ঢাকা ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালপুরে তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস পালিত মানিক সওদাগর বললেন ‘ওটা ছিল ‘স্লিপ অব টাং’ জামালপুরে হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সরকার সর্বোচ্চ পৃষ্ঠপোষকতা দেবে : উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরকার হস্তক্ষেপ করে না : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ধূমকেতু রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা : একটি ঐতিহাসিক বয়ান দেওয়ানগঞ্জে ভারতীয় মদসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত চলছে : সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল মাদারগঞ্জে ১০৭৫ মিটার নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস জামালপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন

পড়ালেখার অনিশ্চয়তার অবসান সেই সিয়ামের

ওসি মুশফিকুর রহমান সিয়ামকে কলেজে নিয়ে যান ভর্তি করানোর জন্য। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

ওসি মুশফিকুর রহমান সিয়ামকে কলেজে নিয়ে যান ভর্তি করানোর জন্য। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

মমিনুল ইসলাম কিসমত
নিজস্ব প্রতিবেদক, সরিষাবাড়ী, বাংলারচিঠিডটকম

পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করলেও অর্থের অভাবে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ও পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সিয়ামকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি নজরে আসে সরিষাবাড়ী থানার ওসির। এরপর সেই অধম্য সিয়ামের লেখাপড়ার দ্বায়িত্ব নিলেন সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুশফিকুর রহমান।

৯ জুন রবিবার সকালে সরিষাবাড়ী অনার্স কলেজে একাদশ শ্রেণির বিএম শাখায় ভর্তি হয় সিয়াম। অভাব, দারিদ্র্য ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে পিছনে ফেলে ইচ্ছা আর মনোবল নিয়েই এগোতে চায় সে।

সিয়াম চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পা দিয়ে লিখেই জিপিএ ৩.৮৩ পেয়েছে। কলেজে ভর্তি করানোর সুযোগ করে দেওয়ায় খুশি সিয়াম ও তার পরিবার।

জানা যায়, জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের উদনাপাড়া গ্রামের দিনমজুর দম্পতি জিন্নাহ মিয়া ও জোসনা বেগমের ছেলে সিয়াম। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে সিয়াম ছোট। জন্ম থেকেই তার দুটি হাত নেই। কিন্তু থেমে নেই তার পড়ালেখা ও খেলাধুলা। তবে পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রাথমিকের মাঝ পথে বন্ধ হয়ে যায় তার পড়ালেখা। বিদ্যালয় থেকে বেতন মওকুফ করলে পুনরায় পড়ালেখা শুরু করে সিয়াম। ২০১৮ সালে ব্র্যাক শিশু নিকেতন স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে একই ইউনিয়নের চাপারকোনা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয় সে। এরপর কৃতিত্বের সাথে জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় সিয়াম। এবার ডোয়াইল ইউনিয়নের চাপারকোনা মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সাথে পরীক্ষায় পাশ করে অদম্য সিয়াম।

সিয়ামের সাথে কথা হলে সে জানায়, এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর পরর্বতীতে অর্থের অভাবে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনিশ্চয়তায় পড়ে সিয়াম ও তার পরিবার। থানার ওসি তার পড়াশোনার দ্বায়িত্ব নেওয়ায় অনেক খুশি হয়েছে সে। ‘ওসি স্যার সব সময় আমার খোঁজও নিচ্ছেন’ বলে জানায় সিয়াম।

সিয়ামের সহপাঠীরা জানায়, সে ভর্তি হওয়ায় খুশি তারা। কলেজে পড়াশোনার সময় সব ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেয় সহপাঠীরা।

সরিষাবাড়ী থানার ওসি মুশফিকুর রহমান বলেন, গণমাধ্যমে খবর প্রচার হলে সিয়ামের বাড়িতে যাই। তার পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে সিয়ামের পড়াশোনা চালিয়ে নেয়ার আশ্বাস দেই। আজ (৯ জুন) তাকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করানো হয়। পরর্বতীতে পড়াশোনার সকল ব্যয় বহন করবেন বলে জানান তিনি।

