ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন রুখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কন্যাশিশু ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক জনতার হাতে আটক যোগিরঘোপায় পানিবন্দি ২০০ পরিবার পেল বিএনপির ত্রাণ সহায়তা শেরপুরে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কৃষি উপকরণ বিতরণ দেওয়ানগঞ্জে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিডি ক্লিন প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ জামানত ছাড়াই ৫ কোটি টাকা ঋণ পাবে তরুণ উদ্যোক্তারা : প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে ইংল্যান্ড জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের কার্যক্রমকে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হেফাজ উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ
রানীগঞ্জ যৌনপল্লী :

অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের জামালপুর অফিসে দিনব্যাপী চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত

জামালপুর : চিকিৎসাসেবা দেন ডাক্তার মোবাশ্বিরা হক, ডাক্তার ফৌজিয়া আবিদা ও সাকমো নিকুঞ্জ কর্মকার। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর শহরের রানীগঞ্জ যৌনপল্লীতে বসবাসরত নারীদের জন্য যৌনপল্লী সংলগ্ন অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের অফিসে ২৩ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার দিনব্যাপী চিকিৎসা শিবির পরিচালিত হয়েছে। দাতা সংস্থা ইউএন-উইমেন এর অর্থায়নে অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।

দিনব্যাপী এই চিকিৎসা শিবিরে চিকিৎসাসেবা দেন জামালপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মোবাশ্বিরা হক এবং জেলার মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ফৌজিয়া আবিদা। তারা দু’জন রানীগঞ্জ যৌনপল্লীর নারী ও শিশু রোগীদের বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধসেবন ও পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন। রোগীদের প্রেসার মাপা ও ওজন মাপাসহ অন্যান্য চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে দু’জন চিকিৎসককে সার্বিক সহযোগিতা করেন ইটাইল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার (সাকমো) নিকুঞ্জ কর্মকার। এই চিকিৎসা শিবিরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন অপরাজেয়-বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের দু’জন মাঠ কর্মকর্তা রীনা আক্তার ও হাফিজা খাতুন।

সংযোগ প্রকল্পের এই চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রানীগঞ্জ যৌনপল্লীর নারীরা তাদের হাতের কাছে দু’জন ডাক্তার পেয়ে খুব সহজেই বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে খুবই খুশি। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নারী যৌনকর্মী বলেন, আমার কানের আর গলার সমস্যা। খুবই সমস্যায় আছি। বাইরে ডাক্তার দেখাবার পাই না। আজকে এখানে ডাক্তার দেখামু। কোনো ভিজিট লাগে না। আমগরে জন্যে ভালো হইছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন নারী যৌনকর্মী (৫০) বললেন, আমার শরীরে মেলা সমস্যা। প্রেসারের সমস্যা। পায়খানার সমস্যা। এখানে ডাক্তার মেডামরে দেখাইছি। ওষুধ লিখে দিছেন। খাইতাছি। আমগরের জন্যে মেলা সুবিধা হইছে। এইখানের সব মেয়েরাই চিকিৎসা পরামর্শ পাইতাছে। ডাক্তার মেডামরা খুবই ভালো। সবকিছু বলা যায়। তারা সবকিছু আগে শুনেন। তারপর ওষুধ লেইখা দেন। অন্যান্য পরামর্শ দেন। এইখান থেকেই যদি আমগরে কিছু ওষুধও দিত। তাইলে আরও ভাল হইত। ওষুধের অনেক দাম। ওষুধ কিনা চিকিৎসা করা খুবই কঠিন আমগরে জন্যে।

সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া দিনব্যাপী এই চিকিৎসা শিবিরে ১১১ জন নারী, তিনজন প্রতিবন্ধী শিশু ও একজন পুরুষ রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শিবিরে রোগীদের রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত শুনে রক্তচাপ ও ওজন পরিমাপ করে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। এছাড়াও তাদের মাঝে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

জামালপুর : চিকিৎসাসেবা দেন ডাক্তার মোবাশ্বিরা হক, ডাক্তার ফৌজিয়া আবিদা ও সাকমো নিকুঞ্জ কর্মকার। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

চিকিৎসা শিবির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসাসেবা নিতে আসার নারীদের অনেকেই বলেছেন বাইরে ওষুধের অনেক দাম। তারা কম দামের ওষুধ লিখে দিতে বলেন। এ প্রসঙ্গে ডাক্তার মোবাশ্বিরা হক এ প্রতিবেদককে বলেন, যে রোগী বলেছেন তিনি হাই প্রেসারের রোগী। আমি চাইলেও কমদামের ওষুধে তার কাজ করবে না। আসলে পাঁচ-দশ টাকার ওষুধে ওনার কিছুই হবে না। তাকে বিষয়টি বলেই দিয়েছি। আমি তাকে একটা মাঝারি দামের মধ্যে ওষুধ লিখে দিয়েছি। আশা করি এগুলো নিয়মিত খেলে তার বেশ ভাল কাজে দিবে।

