ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলের আশ্বাস দিল ইরান জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, ‘প্যানিক বায়িং’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার সাংবাদিক প্রবেশে কেন্দ্র সচিবের নিষেধাজ্ঞা মাদারগঞ্জে যমুনার বালুর চরে ফিরেছে সবুজ প্রাণ মাদকাসক্ত ছেলেকে ধরিয়ে দিলেন মা, হল ছয় মাসের জেল জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকারি গুদামে ১৭.৭১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া : তথ্যমন্ত্রী অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি উন্মোচন

ঘোড়াঘাট ইউএনও ওয়াহিদার হত্যা চেষ্টা মামলায় ৪ জন আটক

ইউএনও ওয়াহিদা খানম

ইউএনও ওয়াহিদা খানম

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক : দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম হত্যা চেষ্টা মামলায় ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘোড়াঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো, মমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

তিনি জানান, ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের নৈশ্য প্রহরী পলাশ আহম্মেদকে প্রথম আটক করা হয়। তার দেয়া তথ্যানুযায়ী ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে অপর ৩ জনকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম (৩৫)। শিংড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাসুদ আলম (৩৪) ও আসাদুল হক (৩৫)।

জাহাঙ্গীর ঘোড়াঘাট উপজেলার কশিগাড়ী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে, মাসুদ একই উপজেলার দক্ষিণ দেবীপুর গ্রামের আদু মিয়ার ছেলে এবং আসাদুল সাগরপুর গ্রামের আমজাদ আলীর ছেলে।

আটককৃতদের পুলিশ, র‌্যাব সদস্য ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, আটককৃতদের এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত তাদেরকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো যাবে না।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ৪ সেপ্টেম্বর সকালে আহত ইউএনও’র বড় ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ঘোড়াঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো, মমিনুল ইসলাম তদন্ত করছেন।

উল্লেখ্য, ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের নৈশ্য প্রহরীকে বেধে রেখে সন্ত্রাসীরা পিপিই পরিধান অবস্থায় বাসায় প্রবেশ করে নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় ও শরীরে বেধম আঘাত করে। বাসায় থাকা নির্বাহী কর্মকর্তার পিতা শেখ ওমর আলী তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাকেও সন্ত্রাসীরা বেদম প্রহার করে। ঘটনার পর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম, তার পিতা শেখ ওমর আলীকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ইউএনও ওয়াহিদা খানমের স্বামী রংপুর পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, ৩ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ওয়াহিদা খানমকে বিমান বাহিনীর এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়।

তাকে ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অপরদিকে ৪ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে ওয়াহিদা খানমের অস্ত্রোপচারে অংশ নেওয়া চিকিৎসক জাহেদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ৩ সেপ্টেম্বর রাতে তার মাথার অস্ত্রপাচার করা হয়েছে। তিনি এখন অনেকটা আশঙ্কা মুক্ত রয়েছেন। অস্ত্রোপাচারের পর ওয়াহিদা খানমের জ্ঞান ফিরেছে। তিনি কথাও বলেছেন। তাঁর মাথায় কমপক্ষে ৯টি আঘাতের ক্ষত দেখা গেছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

ঘোড়াঘাট ইউএনও ওয়াহিদার হত্যা চেষ্টা মামলায় ৪ জন আটক

আপডেট সময় ০৭:৪১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
ইউএনও ওয়াহিদা খানম

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক : দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম হত্যা চেষ্টা মামলায় ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘোড়াঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো, মমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

তিনি জানান, ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের নৈশ্য প্রহরী পলাশ আহম্মেদকে প্রথম আটক করা হয়। তার দেয়া তথ্যানুযায়ী ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে অপর ৩ জনকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম (৩৫)। শিংড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাসুদ আলম (৩৪) ও আসাদুল হক (৩৫)।

জাহাঙ্গীর ঘোড়াঘাট উপজেলার কশিগাড়ী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে, মাসুদ একই উপজেলার দক্ষিণ দেবীপুর গ্রামের আদু মিয়ার ছেলে এবং আসাদুল সাগরপুর গ্রামের আমজাদ আলীর ছেলে।

আটককৃতদের পুলিশ, র‌্যাব সদস্য ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, আটককৃতদের এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত তাদেরকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো যাবে না।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ৪ সেপ্টেম্বর সকালে আহত ইউএনও’র বড় ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ঘোড়াঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো, মমিনুল ইসলাম তদন্ত করছেন।

উল্লেখ্য, ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের নৈশ্য প্রহরীকে বেধে রেখে সন্ত্রাসীরা পিপিই পরিধান অবস্থায় বাসায় প্রবেশ করে নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় ও শরীরে বেধম আঘাত করে। বাসায় থাকা নির্বাহী কর্মকর্তার পিতা শেখ ওমর আলী তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাকেও সন্ত্রাসীরা বেদম প্রহার করে। ঘটনার পর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম, তার পিতা শেখ ওমর আলীকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ইউএনও ওয়াহিদা খানমের স্বামী রংপুর পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, ৩ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ওয়াহিদা খানমকে বিমান বাহিনীর এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়।

তাকে ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অপরদিকে ৪ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে ওয়াহিদা খানমের অস্ত্রোপচারে অংশ নেওয়া চিকিৎসক জাহেদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ৩ সেপ্টেম্বর রাতে তার মাথার অস্ত্রপাচার করা হয়েছে। তিনি এখন অনেকটা আশঙ্কা মুক্ত রয়েছেন। অস্ত্রোপাচারের পর ওয়াহিদা খানমের জ্ঞান ফিরেছে। তিনি কথাও বলেছেন। তাঁর মাথায় কমপক্ষে ৯টি আঘাতের ক্ষত দেখা গেছে।