ঢাকা ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নদী দূষণ রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই : প্রধানমন্ত্রী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে কোনো ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না জামালপুরে এপির উদ্যোগে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার খাবার খাওয়ালেন আব্দুস সামাদ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য : প্রধানমন্ত্রী মুর্শিদাবাদে তরুণীর অভিযোগ : গ্রেপ্তার জামালপুরের যুবক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস : বিএনপিনেতা ফিরোজ মিয়ার উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস : জামালপুরে ১১ দলের গণমিছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস : জামালপুরে বিজয় মিছিল সমাবেশ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে এক ছিলাম, এখনও এক থাকতে হবে : শামীম তালুকদার

পরমাণু ইস্যুতে সংলাপকে একমাত্র বিকল্প হিসেবে দেখছে চীন-রাশিয়া-ইরান

ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে ১৪ মার্চ শুক্রবার বেইজিংয়ে চীন, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে যোগাযোগ জোরদার ও পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা পুনরায় শুরু করার পথ প্রশস্ত করার প্রস্তাব এসেছে।

বেইজিং থেকে বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এ খবর জানায়।

বেইজিংয়ের বৈঠকে চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মা ঝাওক্সু সভাপতিত্ব করেন। এতে রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াবকভ সের্গেই আলেক্সিভিচ ও ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি অংশ করেন।

বৈঠকের পর যৌথ এক বিবৃতিতে দেশ তিনটি জানিয়েছে, তারা সমস্ত বেআইনি একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তারা পারস্পরিক শ্রদ্ধার নীতির ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং সংলাপই একমাত্র কার্যকর ও বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বৈঠকে ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি কেবল শান্তির উদ্দেশ্যে, পরমাণু অস্ত্র উন্নয়নের জন্য নয়। চীন ও রাশিয়া ইরানের এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে।

চীন ও রাশিয়া পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) ও ব্যাপক সুরক্ষা চুক্তির অধীনে তার বাধ্যবাধকতাগুলো সম্পূর্ণরূপে মেনে চলতে ইরানের প্রতিশ্রুতিকেও স্বাগত জানায়। তারা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে ইরানের নীতিকে সমর্থন করেছে এবং এপিটির রাষ্ট্রপক্ষ হিসেবে ইরানের পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের অধিকারকে সম্পূর্ণরূপে সম্মান করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রাশিয়া ও ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওয়াং নতুন ঐকমত্যের ভিত্তি হিসেবে জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন (জেসিপিওএ) এর কাঠামোর প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার প্রস্তাব করেছেন।

ওয়াং বলেন, ‘চীন আশা করে, সব পক্ষ একই দিকে কাজ করবে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সংলাপ ও আলোচনা পুনরায় শুরু করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আন্তরিকতা প্রদর্শন করা উচিত এবং দ্রুততম সময়ে আলোচনায় ফিরে আসা উচিত।’

তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে হস্তক্ষেপের জন্য চাপ দেওয়ার বিরোধিতা করেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ আস্থা তৈরি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দূর করতে সাহায্য করবে না। স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া শুরু করলে বছরের পর বছর ধরে চলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে এবং সতর্কতার সঙ্গে এটি মোকাবেলা করতে হবে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, ইরানের পরমাণু সমস্যার নিষ্পত্তি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে বেইজিং বৈঠক চীন, রাশিয়া ও ইরানের একটি কার্যকর প্রচেষ্টা ছিল।

তিনি আরও বলেন, ইরানের পরমাণু সমস্যার ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থাকে সমুন্নত রাখতে এবং আন্তর্জাতিক-আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে চীন অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

জনপ্রিয় সংবাদ

নদী দূষণ রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই : প্রধানমন্ত্রী

পরমাণু ইস্যুতে সংলাপকে একমাত্র বিকল্প হিসেবে দেখছে চীন-রাশিয়া-ইরান

আপডেট সময় ০৯:০৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫

ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে ১৪ মার্চ শুক্রবার বেইজিংয়ে চীন, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে যোগাযোগ জোরদার ও পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা পুনরায় শুরু করার পথ প্রশস্ত করার প্রস্তাব এসেছে।

বেইজিং থেকে বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এ খবর জানায়।

বেইজিংয়ের বৈঠকে চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মা ঝাওক্সু সভাপতিত্ব করেন। এতে রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াবকভ সের্গেই আলেক্সিভিচ ও ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি অংশ করেন।

বৈঠকের পর যৌথ এক বিবৃতিতে দেশ তিনটি জানিয়েছে, তারা সমস্ত বেআইনি একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তারা পারস্পরিক শ্রদ্ধার নীতির ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং সংলাপই একমাত্র কার্যকর ও বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বৈঠকে ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি কেবল শান্তির উদ্দেশ্যে, পরমাণু অস্ত্র উন্নয়নের জন্য নয়। চীন ও রাশিয়া ইরানের এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে।

চীন ও রাশিয়া পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) ও ব্যাপক সুরক্ষা চুক্তির অধীনে তার বাধ্যবাধকতাগুলো সম্পূর্ণরূপে মেনে চলতে ইরানের প্রতিশ্রুতিকেও স্বাগত জানায়। তারা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে ইরানের নীতিকে সমর্থন করেছে এবং এপিটির রাষ্ট্রপক্ষ হিসেবে ইরানের পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের অধিকারকে সম্পূর্ণরূপে সম্মান করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রাশিয়া ও ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওয়াং নতুন ঐকমত্যের ভিত্তি হিসেবে জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন (জেসিপিওএ) এর কাঠামোর প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার প্রস্তাব করেছেন।

ওয়াং বলেন, ‘চীন আশা করে, সব পক্ষ একই দিকে কাজ করবে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সংলাপ ও আলোচনা পুনরায় শুরু করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আন্তরিকতা প্রদর্শন করা উচিত এবং দ্রুততম সময়ে আলোচনায় ফিরে আসা উচিত।’

তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে হস্তক্ষেপের জন্য চাপ দেওয়ার বিরোধিতা করেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ আস্থা তৈরি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দূর করতে সাহায্য করবে না। স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া শুরু করলে বছরের পর বছর ধরে চলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে এবং সতর্কতার সঙ্গে এটি মোকাবেলা করতে হবে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, ইরানের পরমাণু সমস্যার নিষ্পত্তি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে বেইজিং বৈঠক চীন, রাশিয়া ও ইরানের একটি কার্যকর প্রচেষ্টা ছিল।

তিনি আরও বলেন, ইরানের পরমাণু সমস্যার ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থাকে সমুন্নত রাখতে এবং আন্তর্জাতিক-আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে চীন অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।