঙে নেই নাই।

কয়েকদিন পর রাতের অন্ধকারে মির্জা আজম এমপির সরাসরি মদদে আমাদের ৪৪টি দোকান ঘর ভেঙে দোকানের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। এতে পরিবারগুলো নিঃস্ব, অসহায় ও সম্বলহীন হয়ে পড়ে। তখন হতে আমরা এখন পর্যন্ত আমরা সন্তানাদিসহ মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমরা পূর্ববর্তী ও বর্তমান জেলা প্রশাসক বরাবর ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার জন্য লিখিত ও মৌখিকভাবে বারবার আবেদন করি। কিন্তু আজও ন্যায্য ও আইনসঙ্গত সুরাহা পাইনি।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে তাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরিষাবাড়ীতে শাপলা ফুল তুলতে গিয়ে বিলের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

রেলওয়ে ওভারপাসের জন্য উচ্ছেদ, ক্ষতিপূরণ চায় ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় ০৯:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫

জামালপুরে রেলওয়ের লিজ নেয়া জমিতে থাকা ৪৪টি দোকান ভেঙে দিয়ে জামালপুর রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ করায় ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। ক্ষতিপূরণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন তারা। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইফতেখার ইউনুস।

৯ এপ্রিল বুধবার সকালে শহরের ফৌজদারি মোড়ে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। পরে তারা জেলা প্রশাসক হাছিনা বেগমের কাছে স্মারকলিপি দেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন গেইটপাড় এলাকার ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিরল ইসলাম, মোখলেছুর রহমান সোহেল, রুহুল আমিন রাজা, মনিরুল ইসলাম মনি, লিখন, ফরহাদ হাসান, ফরিদ হোসেন, আবুল কালাম, কামরুজ্জামান নয়ন, আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা জানান, জামালপুর পৌরসভার গেইটপাড়ে রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ করা হয়। এতে রেলওয়ের অংশের কিছু জমি (০৪/২০১৭-২০১৮ নং এল.এ কেস মূলে) স্থানীয় ৪৪ জন মালিকের লিজ নেয়া। তারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে দোকানপাট তুলে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। ওই ওভারপাস ব্রিজ ও সড়কের কিছু অংশের জমি বাংলাদেশ রেলওয়ে মালিকাধীন। এই জমিতে রেলওয়ে কৃর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে (১৪১৪১, ১৪০০৩, ১৪০০৮, ১৪০০৬ এবং ১৪০০৭ নং দাগে মোট ০.৩০০০ একর) ব্রিজ ও সড়ক নিমার্ণ করা হয়।

জামালপুর : স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইফতেখার ইউনুস। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

তারা আরও জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকাধীন বর্ণিত দাগগুলোতে আমাদের ৪৪টি পরিবার ৯৯ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে লিজ নিয়ে ৪৪টি দোকান ঘর নিমার্ণ করে দীর্ঘদিন যাবত ব্যবসাবাণিজ্য পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। যার বাণিজ্যিক লিজকৃত প্লট নং- ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৬/এ, ৪৬, ৫৬, ৫৭, ৪৯, ৫৮, ৫১, ৫৯, ১৫১, ১৫০, ১১৭/এ, ১৫২, ১১১ ভাড়াটিয়া ও মালিকেরা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এমপি মির্জা আজম, জামালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. ছানোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিজন কুমার চন্দ ও পৌর কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিনের সরাসরি মদদে ও ক্ষমতাবলে সড়ক ও জনপথের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাদ্দাম হোসেন, সার্ভেয়ার মো. ফরহাদ হোসেন, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার তৎকালীন কর্মরত সার্ভেয়ার মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. জহুরুল হক, মালেক মিয়া ও ইসমাইলের পরামর্শে বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্ণিত দাগগুলো বেআইনিভাবে অধিগ্রহণের আওতায় আনা হয়নি। উল্টো বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে প্রায় দুই কিলোমিটার বাইপাস সড়ক ও ওভারপাস ব্রিজ নির্মাণ করা হয়।

বক্তারা বলেন, তারা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে দোকান ঘর ভেঙে নিয়ে যেতে বলেন। পরবর্তীতে আপনাদের ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হবে। তবুও আমরা নোটিশ না পাওয়া পর্যন্ত দোকান ঘরগুলো ভেঙে নেই নাই।

কয়েকদিন পর রাতের অন্ধকারে মির্জা আজম এমপির সরাসরি মদদে আমাদের ৪৪টি দোকান ঘর ভেঙে দোকানের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। এতে পরিবারগুলো নিঃস্ব, অসহায় ও সম্বলহীন হয়ে পড়ে। তখন হতে আমরা এখন পর্যন্ত আমরা সন্তানাদিসহ মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমরা পূর্ববর্তী ও বর্তমান জেলা প্রশাসক বরাবর ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার জন্য লিখিত ও মৌখিকভাবে বারবার আবেদন করি। কিন্তু আজও ন্যায্য ও আইনসঙ্গত সুরাহা পাইনি।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে তাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান।