ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদকবিরোধী প্রীতি ফুটবল ম্যাচে ক্রীড়া সংস্থা একাদশের বিজয় মাদারগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী মুক্তা চৌধুরী, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত এপেক্স ক্লাব অব শেরপুরের ৩য় পালাবদল অনুষ্ঠিত বকশীগঞ্জের গারো পাহাড় থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার জামালপুরে আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ জামালপুরে পঞ্চগ্রাম ঈদগাহ মাঠে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাহাদুরাবাদ-বালাসি রুটে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবিতে দেওয়ানগঞ্জে মানববন্ধন দেশকে নিয়ে স্বপ্নযাত্রার পথে মাদকের প্রতিবন্ধকতা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করতে হবে : ওয়ারেছ আলী মামুন সরিষাবাড়ীতে শাপলা ফুল তুলতে গিয়ে বিলের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু জামালপুরে উন্নয়ন সংঘ সিডস প্রকল্পের উদ্যোগে বাল্যবিয়ে বন্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

নরসিংদী থেকে ডাকাতি হওয়া তেল নকলায় উদ্ধার: জাপার নেতা গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার ওয়ালি উল্লাহ।

গ্রেপ্তার ওয়ালি উল্লাহ।

শফিউল আলম লাভলু, নকলা প্রতিনিধি, বাংলারচিঠিডটকম: নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা নামক স্থান থেকে ২ মার্চ রাতে ডাকাতি হওয়া ৬০ ড্রাম (১৫ হাজার লিটার) সয়াবিন তেলের মধ্যে তেল ভর্তি ২০টি ড্রাম ও বিক্রি হয়ে যাওয়া ৪০টি তেলের খালি ড্রাম শেরপুরের নকলা থেকে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।

নকলা থানা-পুলিশের সহায়তায় নকলা পৌরশহরের উত্তর রাজার ওমামা অয়েল মিল থেকে তেল ভর্তি ড্রাম উদ্ধার এবং মিল মালিক ওয়ালি উল্লাহকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

জানা যায়, ওয়ালি উল্লাহ নকলা উপজেলার নকলা ইউনিয়নের নকলা উত্তর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। এবং জাতীয় পার্টি নকলা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক।

এ বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মোড়াপাড়া গঙ্গানগর এলাকার গ্লোবাল ইডিবেল অয়েল লিমিটেড থেকে ৬০ ড্রাম সয়াবিন তেল ভর্তি একটি ট্রাক (নম্বর-ঢাকা মেট্রো ট-২৪-০৬১৩) কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের দিকে রওনা করে। তেলের মালিক ছিলেন বাজিতপুরের মিরাপুর গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে তেল ব্যবসায়ী মশিউর রহমান (৩১)।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ভৈরব এলাকায় মাইক্রোবাসে করে হাতে ওয়াকিটকি, সিগনাল লাইট, হ্যান্ডকাফসহ র‌্যা বের পোশাক পরিহিত ডাকাত দল তেলের ড্রাম বোঝাই ট্রাকটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ সময় তারা ট্রাকের চালক রফিকুল ইসলাম (৪২) ও হেলপার রানা মিয়াকে (২০) হাত-পা ও মুখ বেঁধে বেদম মারধর করে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে উঠিয়ে ট্রাকটি কিশোরগঞ্জের নান্দাইল হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি ভোরে নকলায় এনে ওমামা অয়েল মিলের মালিক ওয়ালি উল্লাহর কাছে তেলভর্তি ড্রামগুলো বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে খালি ট্রাক এবং ট্রাকের চালক ও হেলপারকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় রাস্তার পাশে ফেলে মাইক্রোবাসে করে ডাকাতদল পালিয়ে যান।

উদ্ধার তেলের ড্রাম।

তেলের মালিক মশিউর রহমান এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১১ ফেব্রুয়ারি শিবপুর থানায় মামলা (নম্বর-৮) করেন। আদালত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও তেল উদ্ধারের জন্য গত ২০ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে মামলাটি হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতদলের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য মতে, নকলায় ওমামা অয়েল মিল থেকে তেল ভর্তি ২০টি ড্রাম ও বিক্রি হয়ে যাওয়া ৪০টি তেলের খালি ড্রাম এবং মিল মালিক ওয়ালি উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

