ঢাকা ০১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘোড়াগাড়ি চালকের ছয় বছর বয়সের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত স্বজনেরা

মাদারগঞ্জ : নদীতে ডুবে নিহত ঘোড়াগাড়ি চালক জুলহাস উদ্দিনের শিশু সন্তান রাহাত। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জন্মের সাতদিনের মাথায় মা ছেড়ে চলে যান। এরপর বাবা ও দাদির স্নেহে বড় হচ্ছিল ছোট্ট রাহাত। কিন্তু সেই আশ্রয়ও আর রইল না। চোখের সামনেই নদীতে ডুবে প্রাণ হারালেন বাবা জুলহাস উদ্দিন। মায়ের স্নেহবঞ্চিত শিশুটি এবার বাবাকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি এলাকায়।

নিহত জুলহাস উদ্দিন (৪০) ওই এলাকার মৃত আনার ব্যাপারীর ছেলে। তিনি ঘোড়াগাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয়রা জানান, ৬ জুন, শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ঝাড়কাটা নদীতে ঘোড়াকে গোসল করাতে যান জুলহাস। এ সময় সঙ্গে ছিল তার ছয় বছরের ছেলে রাহাত। একপর্যায়ে নদীর পানিতে তলিয়ে যান তিনি। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। ৬ জুন রাতেই জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাহাত বাবার মৃত্যুর ঘটনা বর্ণনা দিয়ে বলেন, আব্বা ঘোড়া নিয়া নদীতে নামছিল। পরে হঠাৎ পানির মধ্যে ডুইবা যায়। বারবার বাবা হাত নাড়াচ্ছিল। আমি অনেক ডাকাডাকি করছি। আব্বা আর উঠে আসে নাই।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাহাতের জন্মের মাত্র সাতদিনের মাথায় তাকে রেখে চলে যান তার মা। এরপর বাবা জুলহাস উদ্দিন ও দাদি জোসনা বেগম অনেক কষ্ট করে তাকে লালন-পালন করছিলেন। বাবাই ছিল রাহাতের একমাত্র ভরসা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এত অল্প বয়সে মা-বাবা হারানো রাহাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিশুটির পাশে প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জুলহাসের বৃদ্ধা মা জোসনা বেগম বলেন, রাহাতের মা জন্মের সাতদিনের সময় ওরে ছাইড়া চইলা যায়। আমার ছেলে অনেক কষ্ট কইরা নাতিডারে মানুষ করতেছিল। এখন সেই ছেলেও মারা গেল। এত ছোট বাচ্চাডা এখন কারে বাবা ডাকবো?

প্রতিবেশী সুমন মিয়া বলেন, জুলহাস ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আয়েই চলত বৃদ্ধা মা ও শিশু সন্তানের সংসার। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, নদীতে ডুবে জুলহাস উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম খালেক এ প্রতিবেদককে বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে জামালপুর শহরে সরকারি শিশু পরিবারসহ তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রাহাতের আত্মীয়-স্বজনরা ইচ্ছুক থাকলে আমরা তার দায়িত্ব নিতে চাই। ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত তার লেখাপড়া, ভরণ-পোষণসহ সব ধরনের দায়িত্বভার সরকারিভাবে বহন করা হবে।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনাটি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সহযোগিতার জন্য লিখিত আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘোড়াগাড়ি চালকের ছয় বছর বয়সের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত স্বজনেরা

আপডেট সময় ০৯:৫০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

জন্মের সাতদিনের মাথায় মা ছেড়ে চলে যান। এরপর বাবা ও দাদির স্নেহে বড় হচ্ছিল ছোট্ট রাহাত। কিন্তু সেই আশ্রয়ও আর রইল না। চোখের সামনেই নদীতে ডুবে প্রাণ হারালেন বাবা জুলহাস উদ্দিন। মায়ের স্নেহবঞ্চিত শিশুটি এবার বাবাকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি এলাকায়।

নিহত জুলহাস উদ্দিন (৪০) ওই এলাকার মৃত আনার ব্যাপারীর ছেলে। তিনি ঘোড়াগাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয়রা জানান, ৬ জুন, শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ঝাড়কাটা নদীতে ঘোড়াকে গোসল করাতে যান জুলহাস। এ সময় সঙ্গে ছিল তার ছয় বছরের ছেলে রাহাত। একপর্যায়ে নদীর পানিতে তলিয়ে যান তিনি। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। ৬ জুন রাতেই জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাহাত বাবার মৃত্যুর ঘটনা বর্ণনা দিয়ে বলেন, আব্বা ঘোড়া নিয়া নদীতে নামছিল। পরে হঠাৎ পানির মধ্যে ডুইবা যায়। বারবার বাবা হাত নাড়াচ্ছিল। আমি অনেক ডাকাডাকি করছি। আব্বা আর উঠে আসে নাই।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাহাতের জন্মের মাত্র সাতদিনের মাথায় তাকে রেখে চলে যান তার মা। এরপর বাবা জুলহাস উদ্দিন ও দাদি জোসনা বেগম অনেক কষ্ট করে তাকে লালন-পালন করছিলেন। বাবাই ছিল রাহাতের একমাত্র ভরসা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এত অল্প বয়সে মা-বাবা হারানো রাহাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিশুটির পাশে প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জুলহাসের বৃদ্ধা মা জোসনা বেগম বলেন, রাহাতের মা জন্মের সাতদিনের সময় ওরে ছাইড়া চইলা যায়। আমার ছেলে অনেক কষ্ট কইরা নাতিডারে মানুষ করতেছিল। এখন সেই ছেলেও মারা গেল। এত ছোট বাচ্চাডা এখন কারে বাবা ডাকবো?

প্রতিবেশী সুমন মিয়া বলেন, জুলহাস ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আয়েই চলত বৃদ্ধা মা ও শিশু সন্তানের সংসার। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, নদীতে ডুবে জুলহাস উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম খালেক এ প্রতিবেদককে বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে জামালপুর শহরে সরকারি শিশু পরিবারসহ তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রাহাতের আত্মীয়-স্বজনরা ইচ্ছুক থাকলে আমরা তার দায়িত্ব নিতে চাই। ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত তার লেখাপড়া, ভরণ-পোষণসহ সব ধরনের দায়িত্বভার সরকারিভাবে বহন করা হবে।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনাটি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সহযোগিতার জন্য লিখিত আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।