তিনি আরও বলেন, আসলে একজন রোগী যখন ডাক্তারের কাছে আসেন। চিকিৎসা শুরু করেন। তখন তার উন্নতি হতে থাকে। রোগ ভাল হতে শুরু করে। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে যে, এখানকার নারীদের অনেকেই গরিব। তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নেই। কিন্তু আমাদের কাছে আসার পর আমরা যে তাদের কাউন্সেলিং করতেছি। অনুরোধ করছি ওষুধগুলো নিয়মিত খান। এতে তারা সামান্য হলেও তো উপকৃত হচ্ছে। এই নারীরা কিন্তু তাদের দেহের বিভিন্ন রোগ ও চিকিৎসা বিষয়ে আগের চাইতে বেশ সচেতন হচ্ছেন। এটাও একটা ভাল দিক। তারা আমাদের কাছ থেকে সঠিক নির্দেশনা ও তথ্য পাচ্ছেন।

ডাক্তার ফৌজিয়া আবিদা বলেন, এখন তো শীতকাল। আজকে অধিকাংশ রোগীই আসেন জ্বর, ঠাণ্ডা, সর্দিকাশি নিয়ে। আর যারা বয়স্ক তাদের তো বেশি সমস্যা হল কোমর ব্যথা। বয়স্ক কয়েকজন নারীর চোখের ছানিপড়াও পেয়েছি। তারা আসলে চোখের কোন ডাক্তারের কাছে যাবেন। কোন হাসপাতালে যাবেন। নাকি অন্য কোথাও চিকিৎসা নিবেন। এই ব্যাপারে তাদেরকে একটা নির্দেশনা দিয়ে দিচ্ছি। তারা যদি সেই ডাক্তারদের কাছে যায় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসা নিতে পারবেন। এর আগে যারা বিশেষ করে তাদের শরীরের জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথার রোগী আসছিলেন। আজকে দেখলাম তাদের সেই সমস্যা অনেকটাই কমে আসছে। ওষুধগুলো নিয়মিত খেয়ে যেতে বলেছি। বলা যায় যে, যারা বিভিন্ন রোগের বিষয়ে পরামর্শ নিতে আসেন, তাদের অনেকেরই ভাল কাজে দিচ্ছে।

উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার (সাকমো) নিকুঞ্জ কর্মকার বলেন, এখানে আর গ্রামের মধ্যে পার্থক্য হল গ্রামে সবাই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসে ভিড় করেন। তাদের আগ্রহ অনেক। কিন্তু এখানে দেখা গেল এখানকার নারীরা আসতে চায় না। তাদেরকে ডেকে ডেকে আনতে হচ্ছে। যারা আসছেন তারা কিন্তু চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। তাদের অনেকেই ভালও হচ্ছেন। তাবে এখানে এই চিকিৎসা শিবিরের দিন যদি এখানকার রোগীদের কিছু কিছু ওষুধ দেওয়া যেত তাহলে অনেক ভাল হত।

সংযোগ প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা রীনা আক্তার এ প্রতিবেদককে বলেন, রানীগঞ্জ যৌনপল্লীর নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরের এটিই শেষ চিকিৎসা শিবির। এই প্রকল্পের আওতায় এই যৌনপল্লীর ২০০ নারীকে গত এক বছরে পর্যায়ক্রমে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। প্রতিমাসে ২০ জন নারীকে সিভিল সার্জন অফিসে নিয়ে যাই। সেখানে মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মোবাশ্বিরা হক চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

রোগীদের মাঝে ওষুধ বিতরণ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা এখানকার নারীদের কথা বিবেচনা করে বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার বিষয়টি প্রকল্পের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। আসলে এই প্রকল্পটি যেভাবে নেয়া হয়েছে। আমরা মাঠপর্যায়ে সেভাবেই কার্যক্রম পরিচালনা করছি। চিকিৎসা শিবিরসহ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো থেকে শুরু করে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন রুখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

রানীগঞ্জ যৌনপল্লী :

অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের জামালপুর অফিসে দিনব্যাপী চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ১২:৪৬:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

জামালপুর শহরের রানীগঞ্জ যৌনপল্লীতে বসবাসরত নারীদের জন্য যৌনপল্লী সংলগ্ন অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের অফিসে ২৩ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার দিনব্যাপী চিকিৎসা শিবির পরিচালিত হয়েছে। দাতা সংস্থা ইউএন-উইমেন এর অর্থায়নে অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।

দিনব্যাপী এই চিকিৎসা শিবিরে চিকিৎসাসেবা দেন জামালপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মোবাশ্বিরা হক এবং জেলার মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ফৌজিয়া আবিদা। তারা দু’জন রানীগঞ্জ যৌনপল্লীর নারী ও শিশু রোগীদের বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধসেবন ও পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন। রোগীদের প্রেসার মাপা ও ওজন মাপাসহ অন্যান্য চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে দু’জন চিকিৎসককে সার্বিক সহযোগিতা করেন ইটাইল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার (সাকমো) নিকুঞ্জ কর্মকার। এই চিকিৎসা শিবিরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন অপরাজেয়-বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের দু’জন মাঠ কর্মকর্তা রীনা আক্তার ও হাফিজা খাতুন।

