ঢাকা ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের প্রতি বিভ্রান্তকারীদের নজরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় মৎস্য পক্ষ : জামালপুরে বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা দশানী নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে সাজেলের চর বাজার, সেতু খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন : ফিরোজ মিয়ার উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন : সরিষাবাড়ীতে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও প্রেরণা বিএনপিকে পথ দেখায়: মির্জা ফখরুল শিক্ষকদের অবসর সুবিধার টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মদিন : জামালপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিনে ইসলামপুরে বিএনপির দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

জামালপুরে হারভেস্ট প্লাসের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

জামালপুরে হার্ভেস্টপ্লাসের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরে হারভেস্ট প্লাসের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম: সরকারি কর্মসূচিতে জিংক সমৃদ্ধ বায়োফর্টিফাইড ফসলের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তিতে বিংগস প্রকল্প বিষয়ে জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ জানুয়ারি দুপুরে বেসরকারি সংস্থা হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশ এ সভার আয়োজন করে। ইউরোপিয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশের পুষ্টি নিরাপত্তা ও শাসন ব্যবস্থা উন্নতকরণের উদ্যোগ (বিংগস) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ভিশন, আইডিএস ও উন্নয়ন সংঘ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জামালপুর ও শেরপুর জেলায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

সভার শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ম্যানেজার ড. এম এ সালেক। এরপর হারভেস্ট প্লাস ও বিংগস প্রকল্পের কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন হারভেস্ট প্লাসের উর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুল ইসলাম এবং প্রকল্পের মূল বক্তব্য উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের (ব্রি) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুল কাদের।

অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মুর্শেদা জামান। জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নিতাই চন্দ্র বণিকের সভাপতিত্বে এ সভা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোকলেছুর রহমান। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হারভেস্ট প্লাসের কান্ট্রি ম্যানেজার ড. মো. খাইরুল বাশার ও জামালপুরের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. হাবিবুর রহমান খান, সিভিল সার্জন ডা. প্রণয় কান্তি দাস প্রমুখ। সভায় মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিম, কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি মোস্তফা মনজু, বাসস জেলা প্রতিনিধি মুখলেছুর রহমান লিখনসহ সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, প্রকল্পের উপকারভোগী কৃষক ও হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যবৃন্দ।

সভায় জানানো হয়, বিংগস প্রকল্পের মাধ্যমে জামালপুর ও শেরপুর জেলার ছয়টি উপজেলায় এক লাখ ৫৩ হাজার ৮২৫টি দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবার নিয়ে প্রকল্পটি কাজ করছে। এর মধ্যে ৬১ হাজার ৫০০ জন ক্ষুদ্র কৃষক রয়েছেন। ইউরোপিয় ইউনিয়ন প্রায় ১০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে এই প্রকল্পে। ৫৪ মাসব্যাপী এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রকল্পভুক্ত এলাকায় পুষ্টিগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও মায়েদের পুষ্টিমান উন্নত করা। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে শতকরা ৫০ ভাগ মা ও শিশুদের শরীরে জিংকের ঘাটতি রয়েছে। তাই এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ বায়োফর্টিফাইড খাদ্য উদ্ভাবন যেমন জিংক ধান, গম এবং জিংক ও আয়রন মসুর ডালের চাষাবাদ সম্প্রসারণ, উপকারভোগীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সভায় আরো বলা হয়, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত জিংক সমৃদ্ধ জাতগুলোর মধ্যে আমন মৌসুমে ব্রি ধান৬২, ব্রি ধান ৭২ ও বিনাধান-২০ এবং বোরো মৌসুমে ব্রি ধান৬৪, ব্রি ধান৭৪, ব্রি ধান৮৪, বঙ্গবন্ধু ধান১০০ (ব্রি ধান১০০) ও ব্রি ধান১০২ জাতের ধানের সরকারিভাবে ব্র্যান্ডিং করে কৃষক পর্যায়ে ব্যাপক আকারে উৎপাদন, বীজ উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে জিংকসমৃদ্ধ চালের ভাত থেকে মা ও শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষের শরীরের জিংকের চাহিদা পূরণের হার বাড়ানো সম্ভব হবে। সভায় সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বিশেষ করে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিসহ বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগী দরিদ্র ও হতদরিদ্রদের মাঝে জিংক সমৃদ্ধ চাল সরবরাহ করার পরামর্শ দেন আলোচকবৃন্দ।

