ঢাকা ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সহজপাঠ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সরিষাবাড়ীতে হয়ে গেল ঘুড়ি উৎসব

সরিষাবাড়ী : ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর এই লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম একটি বড় অনুষঙ্গ হলো ঘুড়ি উড়ানো। গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় সহজপাঠ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এক জমকালো ‘ঐতিহ্যবাড়ী ঘুড়ি উৎসব’।

২০ জুন, শনিবার বিকাল থেকেই উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় খোলা মাঠে ভীড় করে শত শত মানুষ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা রূপ নেয় এক মিলনমেলায়।

ঘুড়ি উৎসবে সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, ২০ জুন দুপুর থেকে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের হাসরা মাজালিয়া এলাকার খোলা মাঠে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাড়ী ঘুড়ি উড়ানো দেখতে আসে সব শ্রেশি ও পেশার মানুষ বিকাল গড়াতেই আকাশে উড়তে শুরু করে নানা রঙের ও আকৃতির ঘুড়ি। উৎসবে প্রতিযোগীরা তাদের নিজের হাতে তৈরি বৈচিত্র্যময় সব ঘুড়ি নিয়ে হাজির হন। বাতাসে ডানা মেলে চিল ঘুড়ি, ঈগল ঘুড়ি, চং ঘুড়িসহ বাহারি রঙের ঘুড়ি। একে অন্যের ঘুড়ির সুতো কাটার এই চিরচেনা প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে পুরো মাঠ।

সরিষাবাড়ী : ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও আয়োজক অতিথিবৃন্দ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতা ছাড়াও শিশু-কিশোরদের আনন্দ দিতে আয়েজন করা হয় হাঁড়ি ভাঙা, কলা গাছ ও সাবান মাখা খেলা। গ্রামীণ এ খেলা শুরু হতেই দর্শকদের তুমুল করতালিতে মুখর হয়ে উঠল পুরো এলাকা।

তারাকান্দি থেকে উৎস দেখতে আসা জমির উদ্দিন বলেন,  গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য খেলাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে প্রায়। গ্রামীণ এই খেলার আয়োজন শুনে পরিবার-পরিজন নিয়ে দেখতে এসেছি। অনেক আনন্দ হয়েছে। প্রতি বছর এই আয়োজনের দাবি জানান তারা।

ঘুড়ি উৎসবের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা কহিনুর মিয়া বলেন, ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আগত দর্শকদের আনন্দ দিতে পেয়ে আমরাও খুশি। গ্রামীণ খেলাগুলো সরকারিভাবে আয়োজনের দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ বেতার ময়মনসিংহের উপস্থাপক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, সুস্থ বিনোদনের অভাবে তরুণ-তরূণীরা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এমন সুন্দর আয়োজন হলে আবারো সুস্থ বিনোদন ফিরে আসবে। সমাজটা ভালোর দিকে এগিয়ে যাবে।

সরিষাবাড়ী : ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জামালপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রবিউল ইসলাম বলেন, সহজপাঠ ফাউন্ডেশন প্রতি বছরের ন্যায় এবারো ঘুড়ি উড়ানো উৎসবসহ বিভিন্ন দেশীয় খেলার আয়োজন করে। গ্রামীণ এই খেলাগুলো দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে সব বয়সের মানুষ আসে। সুস্থ বিনোদনের জন্য গ্রামীণ এই খেলার বিকল্প নেই। এ সময় তিনি সহজপাঠ ফাউন্ডেশনের পরিচালকে ধন্যবাদ জানান।

এ ব্যাপারে সহজপাঠ ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও খেলার আয়োজক আতিফ আসাদ বলেন, মাদক ও জুয়ার আসক্তি থেকে যুব সমাজকে রক্ষা ও নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ এই খেলা তুলে ধরতে এই আয়োজন। প্রতি বছর গ্রামীণ লোকজ এই সংস্কৃতির আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।

সরিষাবাড়ী :  ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জনপ্রিয় সংবাদ

