আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির (DDMC) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৮ জুন, রবিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। সভাটি জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) এবং এর বাস্তবায়নকারী সংস্থা উন্নয়ন সংঘের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, প্রতি বছর জামালপুর জেলার মানুষ বন্যার দুর্ভোগের শিকার হয়। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই এ ধরনের প্রস্তুতিমূলক সভা আয়োজনের জন্য তিনি UNFPA ও উন্নয়ন সংঘকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, দুর্যোগকালীন সহায়তায় অধিকাংশ সংস্থা সাধারণত খাদ্য, বস্ত্র ও আশ্রয়কেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও UNFPA নারীদের ও কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (GBV) প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। যা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, সরকারি ত্রাণ সহায়তার আওতায় প্রজনন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা বিবেচনা করতে এবং বন্যাকালে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নিতে।
উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ উন্নয়ন পরিচালক জাাঙ্গীর সেলিমের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আফসানা তাসলিম, ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হোসাইন, বকশিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোরাদ হোসেন, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহেল কাফি, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রোকোনুল ইসলাম, দৈনিক আলোচিত জামালপুরের নির্বাহী সম্পাদক সাযযাদ আনসারী প্রমুখ।

সভায় UNFPA-এর ফিল্ড অফিসার ও জেলা ফোকাল পারসন মো. আতাহার আলী পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে সংস্থাটির মানবিক কার্যক্রম, বিশেষ করে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সাড়াদান কার্যক্রমে Anticipatory Action বা আগাম পূর্বাভাসভিত্তিক উদ্যোগের ধারণা ও এর সুফল তুলে ধরেন। পাশাপাশি মানবিক প্রস্তুতি ও সাড়াদানে UNFPA-এর বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করেন। এ ছাড়া, ২০২৬ সালের UNFPA এর সহায়তা পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) UNFPA-এর চলমান কার্যক্রম এবং ২০২৬ সালে বন্যাপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
সভায় বকশীগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতিবছরের বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে মোকাবিলায় নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, পলি অপসারণ এবং নদীর প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া সভায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত থেকে দুর্যোগ প্রস্তুতি, মানবিক সহায়তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন বিষয়ে মতামত প্রদান করেন। মাস্টারপ্লানের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙ্গন রোধ, নারী ও শিশুবান্ধব আশ্রয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠাসহ দুর্যোগকালীন জেন্ডার সংবেদনশীল পরিবেশ তৈরিতে সবাই সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সভায় সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও সাংবাদিকবৃন্দ অংশ নেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলারচিঠিডটকম 


