 

 

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের প্রতি বিভ্রান্তকারীদের নজরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জামালপুরে হারভেস্ট প্লাসের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ০৭:০৬:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২
জামালপুরে হারভেস্ট প্লাসের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম: সরকারি কর্মসূচিতে জিংক সমৃদ্ধ বায়োফর্টিফাইড ফসলের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তিতে বিংগস প্রকল্প বিষয়ে জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ জানুয়ারি দুপুরে বেসরকারি সংস্থা হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশ এ সভার আয়োজন করে। ইউরোপিয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশের পুষ্টি নিরাপত্তা ও শাসন ব্যবস্থা উন্নতকরণের উদ্যোগ (বিংগস) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ভিশন, আইডিএস ও উন্নয়ন সংঘ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জামালপুর ও শেরপুর জেলায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

সভার শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ম্যানেজার ড. এম এ সালেক। এরপর হারভেস্ট প্লাস ও বিংগস প্রকল্পের কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন হারভেস্ট প্লাসের উর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুল ইসলাম এবং প্রকল্পের মূল বক্তব্য উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের (ব্রি) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুল কাদের।

অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মুর্শেদা জামান। জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নিতাই চন্দ্র বণিকের সভাপতিত্বে এ সভা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোকলেছুর রহমান। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হারভেস্ট প্লাসের কান্ট্রি ম্যানেজার ড. মো. খাইরুল বাশার ও জামালপুরের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. হাবিবুর রহমান খান, সিভিল সার্জন ডা. প্রণয় কান্তি দাস প্রমুখ। সভায় মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিম, কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি মোস্তফা মনজু, বাসস জেলা প্রতিনিধি মুখলেছুর রহমান লিখনসহ সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, প্রকল্পের উপকারভোগী কৃষক ও হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যবৃন্দ।

সভায় জানানো হয়, বিংগস প্রকল্পের মাধ্যমে জামালপুর ও শেরপুর জেলার ছয়টি উপজেলায় এক লাখ ৫৩ হাজার ৮২৫টি দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবার নিয়ে প্রকল্পটি কাজ করছে। এর মধ্যে ৬১ হাজার ৫০০ জন ক্ষুদ্র কৃষক রয়েছেন। ইউরোপিয় ইউনিয়ন প্রায় ১০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে এই প্রকল্পে। ৫৪ মাসব্যাপী এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রকল্পভুক্ত এলাকায় পুষ্টিগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও মায়েদের পুষ্টিমান উন্নত করা। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে শতকরা ৫০ ভাগ মা ও শিশুদের শরীরে জিংকের ঘাটতি রয়েছে। তাই এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ বায়োফর্টিফাইড খাদ্য উদ্ভাবন যেমন জিংক ধান, গম এবং জিংক ও আয়রন মসুর ডালের চাষাবাদ সম্প্রসারণ, উপকারভোগীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সভায় আরো বলা হয়, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত জিংক সমৃদ্ধ জাতগুলোর মধ্যে আমন মৌসুমে ব্রি ধান৬২, ব্রি ধান ৭২ ও বিনাধান-২০ এবং বোরো মৌসুমে ব্রি ধান৬৪, ব্রি ধান৭৪, ব্রি ধান৮৪, বঙ্গবন্ধু ধান১০০ (ব্রি ধান১০০) ও ব্রি ধান১০২ জাতের ধানের সরকারিভাবে ব্র্যান্ডিং করে কৃষক পর্যায়ে ব্যাপক আকারে উৎপাদন, বীজ উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে জিংকসমৃদ্ধ চালের ভাত থেকে মা ও শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষের শরীরের জিংকের চাহিদা পূরণের হার বাড়ানো সম্ভব হবে। সভায় সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বিশেষ করে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিসহ বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগী দরিদ্র ও হতদরিদ্রদের মাঝে জিংক সমৃদ্ধ চাল সরবরাহ করার পরামর্শ দেন আলোচকবৃন্দ।