ঢাকা ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আবৃত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জামালপুরের মারিয়া জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবি জানালো দেওয়ানগঞ্জবাসী পুড়িয়ে হত্যা : আসামির মৃত্যুদণ্ড, ধর্ষণ : আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড জামালপুরে বাল্যবিবাহ-শিশুশ্রম প্রতিরোধে সাংবাদিকদের সঙ্গে এপির মতবিনিময় বীর মুক্তিযোদ্ধা বারী মণ্ডল আর নেই, তাঁর প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন জামালপুরে অংশীজনদের সাথে সমঝোতা স্মারক ও কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ বিএনপিনেতা জিএস ফিরোজ মিয়ার গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ সংসদ সদস্য শামীম তালুকদারের রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল বকশীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু

জামালপুরে বাল্যবিবাহ-শিশুশ্রম প্রতিরোধে সাংবাদিকদের সঙ্গে এপির মতবিনিময়

জামালপুর : বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিম। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও শিশুদের স্কুল থেকে ঝরেপড়া প্রতিরোধে গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে ওয়ার্ল্ড ভিশন ও উন্নয়ন সংঘের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রাম (এপি)।

১৭ জুন, বুধবার বিকালে জামালপুর পৌর শহরের দেউরপাড় চন্দ্রা এলাকায় উন্নয়ন সংঘের ডিটিআরসি হলরুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিনারা পারভীন।

এ সময় প্রেসক্লাব জামালপুরের সভাপতি মো. মুখলেছুর রহমান লিখন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সাগর ফারাজী, সাইমুম সাব্বির শোভন, কোষাধ্যক্ষ ময়না আকন্দসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।

সভায় উপস্থাপিত প্রকল্পের ধারণাপত্রে এরিয়া প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিনারা পারভীন জানান, ২০২১ সালের অক্টোবরে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়। যা ২০৩৩ সাল পর্যন্ত চলবে। শুরুতে জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ও শরীফপুর ইউনিয়ন এবং জামালপুর পৌরসভার চারটি ওয়ার্ডে কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ১০টি ওয়ার্ডে প্রকল্পের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার শিশুকে নিয়ে কাজ করছে প্রকল্পটি। শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়া ও ঝরেপড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা, নিয়মিত পাঠদানে সম্পৃক্ত রাখা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতন করতে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

মিনারা পারভীন জানান, এছাড়া হতদরিদ্র পরিবারের শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন দল গঠন করা হয়েছে। জীবিকায়ন কর্মসূচির আওতায় ৩৬০ জন উপকারভোগীর মাঝে নগদ আর্থিক সহায়তা ও ছাগল বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আরও ৪২০ জনকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্বাবলম্বী করতে ক্ষুদ্র ব্যবসা, আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে উপকারভোগী পরিবারগুলোকে বাড়ির আঙিনায় দেশীয় সবজির বাগান স্থাপনে উৎসাহ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ এবং শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে ঝরেপড়া দেশের উন্নয়নের পথে বড় বাধা। এসব সমস্যা দূর করতে সরকার, বেসরকারি সংস্থা, জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

জাহাঙ্গীর সেলিম আরও বলেন, জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রাম শিশুদের সর্বোত্তম সুরক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ। প্রতিটি কার্যক্রম নেয়া হয় শিশু কল্যাণ, বিকাশ ও সার্বিক উন্নয়নকে সামনে রেখে। শিশুদের জন্য এই ধরনের কার্যক্রমের ধারণা সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সমন্বিত উদ্যোগ এবং সামাজিক জাগরণ ছাড়া বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম এবং শিশুদের স্কুল থেকে ঝরেপড়া রোধ করা সম্ভব নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

আবৃত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জামালপুরের মারিয়া

জামালপুরে বাল্যবিবাহ-শিশুশ্রম প্রতিরোধে সাংবাদিকদের সঙ্গে এপির মতবিনিময়

আপডেট সময় ১০:১৯:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও শিশুদের স্কুল থেকে ঝরেপড়া প্রতিরোধে গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে ওয়ার্ল্ড ভিশন ও উন্নয়ন সংঘের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রাম (এপি)।

১৭ জুন, বুধবার বিকালে জামালপুর পৌর শহরের দেউরপাড় চন্দ্রা এলাকায় উন্নয়ন সংঘের ডিটিআরসি হলরুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিনারা পারভীন।

এ সময় প্রেসক্লাব জামালপুরের সভাপতি মো. মুখলেছুর রহমান লিখন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সাগর ফারাজী, সাইমুম সাব্বির শোভন, কোষাধ্যক্ষ ময়না আকন্দসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।

সভায় উপস্থাপিত প্রকল্পের ধারণাপত্রে এরিয়া প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিনারা পারভীন জানান, ২০২১ সালের অক্টোবরে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়। যা ২০৩৩ সাল পর্যন্ত চলবে। শুরুতে জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ও শরীফপুর ইউনিয়ন এবং জামালপুর পৌরসভার চারটি ওয়ার্ডে কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ১০টি ওয়ার্ডে প্রকল্পের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার শিশুকে নিয়ে কাজ করছে প্রকল্পটি। শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়া ও ঝরেপড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা, নিয়মিত পাঠদানে সম্পৃক্ত রাখা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতন করতে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

মিনারা পারভীন জানান, এছাড়া হতদরিদ্র পরিবারের শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন দল গঠন করা হয়েছে। জীবিকায়ন কর্মসূচির আওতায় ৩৬০ জন উপকারভোগীর মাঝে নগদ আর্থিক সহায়তা ও ছাগল বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আরও ৪২০ জনকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্বাবলম্বী করতে ক্ষুদ্র ব্যবসা, আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে উপকারভোগী পরিবারগুলোকে বাড়ির আঙিনায় দেশীয় সবজির বাগান স্থাপনে উৎসাহ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ এবং শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে ঝরেপড়া দেশের উন্নয়নের পথে বড় বাধা। এসব সমস্যা দূর করতে সরকার, বেসরকারি সংস্থা, জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

জাহাঙ্গীর সেলিম আরও বলেন, জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রাম শিশুদের সর্বোত্তম সুরক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ। প্রতিটি কার্যক্রম নেয়া হয় শিশু কল্যাণ, বিকাশ ও সার্বিক উন্নয়নকে সামনে রেখে। শিশুদের জন্য এই ধরনের কার্যক্রমের ধারণা সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সমন্বিত উদ্যোগ এবং সামাজিক জাগরণ ছাড়া বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম এবং শিশুদের স্কুল থেকে ঝরেপড়া রোধ করা সম্ভব নয়।