ঢাকা ০৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলের আশ্বাস দিল ইরান জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, ‘প্যানিক বায়িং’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার সাংবাদিক প্রবেশে কেন্দ্র সচিবের নিষেধাজ্ঞা মাদারগঞ্জে যমুনার বালুর চরে ফিরেছে সবুজ প্রাণ মাদকাসক্ত ছেলেকে ধরিয়ে দিলেন মা, হল ছয় মাসের জেল জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকারি গুদামে ১৭.৭১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া : তথ্যমন্ত্রী অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি উন্মোচন

মিয়ানমারের জঙ্গি অনুপ্রবেশের খবরে ভারতের মণিপুরে সতর্কতা

যুদ্ধ-বিধ্বস্ত মিয়ানমার থেকে নয়শ’ সন্দেহভাজন জঙ্গি অশান্ত মণিপুর রাজ্যে প্রবেশ করেছে এমন খবর পেয়ে ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে নয়াদিল্লি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু মৈতৈ এবং প্রধানত খ্রিস্টান কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পর্যায়ক্রমিক সংঘর্ষের জেরে মণিপুর রাজ্য জাতিগত ছিটমহলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

পাহাড়ে বসবাসকারী কুকিদের মিয়ানমারের উপজাতি জনগোষ্ঠীর সাথে সাংস্কৃতিক, পারিবারিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক রয়েছে। ২০২১ সালে সামরিক বাহিনী মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করার পর থেকে কয়েক ডজন সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের সাথে লড়াই করছে।

মণিপুর সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা কুলদীপ সিং শুক্রবার নিশ্চিত করেছেন যে, কর্তৃপক্ষ স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে সম্ভাব্য জঙ্গি পারাপারের খবর পায়।

নয়শ’ লোক আসার খবরের পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্ত চৌকিগুলোকে ‘সতর্ক’ রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী ওই প্রত্যন্ত ও পার্বত্য এলাকায় চিরুনি অভিযান চালাবে।

সিং বলেন, স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অনুপ্রবেশকারীরা কুকি জঙ্গিদের কাছ থেকে জঙ্গল যুদ্ধে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং তারা অস্ত্রবাহী ড্রোন বহন করে। দেশে উড়–ক্কু ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধ রয়েছে।

কয়েক মাস অপেক্ষাকৃত শান্ত থাকার পর এ মাসে মণিপুরের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রকেট হামলা ও ড্রোন থেকে বোমা ফেলার মাধ্যমে নতুন করে লড়াই শুরু হয়। এতে কমপক্ষে ১১ জন নিহত হয়।

সর্বশেষ হামলার জন্য কুকি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গত সপ্তাহে মৈতৈ বিক্ষোভকারীরা রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলের মধ্য দিয়ে মিছিল করেছে।

মৈতৈ ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জমি ও সরকারি চাকরির প্রতিযোগিতা ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে লড়াইয়ের কারণে প্রায় ৬০ হাজার লোক তাদের বাড়িঘর ছেড়ে গেছে এবং কমপক্ষে দুই শ’ লোক নিহত হয়েছে। অনেকেই বাড়ি ফিরতে পারেননি।

মণিপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি শাসিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমারের জঙ্গি অনুপ্রবেশের খবরে ভারতের মণিপুরে সতর্কতা

আপডেট সময় ০৮:২৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪

যুদ্ধ-বিধ্বস্ত মিয়ানমার থেকে নয়শ’ সন্দেহভাজন জঙ্গি অশান্ত মণিপুর রাজ্যে প্রবেশ করেছে এমন খবর পেয়ে ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে নয়াদিল্লি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু মৈতৈ এবং প্রধানত খ্রিস্টান কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পর্যায়ক্রমিক সংঘর্ষের জেরে মণিপুর রাজ্য জাতিগত ছিটমহলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

পাহাড়ে বসবাসকারী কুকিদের মিয়ানমারের উপজাতি জনগোষ্ঠীর সাথে সাংস্কৃতিক, পারিবারিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক রয়েছে। ২০২১ সালে সামরিক বাহিনী মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করার পর থেকে কয়েক ডজন সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের সাথে লড়াই করছে।

মণিপুর সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা কুলদীপ সিং শুক্রবার নিশ্চিত করেছেন যে, কর্তৃপক্ষ স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে সম্ভাব্য জঙ্গি পারাপারের খবর পায়।

নয়শ’ লোক আসার খবরের পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্ত চৌকিগুলোকে ‘সতর্ক’ রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী ওই প্রত্যন্ত ও পার্বত্য এলাকায় চিরুনি অভিযান চালাবে।

সিং বলেন, স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অনুপ্রবেশকারীরা কুকি জঙ্গিদের কাছ থেকে জঙ্গল যুদ্ধে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং তারা অস্ত্রবাহী ড্রোন বহন করে। দেশে উড়–ক্কু ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধ রয়েছে।

কয়েক মাস অপেক্ষাকৃত শান্ত থাকার পর এ মাসে মণিপুরের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রকেট হামলা ও ড্রোন থেকে বোমা ফেলার মাধ্যমে নতুন করে লড়াই শুরু হয়। এতে কমপক্ষে ১১ জন নিহত হয়।

সর্বশেষ হামলার জন্য কুকি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গত সপ্তাহে মৈতৈ বিক্ষোভকারীরা রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলের মধ্য দিয়ে মিছিল করেছে।

মৈতৈ ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জমি ও সরকারি চাকরির প্রতিযোগিতা ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে লড়াইয়ের কারণে প্রায় ৬০ হাজার লোক তাদের বাড়িঘর ছেড়ে গেছে এবং কমপক্ষে দুই শ’ লোক নিহত হয়েছে। অনেকেই বাড়ি ফিরতে পারেননি।

মণিপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি শাসিত।