ঢাকা ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করতে হবে : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী পানি জমে মরে গেছে জামালপুরে হর্টিকালচার সেন্টারের ১৩৭টি মাতৃ লিচু গাছ শরিফপুরে ত্রিশ বছরের জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠে নামলেন দুই নেতা টিএসপিতে অসামান্য অবদানে মিজানুর রহমানকে সংবর্ধনা জামালপুর ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি হলেন এমপি মামুন, তরিকুল সম্পাদক দেওয়ানগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ হাইড্রোলিক পাম্পে উঁচু হল দেবে যাওয়া ইসলামপুরের আগারী সেতু মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে : প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত আবদুল্লাহ আল-হারুন : জার্মানিতে বাসরত বহুমুখী প্রতিভাধর বাংলাভাষী লেখক সড়ক সংস্কার করে দিলেন ফাহাদ হোসেন

পায়ে লিখে এসএসসিতে জিপিএ ৩.৮৩ পেল অদম্য সিয়াম

অদম্য শিক্ষার্থী সিয়াম।ছবি : বাংলারাচিঠিডটকম

অদম্য শিক্ষার্থী সিয়াম।ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মমিনুল ইসলাম কিসমত
নিজস্ব প্রতিবেদক, সরিষাবাড়ী, বাংলারচিঠিডটকম

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। পা দিয়ে লিখে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে অদম্য মো. সিয়াম শেখ। অর্জন করেছে জিপিএ ৩.৮৩। অভাব, দারিদ্র্য ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে ইচ্ছা আর মনোবল নিয়েই এগুতে চায় সিয়াম। মনে নেই কোনো হতাশা। উপজেলার চাপারকোনা মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। তার এ ফলাফলের জন্য বাবা-মা সহ শিক্ষকরাও খুশি।

বিদ্যালয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের উদনাপাড়া গ্রামের দিনমজুর দম্পতি জিন্না মিয়া ও জোসনা বেগমের ছেলে সিয়াম। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে সিয়াম ছোট। জন্ম থেকেই তার দুটি হাত নেই। কিন্তু থেমে নেই তার পড়ালেখা ও খেলাধুলা। তবে পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রাথমিকের মাঝ পথে বন্ধ হয়ে যায় তার পড়ালেখা। বিদ্যালয় থেকে বেতন মওকুফ করলে পুনরায় পড়ালেখা শুরু করে সিয়াম। ২০১৮ সালে ব্র্যাক শিশু নিকেতন স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে একই ইউনিয়নের চাপারকোনা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয় সে। এরপর কৃতিত্বের সাথে জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় সিয়াম। সে এবার ডোয়াইল ইউনিয়নের চাপারকোনা মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করেছে।

পরীক্ষায় উত্তীর্ণের বিষয়ে জানতে চাইলে সিয়াম বলেছে, জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। পা দিয়ে লিখতে লিখতে আমার অভ্যাস হয়ে গেছে। পা দিয়ে লিখেই প্রাথমিক ও জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলাম। এবারো এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। আমার ইচ্ছে পড়ালেখা চালিয়ে যাবো। লেখাপড়া শেষ করে সরকারি চাকরি করবো। মা বাবার মুখে হাসি ফোটাবো, দেশের মানুষের সেবা করবো।

সিয়ামের মা জোসনা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, লেখাপড়ার জন্য সিয়ামকে কখনো বলতে হয় না। নিজের ইচ্ছায় সব সময় পড়ালেখা করে। কিছু কিছু কাজ ছাড়া সব কাজ নিজেই করতে পারে। আল্লাহর রহমতে সে এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করেছে। লেখাপড়া করতে চায় ছেলে। তবে অভাবের সংসারে সামনের দিনগুলোতে ছেলেকে কিভাবে কলেজে পড়াশোনা করাবে সেই চিন্তায় খুশিও ম্লান হয়ে গেছে তাদের। সমাজের বিত্তশালীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

