বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলসমূহকে লাভজনক ও যুগোপযোগী করতে চিনি শিল্পের কৃষি বিভাগকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে দেওয়ানগঞ্জ জিল বাংলা সুগার মিলের কৃষি বিভাগ মিলের প্রধান ফটকে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ চিনি শিল্প করপোরেশন শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রায়হানুল হক বলেন, ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির ২৭ নম্বর আদেশবলে বাংলাদেশ চিনিকল করপোরেশন গঠিত হয়। পরে ১ জুলাই ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ চিনিকল করপোরেশন ও বাংলাদেশ ফুড এন্ড অ্যালাইড ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনকে একীভূত করে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন গঠন করা হয়। এর অধীনে ১৫টি রাষ্ট্রায়ত্ব চিনিকল পরিচালিত হতো। কিন্তু বিগত সরকার লোকসানের অযুহাতে ডিসেম্বর ২০২০ সালে ৬ চিনিকল বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে যেসব চিনিকল চালু আছে, তাতেও সরকারের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা যথার্থ নয়।
তিনি আরও বলেন, চিনিশিল্পে প্রায় ১৬ হাজার শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তার কর্মসংস্থান হয়েছে। আখচাষের ওপর নির্ভর দেশের উত্তর ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় পাঁচ লাখ চাষী এবং এর সাথে ৫০ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। আখ একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল এবং চিনি ও গুড় তৈরির প্রধান কাঁচামাল। কৃষি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, সৃষ্টি, অবকাঠামো, শিক্ষা ও সংস্কৃতিক উন্নয়ন পরিবেশ সুরক্ষা, পুষ্টি চাহিদা পূরণ, শিশু খাদ্য ও মেডিসিন তৈরিতে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে আখের অবদান অনস্বীকার্য।

মানববন্ধন। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম
তিনি বলেন, আখ একমাত্র ফসল যা কৃষক সরাসরি সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষিভিত্তিক শিল্পে সরবরাহ করতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ কৃষিক্ষেত্রে ও আখ উৎপাদনে, চিনিশিল্পের কৃষি বিভাগ সরাসরি মাঠপর্যায়ে কাজ করে থাকে। উৎপাদন ফলন বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণে আমরা কৃষিবিভাগ কৃষি ও কৃষকের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কৃষি বিভাগে অনেক কৃষিবিদ, ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ও বিজ্ঞান বিভাগ হতে জনবল সরাসরি কৃষকের সাথে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে আখ উৎপাদন করেন। একই সাথে আখের সাথে সাথীফসল হিসেবে আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, মসুর, মুগ, মাসকালাই, মরিচ, সরিষা, ভুট্টাসহ আরও বিভিন্ন রকমের শাকসবজি উৎপাদনে জড়িত ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করে থাকি। আমরা বাংলার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে মাঠ পর্যায়ে কাজ করি বিধায় চিনিকলগুলো এখনো টিকে আছে। তাই চিনি শিল্পের কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন চিনি কলের কৃষি বিভাগকে রাজস্ব খাতে নেয়ার কমিটির সমন্বয়ক মো. শরিফুল ইসলাম। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জিল বাংলা সুগার মিলের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আলাউদ্দিন, জিল বাংলা চিনি কল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুলতান মিয়া, মফিজুল ইসলাম মুকুল, সিডিএ আবুল কাসেম, সিআইসি বেলাল হোসেন, সিডিএ উজ্জল কুমার প্রমুখ।
বিল্লাল হোসেন মন্ডল : নিজস্ব প্রতিবেদক, দেওয়ানগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম 









