ঢাকা ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদকাসক্ত ছেলেকে ধরিয়ে দিলেন মা, হল ছয় মাসের জেল জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকারি গুদামে ১৭.৭১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া : তথ্যমন্ত্রী অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি উন্মোচন জামালপুরে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু মাদারগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের রুগ্নদশার অবসান চাই কাল পিতৃভূমি বগুড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফ-এর শর্তের সম্পর্ক নেই : অর্থমন্ত্রী

বকশীগঞ্জে সন্তান বিক্রি করা সেই রাবেয়ার ঋণের টাকা পরিশোধ করলেন ইউএনও

রাবিয়া বেগমকে মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড তুলে দেন ইউএনও দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

রাবিয়া বেগমকে মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড তুলে দেন ইউএনও দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠি ডটকম

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় অভাবের তাড়নায় নিজের গর্ভের অনাগত সন্তান বিক্রি করা রাবেয়ার সব ঋণ পরিশোধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে তাকে একটি মাতৃত্বকালীণ ভাতার কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

৬ নভেম্বর বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম রাবেয়ার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তাকে ভাতার কার্ড প্রদান করেন। এ সময় বকশীগঞ্জ থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাহবুবু আলম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের সুপারভাইজার সুশান্ত কুমার চক্রবর্তীসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের রবিয়ারচর গ্রামের দম্পত্তি জাহাঙ্গীর ও রাবিয়া বেগম। ১৭ বছর দাম্পত্য জীবনে চারটি সন্তান লাভ করেন তারা। ভূমিহীন এই দম্পত্তির সন্তান বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে অভাবও সমান তালে বৃদ্ধি পায়।

মাস তিনেক আগে এনজিও আশা ও গ্রামীণ ব্যাংকের নিকট থেকে সাপ্তাহিক কিস্তিতে ৭০ হাজার টাকা ঋণ নেন তারা। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে স্ত্রী সন্তান রেখে পালিয়ে যায় জাহাঙ্গীর।

ঋণ থেকে বাঁচতে নিজের গর্ভের অনাগত সন্তান বিক্রি করেন রাবেয়া। ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা রাবিয়া নিজের নিঃসন্তান বোন দিলারী বেগমের নিকট ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন তার অনাগত সন্তান। সন্তান ভুমিষ্টের আগেই ৫ হাজার টাকা অগ্রিম নেন তিনি। বাকী টাকা সন্তান ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর দেওয়ার কথা ছিল। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত রাবেয়ার বাড়িতে যান ইউএনও দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। পরে কিছুদিন পরেই রাবেয়া একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন।

অবশেষে ৫ নভেম্বর আশা ও গ্রামীণ ব্যাংকের সমস্ত ঋণের টাকা পরিশোধ করেন ইউএনও। একই সঙ্গে মহিলা বিষয়ক দপ্তর থেকে তার জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতার ব্যবস্থা করা হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদকাসক্ত ছেলেকে ধরিয়ে দিলেন মা, হল ছয় মাসের জেল

বকশীগঞ্জে সন্তান বিক্রি করা সেই রাবেয়ার ঋণের টাকা পরিশোধ করলেন ইউএনও

আপডেট সময় ০৬:৩২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ নভেম্বর ২০১৮
রাবিয়া বেগমকে মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড তুলে দেন ইউএনও দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠি ডটকম

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় অভাবের তাড়নায় নিজের গর্ভের অনাগত সন্তান বিক্রি করা রাবেয়ার সব ঋণ পরিশোধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে তাকে একটি মাতৃত্বকালীণ ভাতার কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

৬ নভেম্বর বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম রাবেয়ার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তাকে ভাতার কার্ড প্রদান করেন। এ সময় বকশীগঞ্জ থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাহবুবু আলম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের সুপারভাইজার সুশান্ত কুমার চক্রবর্তীসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের রবিয়ারচর গ্রামের দম্পত্তি জাহাঙ্গীর ও রাবিয়া বেগম। ১৭ বছর দাম্পত্য জীবনে চারটি সন্তান লাভ করেন তারা। ভূমিহীন এই দম্পত্তির সন্তান বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে অভাবও সমান তালে বৃদ্ধি পায়।

মাস তিনেক আগে এনজিও আশা ও গ্রামীণ ব্যাংকের নিকট থেকে সাপ্তাহিক কিস্তিতে ৭০ হাজার টাকা ঋণ নেন তারা। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে স্ত্রী সন্তান রেখে পালিয়ে যায় জাহাঙ্গীর।

ঋণ থেকে বাঁচতে নিজের গর্ভের অনাগত সন্তান বিক্রি করেন রাবেয়া। ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা রাবিয়া নিজের নিঃসন্তান বোন দিলারী বেগমের নিকট ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন তার অনাগত সন্তান। সন্তান ভুমিষ্টের আগেই ৫ হাজার টাকা অগ্রিম নেন তিনি। বাকী টাকা সন্তান ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর দেওয়ার কথা ছিল। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত রাবেয়ার বাড়িতে যান ইউএনও দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। পরে কিছুদিন পরেই রাবেয়া একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন।

অবশেষে ৫ নভেম্বর আশা ও গ্রামীণ ব্যাংকের সমস্ত ঋণের টাকা পরিশোধ করেন ইউএনও। একই সঙ্গে মহিলা বিষয়ক দপ্তর থেকে তার জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতার ব্যবস্থা করা হয়।