সরিষাবাড়ি অনার্স কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ এইচ এম মিজানুর রহমান বলেন, থানার ওসি মুশফিকুর রহমান সিয়ামকে কলেজে নিয়ে আসেন ভর্তি করানোর জন্য। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুর রশিদ ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদের পরামর্শে সিয়ামকে বিনা বেতনে কলেজে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জামালপুরে তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস পালিত

পড়ালেখার অনিশ্চয়তার অবসান সেই সিয়ামের

আপডেট সময় ০১:২০:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুন ২০২৪
ওসি মুশফিকুর রহমান সিয়ামকে কলেজে নিয়ে যান ভর্তি করানোর জন্য। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

মমিনুল ইসলাম কিসমত
নিজস্ব প্রতিবেদক, সরিষাবাড়ী, বাংলারচিঠিডটকম

পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করলেও অর্থের অভাবে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ও পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সিয়ামকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি নজরে আসে সরিষাবাড়ী থানার ওসির। এরপর সেই অধম্য সিয়ামের লেখাপড়ার দ্বায়িত্ব নিলেন সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুশফিকুর রহমান।

৯ জুন রবিবার সকালে সরিষাবাড়ী অনার্স কলেজে একাদশ শ্রেণির বিএম শাখায় ভর্তি হয় সিয়াম। অভাব, দারিদ্র্য ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে পিছনে ফেলে ইচ্ছা আর মনোবল নিয়েই এগোতে চায় সে।

সিয়াম চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পা দিয়ে লিখেই জিপিএ ৩.৮৩ পেয়েছে। কলেজে ভর্তি করানোর সুযোগ করে দেওয়ায় খুশি সিয়াম ও তার পরিবার।

জানা যায়, জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের উদনাপাড়া গ্রামের দিনমজুর দম্পতি জিন্নাহ মিয়া ও জোসনা বেগমের ছেলে সিয়াম। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে সিয়াম ছোট। জন্ম থেকেই তার দুটি হাত নেই। কিন্তু থেমে নেই তার পড়ালেখা ও খেলাধুলা। তবে পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রাথমিকের মাঝ পথে বন্ধ হয়ে যায় তার পড়ালেখা। বিদ্যালয় থেকে বেতন মওকুফ করলে পুনরায় পড়ালেখা শুরু করে সিয়াম। ২০১৮ সালে ব্র্যাক শিশু নিকেতন স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে একই ইউনিয়নের চাপারকোনা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয় সে। এরপর কৃতিত্বের সাথে জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় সিয়াম। এবার ডোয়াইল ইউনিয়নের চাপারকোনা মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সাথে পরীক্ষায় পাশ করে অদম্য সিয়াম।

সিয়ামের সাথে কথা হলে সে জানায়, এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর পরর্বতীতে অর্থের অভাবে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনিশ্চয়তায় পড়ে সিয়াম ও তার পরিবার। থানার ওসি তার পড়াশোনার দ্বায়িত্ব নেওয়ায় অনেক খুশি হয়েছে সে। ‘ওসি স্যার সব সময় আমার খোঁজও নিচ্ছেন’ বলে জানায় সিয়াম।

সিয়ামের সহপাঠীরা জানায়, সে ভর্তি হওয়ায় খুশি তারা। কলেজে পড়াশোনার সময় সব ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেয় সহপাঠীরা।

সরিষাবাড়ী থানার ওসি মুশফিকুর রহমান বলেন, গণমাধ্যমে খবর প্রচার হলে সিয়ামের বাড়িতে যাই। তার পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে সিয়ামের পড়াশোনা চালিয়ে নেয়ার আশ্বাস দেই। আজ (৯ জুন) তাকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করানো হয়। পরর্বতীতে পড়াশোনার সকল ব্যয় বহন করবেন বলে জানান তিনি।

সরিষাবাড়ি অনার্স কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ এইচ এম মিজানুর রহমান বলেন, থানার ওসি মুশফিকুর রহমান সিয়ামকে কলেজে নিয়ে আসেন ভর্তি করানোর জন্য। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুর রশিদ ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদের পরামর্শে সিয়ামকে বিনা বেতনে কলেজে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।