সহজপাঠ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সরিষাবাড়ীতে হয়ে গেল ঘুড়ি উৎসব

সহজপাঠ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সরিষাবাড়ীতে হয়ে গেল ঘুড়ি উৎসব

আপডেট সময় ১১:২৫:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর এই লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম একটি বড় অনুষঙ্গ হলো ঘুড়ি উড়ানো। গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় সহজপাঠ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এক জমকালো ‘ঐতিহ্যবাড়ী ঘুড়ি উৎসব’।

২০ জুন, শনিবার বিকাল থেকেই উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় খোলা মাঠে ভীড় করে শত শত মানুষ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা রূপ নেয় এক মিলনমেলায়।

ঘুড়ি উৎসবে সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, ২০ জুন দুপুর থেকে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের হাসরা মাজালিয়া এলাকার খোলা মাঠে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাড়ী ঘুড়ি উড়ানো দেখতে আসে সব শ্রেশি ও পেশার মানুষ বিকাল গড়াতেই আকাশে উড়তে শুরু করে নানা রঙের ও আকৃতির ঘুড়ি। উৎসবে প্রতিযোগীরা তাদের নিজের হাতে তৈরি বৈচিত্র্যময় সব ঘুড়ি নিয়ে হাজির হন। বাতাসে ডানা মেলে চিল ঘুড়ি, ঈগল ঘুড়ি, চং ঘুড়িসহ বাহারি রঙের ঘুড়ি। একে অন্যের ঘুড়ির সুতো কাটার এই চিরচেনা প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে পুরো মাঠ।

সরিষাবাড়ী : ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও আয়োজক অতিথিবৃন্দ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতা ছাড়াও শিশু-কিশোরদের আনন্দ দিতে আয়েজন করা হয় হাঁড়ি ভাঙা, কলা গাছ ও সাবান মাখা খেলা। গ্রামীণ এ খেলা শুরু হতেই দর্শকদের তুমুল করতালিতে মুখর হয়ে উঠল পুরো এলাকা।

তারাকান্দি থেকে উৎস দেখতে আসা জমির উদ্দিন বলেন,  গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য খেলাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে প্রায়। গ্রামীণ এই খেলার আয়োজন শুনে পরিবার-পরিজন নিয়ে দেখতে এসেছি। অনেক আনন্দ হয়েছে। প্রতি বছর এই আয়োজনের দাবি জানান তারা।

ঘুড়ি উৎসবের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা কহিনুর মিয়া বলেন, ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আগত দর্শকদের আনন্দ দিতে পেয়ে আমরাও খুশি। গ্রামীণ খেলাগুলো সরকারিভাবে আয়োজনের দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ বেতার ময়মনসিংহের উপস্থাপক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, সুস্থ বিনোদনের অভাবে তরুণ-তরূণীরা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এমন সুন্দর আয়োজন হলে আবারো সুস্থ বিনোদন ফিরে আসবে। সমাজটা ভালোর দিকে এগিয়ে যাবে।

সরিষাবাড়ী : ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জামালপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রবিউল ইসলাম বলেন, সহজপাঠ ফাউন্ডেশন প্রতি বছরের ন্যায় এবারো ঘুড়ি উড়ানো উৎসবসহ বিভিন্ন দেশীয় খেলার আয়োজন করে। গ্রামীণ এই খেলাগুলো দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে সব বয়সের মানুষ আসে। সুস্থ বিনোদনের জন্য গ্রামীণ এই খেলার বিকল্প নেই। এ সময় তিনি সহজপাঠ ফাউন্ডেশনের পরিচালকে ধন্যবাদ জানান।

এ ব্যাপারে সহজপাঠ ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও খেলার আয়োজক আতিফ আসাদ বলেন, মাদক ও জুয়ার আসক্তি থেকে যুব সমাজকে রক্ষা ও নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ এই খেলা তুলে ধরতে এই আয়োজন। প্রতি বছর গ্রামীণ লোকজ এই সংস্কৃতির আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।

সরিষাবাড়ী :  ছবি : বাংলারচিঠিডটকম