ঢাকা ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থী কিশোরীকে অপহরণ, গ্রেপ্তার ৬ সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী মাদকাসক্ত যুবকের এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড শেরপুরে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বার্ষিক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত শেরপুরে দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিলে যোগ দিলেন আর্জেন্টিনা সমর্থক বকশীগঞ্জ সীমান্তে একজনকে পুশ ইনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা জামালপুরে এফএনবি’র ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত জামালপুরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও উন্নয়ন ফোরাম গঠিত : সভাপতি জাহাঙ্গীর, সম্পাদক সেলিম কিশোর গ্যাংয়ের হামলা, শেরপুরে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু নাট্যসাধনায় অনন্য: নাট্যকার ও নির্দেশক বীরমুক্তিযোদ্ধা আসাদুল্লাহ ফারাজী

পরিবেশবান্ধব সবজি চাষে ভাগ্য বদলেছে বকশীগঞ্জের হালিমার

নিজের ক্ষেত থেকে শসা তুলছেন হালিমা বেগম। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নিজের ক্ষেত থেকে শসা তুলছেন হালিমা বেগম। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও জৈব উপায়ে সবজি চাষ করে ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছেন নারী সবজি চাষী হালিমা বেগম। আত্মবিশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রমে তিনি এখন সফল সবজি চাষী। মানুষের সমালোচনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাঠে ঘাটে কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন এই নারী। তার বাড়ি মেরুরচর ইউনিয়নের পূর্ব কলকিহারা গ্রামে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত জুন মাসে পূর্ব কলকিহারা গ্রামে আড়াই বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেন হালিমা বেগম। এরমধ্যে জুলাইয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা শুরু হয়। ১৮ দিন বন্যার পানি অবস্থান করায় নষ্ট হয়ে যায় হালিমার সবজি ক্ষেত। কিন্তু দমে যাননি অদম্য নারী হালিমা বেগম।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ফের সবজি চাষ করেন হালিমা বেগম। তিনি দেড় বিঘা জমিতে শসা চাষ, ১৬ শতাংশ জমিতে করলা চাষ ও ১৩ শতাংশ জমিতে ঢ়েড়স চাষ করেছেন। সবজি চাষে তার ২২ হাজার টাকা খরচ হয়। বর্তমানে তার সবজি ক্ষেতে শসা, করলা ও ঢ়েড়স বিক্রি শুরু হয়েছে। হালিমার ক্ষেতের সবজির চাহিদা অন্যান্য কৃষকের চেয়ে অনেক বেশি। কারণ তিনি সব সময় জৈব উপায়ে ও কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই সবজি চাষ করে থাকেন। হালিমা বেগম তার ফসল উৎপাদনে রাসায়নিক সার ব্যবহারের পরিবর্তে কেঁচো কম্পোষ্ট সার ব্যবহার করেন। তিনি নিজেই এসব জৈব সার উৎপাদন করেন। তার কাজে সহায়তা করেন তার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন।

পূর্ব কলকিহারা গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী হালিমা বেগমের সংসার চলত অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে। স্বামী তোফাজ্জল হোসেন অন্যের কাজ করে যা রোজকার করতেন তা দিয়ে কোনো মতে দিন পার হতো তাদের। ২০১০ সালে দাতা সংস্থা অক্সফ্যামের সহযোগিতায় রি-কল প্রকল্প কাজ শুরু করে পূর্ব কলকিহারা গ্রামে। উপায়ন্তর না দেখে পূর্ব কলকিহারা সূর্যউদয় উন্নয়ন সংঘ নামে গ্রাম ভিত্তিক সংগঠনে (সিবিও) উৎপাদক দলের সদস্য হিসেবে যোগ দেন। রি-কল প্রকল্পের কর্মকর্তা ও ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটরদের পরামর্শ ও তাদের আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে থাকেন হালিমা বেগম।

২০১৮ সালে দাতা সংস্থা অক্সফ্যাম বকশীগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে কাজ শুরু করলে ভাগ্য খুলে যায় হালিমা বেগমের। উন্নয়ন সংঘ রি-কল ২০২১ প্রকল্পের মাধ্যমে হালিমা বেগমকে বিভিন্ন সবজি চাষের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরিবেশ বান্ধব সবজি চাষের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করে অন্যের জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন নিজ উদ্যোমে। উন্নয়ন সংঘ রি-কল ২০২১ প্রকল্প থেকে পরিবেশ বান্ধব সবজি চাষের জন্য কৃষি প্রদর্শনী প্লট, কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদন ও সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ এর জন্য ১৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এতে করে নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করেন হালিমা বেগম।

গত জুলাইয়ের বন্যায় তার সবজি ক্ষেত পানিতে বিনষ্ট হলে বন্যার পর ফের শসা ও বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করেন। ইতোমধ্যে তার উৎপাদিত ফসলের ক্ষেত থেকে সবজি বিক্রি শুরু হয়েছে। সপ্তাহে দুই দিন শসা তুলে থাকেন। প্রতি সপ্তাহে তার ক্ষেত থেকে ৬ থেকে ৮ মণ শসা উঠানো হয়। প্রতি মণ শসা ৬০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। হালিমা বেগম উন্নয়ন সংঘ রি-কল ২০২১ প্রকল্প থেকে সার্বিক সহযোগিতায় পাওয়ায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পরিবেশ অনুকূলে থাকলে শসা চাষ করে ৫০ হাজার টাকা লাভ হবে। শসা ও অন্যান্য সবজি চাষে এক লাখ টাকা থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নারী সবজি চাষী হালিমা বেগম জানান, সবজি চাষ করেই তার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। আমার দেখাদেখি অন্য নারীরা সবজি চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তারাও এখন সবজি চাষ করছেন।

বকশীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর আজাদ জানান, উপজেলা কৃষি দপ্তর হালিমা বেগমকে ফসল উৎপাদন সম্পর্কে সব সময় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের এক জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সবজি উৎপাদনে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না তার খোঁজ খবর রাখেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থী কিশোরীকে অপহরণ, গ্রেপ্তার ৬

পরিবেশবান্ধব সবজি চাষে ভাগ্য বদলেছে বকশীগঞ্জের হালিমার

আপডেট সময় ০৬:৫৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৯
নিজের ক্ষেত থেকে শসা তুলছেন হালিমা বেগম। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও জৈব উপায়ে সবজি চাষ করে ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছেন নারী সবজি চাষী হালিমা বেগম। আত্মবিশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রমে তিনি এখন সফল সবজি চাষী। মানুষের সমালোচনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাঠে ঘাটে কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন এই নারী। তার বাড়ি মেরুরচর ইউনিয়নের পূর্ব কলকিহারা গ্রামে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত জুন মাসে পূর্ব কলকিহারা গ্রামে আড়াই বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেন হালিমা বেগম। এরমধ্যে জুলাইয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা শুরু হয়। ১৮ দিন বন্যার পানি অবস্থান করায় নষ্ট হয়ে যায় হালিমার সবজি ক্ষেত। কিন্তু দমে যাননি অদম্য নারী হালিমা বেগম।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ফের সবজি চাষ করেন হালিমা বেগম। তিনি দেড় বিঘা জমিতে শসা চাষ, ১৬ শতাংশ জমিতে করলা চাষ ও ১৩ শতাংশ জমিতে ঢ়েড়স চাষ করেছেন। সবজি চাষে তার ২২ হাজার টাকা খরচ হয়। বর্তমানে তার সবজি ক্ষেতে শসা, করলা ও ঢ়েড়স বিক্রি শুরু হয়েছে। হালিমার ক্ষেতের সবজির চাহিদা অন্যান্য কৃষকের চেয়ে অনেক বেশি। কারণ তিনি সব সময় জৈব উপায়ে ও কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই সবজি চাষ করে থাকেন। হালিমা বেগম তার ফসল উৎপাদনে রাসায়নিক সার ব্যবহারের পরিবর্তে কেঁচো কম্পোষ্ট সার ব্যবহার করেন। তিনি নিজেই এসব জৈব সার উৎপাদন করেন। তার কাজে সহায়তা করেন তার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন।

পূর্ব কলকিহারা গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী হালিমা বেগমের সংসার চলত অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে। স্বামী তোফাজ্জল হোসেন অন্যের কাজ করে যা রোজকার করতেন তা দিয়ে কোনো মতে দিন পার হতো তাদের। ২০১০ সালে দাতা সংস্থা অক্সফ্যামের সহযোগিতায় রি-কল প্রকল্প কাজ শুরু করে পূর্ব কলকিহারা গ্রামে। উপায়ন্তর না দেখে পূর্ব কলকিহারা সূর্যউদয় উন্নয়ন সংঘ নামে গ্রাম ভিত্তিক সংগঠনে (সিবিও) উৎপাদক দলের সদস্য হিসেবে যোগ দেন। রি-কল প্রকল্পের কর্মকর্তা ও ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটরদের পরামর্শ ও তাদের আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে থাকেন হালিমা বেগম।

২০১৮ সালে দাতা সংস্থা অক্সফ্যাম বকশীগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে কাজ শুরু করলে ভাগ্য খুলে যায় হালিমা বেগমের। উন্নয়ন সংঘ রি-কল ২০২১ প্রকল্পের মাধ্যমে হালিমা বেগমকে বিভিন্ন সবজি চাষের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরিবেশ বান্ধব সবজি চাষের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করে অন্যের জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন নিজ উদ্যোমে। উন্নয়ন সংঘ রি-কল ২০২১ প্রকল্প থেকে পরিবেশ বান্ধব সবজি চাষের জন্য কৃষি প্রদর্শনী প্লট, কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদন ও সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ এর জন্য ১৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এতে করে নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করেন হালিমা বেগম।

গত জুলাইয়ের বন্যায় তার সবজি ক্ষেত পানিতে বিনষ্ট হলে বন্যার পর ফের শসা ও বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করেন। ইতোমধ্যে তার উৎপাদিত ফসলের ক্ষেত থেকে সবজি বিক্রি শুরু হয়েছে। সপ্তাহে দুই দিন শসা তুলে থাকেন। প্রতি সপ্তাহে তার ক্ষেত থেকে ৬ থেকে ৮ মণ শসা উঠানো হয়। প্রতি মণ শসা ৬০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। হালিমা বেগম উন্নয়ন সংঘ রি-কল ২০২১ প্রকল্প থেকে সার্বিক সহযোগিতায় পাওয়ায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পরিবেশ অনুকূলে থাকলে শসা চাষ করে ৫০ হাজার টাকা লাভ হবে। শসা ও অন্যান্য সবজি চাষে এক লাখ টাকা থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নারী সবজি চাষী হালিমা বেগম জানান, সবজি চাষ করেই তার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। আমার দেখাদেখি অন্য নারীরা সবজি চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তারাও এখন সবজি চাষ করছেন।

বকশীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর আজাদ জানান, উপজেলা কৃষি দপ্তর হালিমা বেগমকে ফসল উৎপাদন সম্পর্কে সব সময় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের এক জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সবজি উৎপাদনে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না তার খোঁজ খবর রাখেন।