চাপারকোনা মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আলীমুর রাজি শিবলু এ প্রতিবেদককে বলেন, আর দশটা ছেলে মেয়েদের চেয়ে সব সময় পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতো সিয়াম। এবার পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে অদম্য সিয়াম। একাদশ শ্রেণিতে এই কলেজে যদি সে ভর্তি হয়। কলেজের সকল বেতন মওকুফ করে দেওয়াসহ তাকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করতে হবে : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

পায়ে লিখে এসএসসিতে জিপিএ ৩.৮৩ পেল অদম্য সিয়াম

আপডেট সময় ১২:৫৬:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪
অদম্য শিক্ষার্থী সিয়াম।ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মমিনুল ইসলাম কিসমত
নিজস্ব প্রতিবেদক, সরিষাবাড়ী, বাংলারচিঠিডটকম

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। পা দিয়ে লিখে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে অদম্য মো. সিয়াম শেখ। অর্জন করেছে জিপিএ ৩.৮৩। অভাব, দারিদ্র্য ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে ইচ্ছা আর মনোবল নিয়েই এগুতে চায় সিয়াম। মনে নেই কোনো হতাশা। উপজেলার চাপারকোনা মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। তার এ ফলাফলের জন্য বাবা-মা সহ শিক্ষকরাও খুশি।

বিদ্যালয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের উদনাপাড়া গ্রামের দিনমজুর দম্পতি জিন্না মিয়া ও জোসনা বেগমের ছেলে সিয়াম। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে সিয়াম ছোট। জন্ম থেকেই তার দুটি হাত নেই। কিন্তু থেমে নেই তার পড়ালেখা ও খেলাধুলা। তবে পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রাথমিকের মাঝ পথে বন্ধ হয়ে যায় তার পড়ালেখা। বিদ্যালয় থেকে বেতন মওকুফ করলে পুনরায় পড়ালেখা শুরু করে সিয়াম। ২০১৮ সালে ব্র্যাক শিশু নিকেতন স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে একই ইউনিয়নের চাপারকোনা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয় সে। এরপর কৃতিত্বের সাথে জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় সিয়াম। সে এবার ডোয়াইল ইউনিয়নের চাপারকোনা মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করেছে।

পরীক্ষায় উত্তীর্ণের বিষয়ে জানতে চাইলে সিয়াম বলেছে, জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। পা দিয়ে লিখতে লিখতে আমার অভ্যাস হয়ে গেছে। পা দিয়ে লিখেই প্রাথমিক ও জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলাম। এবারো এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। আমার ইচ্ছে পড়ালেখা চালিয়ে যাবো। লেখাপড়া শেষ করে সরকারি চাকরি করবো। মা বাবার মুখে হাসি ফোটাবো, দেশের মানুষের সেবা করবো।

সিয়ামের মা জোসনা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, লেখাপড়ার জন্য সিয়ামকে কখনো বলতে হয় না। নিজের ইচ্ছায় সব সময় পড়ালেখা করে। কিছু কিছু কাজ ছাড়া সব কাজ নিজেই করতে পারে। আল্লাহর রহমতে সে এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করেছে। লেখাপড়া করতে চায় ছেলে। তবে অভাবের সংসারে সামনের দিনগুলোতে ছেলেকে কিভাবে কলেজে পড়াশোনা করাবে সেই চিন্তায় খুশিও ম্লান হয়ে গেছে তাদের। সমাজের বিত্তশালীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

চাপারকোনা মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আলীমুর রাজি শিবলু এ প্রতিবেদককে বলেন, আর দশটা ছেলে মেয়েদের চেয়ে সব সময় পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতো সিয়াম। এবার পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে অদম্য সিয়াম। একাদশ শ্রেণিতে এই কলেজে যদি সে ভর্তি হয়। কলেজের সকল বেতন মওকুফ করে দেওয়াসহ তাকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।