এ বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশের এসআই নজরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের সঙ্গে ওমামা অয়েল মিল মালিক ওয়ালি উল্লাহর যোগসাজশ থাকায় প্রায়ই তারা চুরি-ডাকাতি করা তেল এখানে এনে বিক্রি করত।

ওমামা অয়েল মিল মালিক ওয়ালি উল্লাহ জানান, সয়াবিন তেল ভর্তি ড্রামগুলো তিনি বিক্রির জন্য কিনেছিলেন। তবে ক্রয় সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদকবিরোধী প্রীতি ফুটবল ম্যাচে ক্রীড়া সংস্থা একাদশের বিজয়

নরসিংদী থেকে ডাকাতি হওয়া তেল নকলায় উদ্ধার: জাপার নেতা গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৬:১৪:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ ২০২২
গ্রেপ্তার ওয়ালি উল্লাহ।

শফিউল আলম লাভলু, নকলা প্রতিনিধি, বাংলারচিঠিডটকম: নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা নামক স্থান থেকে ২ মার্চ রাতে ডাকাতি হওয়া ৬০ ড্রাম (১৫ হাজার লিটার) সয়াবিন তেলের মধ্যে তেল ভর্তি ২০টি ড্রাম ও বিক্রি হয়ে যাওয়া ৪০টি তেলের খালি ড্রাম শেরপুরের নকলা থেকে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।

নকলা থানা-পুলিশের সহায়তায় নকলা পৌরশহরের উত্তর রাজার ওমামা অয়েল মিল থেকে তেল ভর্তি ড্রাম উদ্ধার এবং মিল মালিক ওয়ালি উল্লাহকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

জানা যায়, ওয়ালি উল্লাহ নকলা উপজেলার নকলা ইউনিয়নের নকলা উত্তর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। এবং জাতীয় পার্টি নকলা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক।

এ বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মোড়াপাড়া গঙ্গানগর এলাকার গ্লোবাল ইডিবেল অয়েল লিমিটেড থেকে ৬০ ড্রাম সয়াবিন তেল ভর্তি একটি ট্রাক (নম্বর-ঢাকা মেট্রো ট-২৪-০৬১৩) কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের দিকে রওনা করে। তেলের মালিক ছিলেন বাজিতপুরের মিরাপুর গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে তেল ব্যবসায়ী মশিউর রহমান (৩১)।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ভৈরব এলাকায় মাইক্রোবাসে করে হাতে ওয়াকিটকি, সিগনাল লাইট, হ্যান্ডকাফসহ র‌্যা বের পোশাক পরিহিত ডাকাত দল তেলের ড্রাম বোঝাই ট্রাকটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ সময় তারা ট্রাকের চালক রফিকুল ইসলাম (৪২) ও হেলপার রানা মিয়াকে (২০) হাত-পা ও মুখ বেঁধে বেদম মারধর করে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে উঠিয়ে ট্রাকটি কিশোরগঞ্জের নান্দাইল হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি ভোরে নকলায় এনে ওমামা অয়েল মিলের মালিক ওয়ালি উল্লাহর কাছে তেলভর্তি ড্রামগুলো বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে খালি ট্রাক এবং ট্রাকের চালক ও হেলপারকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় রাস্তার পাশে ফেলে মাইক্রোবাসে করে ডাকাতদল পালিয়ে যান।

উদ্ধার তেলের ড্রাম।

তেলের মালিক মশিউর রহমান এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১১ ফেব্রুয়ারি শিবপুর থানায় মামলা (নম্বর-৮) করেন। আদালত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও তেল উদ্ধারের জন্য গত ২০ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে মামলাটি হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতদলের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য মতে, নকলায় ওমামা অয়েল মিল থেকে তেল ভর্তি ২০টি ড্রাম ও বিক্রি হয়ে যাওয়া ৪০টি তেলের খালি ড্রাম এবং মিল মালিক ওয়ালি উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

এ বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশের এসআই নজরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের সঙ্গে ওমামা অয়েল মিল মালিক ওয়ালি উল্লাহর যোগসাজশ থাকায় প্রায়ই তারা চুরি-ডাকাতি করা তেল এখানে এনে বিক্রি করত।

ওমামা অয়েল মিল মালিক ওয়ালি উল্লাহ জানান, সয়াবিন তেল ভর্তি ড্রামগুলো তিনি বিক্রির জন্য কিনেছিলেন। তবে ক্রয় সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।