সংযোগ প্রকল্পের এই চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রানীগঞ্জ যৌনপল্লীর নারীরা তাদের হাতের কাছে দু’জন ডাক্তার পেয়ে খুব সহজেই বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে খুবই খুশি। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নারী যৌনকর্মী বলেন, আমার কানের আর গলার সমস্যা। খুবই সমস্যায় আছি। বাইরে ডাক্তার দেখাবার পাই না। আজকে এখানে ডাক্তার দেখামু। কোনো ভিজিট লাগে না। আমগরে জন্যে ভালো হইছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন নারী যৌনকর্মী (৫০) বললেন, আমার শরীরে মেলা সমস্যা। প্রেসারের সমস্যা। পায়খানার সমস্যা। এখানে ডাক্তার মেডামরে দেখাইছি। ওষুধ লিখে দিছেন। খাইতাছি। আমগরের জন্যে মেলা সুবিধা হইছে। এইখানের সব মেয়েরাই চিকিৎসা পরামর্শ পাইতাছে। ডাক্তার মেডামরা খুবই ভালো। সবকিছু বলা যায়। তারা সবকিছু আগে শুনেন। তারপর ওষুধ লেইখা দেন। অন্যান্য পরামর্শ দেন। এইখান থেকেই যদি আমগরে কিছু ওষুধও দিত। তাইলে আরও ভাল হইত। ওষুধের অনেক দাম। ওষুধ কিনা চিকিৎসা করা খুবই কঠিন আমগরে জন্যে।

সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া দিনব্যাপী এই চিকিৎসা শিবিরে ১১১ জন নারী, তিনজন প্রতিবন্ধী শিশু ও একজন পুরুষ রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শিবিরে রোগীদের রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত শুনে রক্তচাপ ও ওজন পরিমাপ করে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। এছাড়াও তাদের মাঝে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

জামালপুর : চিকিৎসাসেবা দেন ডাক্তার মোবাশ্বিরা হক, ডাক্তার ফৌজিয়া আবিদা ও সাকমো নিকুঞ্জ কর্মকার। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

চিকিৎসা শিবির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসাসেবা নিতে আসার নারীদের অনেকেই বলেছেন বাইরে ওষুধের অনেক দাম। তারা কম দামের ওষুধ লিখে দিতে বলেন। এ প্রসঙ্গে ডাক্তার মোবাশ্বিরা হক এ প্রতিবেদককে বলেন, যে রোগী বলেছেন তিনি হাই প্রেসারের রোগী। আমি চাইলেও কমদামের ওষুধে তার কাজ করবে না। আসলে পাঁচ-দশ টাকার ওষুধে ওনার কিছুই হবে না। তাকে বিষয়টি বলেই দিয়েছি। আমি তাকে একটা মাঝারি দামের মধ্যে ওষুধ লিখে দিয়েছি। আশা করি এগুলো নিয়মিত খেলে তার বেশ ভাল কাজে দিবে।

তিনি আরও বলেন, আসলে একজন রোগী যখন ডাক্তারের কাছে আসেন। চিকিৎসা শুরু করেন। তখন তার উন্নতি হতে থাকে। রোগ ভাল হতে শুরু করে। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে যে, এখানকার নারীদের অনেকেই গরিব। তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নেই। কিন্তু আমাদের কাছে আসার পর আমরা যে তাদের কাউন্সেলিং করতেছি। অনুরোধ করছি ওষুধগুলো নিয়মিত খান। এতে তারা সামান্য হলেও তো উপকৃত হচ্ছে। এই নারীরা কিন্তু তাদের দেহের বিভিন্ন রোগ ও চিকিৎসা বিষয়ে আগের চাইতে বেশ সচেতন হচ্ছেন। এটাও একটা ভাল দিক। তারা আমাদের কাছ থেকে সঠিক নির্দেশনা ও তথ্য পাচ্ছেন।

ডাক্তার ফৌজিয়া আবিদা বলেন, এখন তো শীতকাল। আজকে অধিকাংশ রোগীই আসেন জ্বর, ঠাণ্ডা, সর্দিকাশি নিয়ে। আর যারা বয়স্ক তাদের তো বেশি সমস্যা হল কোমর ব্যথা। বয়স্ক কয়েকজন নারীর চোখের ছানিপড়াও পেয়েছি। তারা আসলে চোখের কোন ডাক্তারের কাছে যাবেন। কোন হাসপাতালে যাবেন। নাকি অন্য কোথাও চিকিৎসা নিবেন। এই ব্যাপারে তাদেরকে একটা নির্দেশনা দিয়ে দিচ্ছি। তারা যদি সেই ডাক্তারদের কাছে যায় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসা নিতে পারবেন। এর আগে যারা বিশেষ করে তাদের শরীরের জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথার রোগী আসছিলেন। আজকে দেখলাম তাদের সেই সমস্যা অনেকটাই কমে আসছে। ওষুধগুলো নিয়মিত খেয়ে যেতে বলেছি। বলা যায় যে, যারা বিভিন্ন রোগের বিষয়ে পরামর্শ নিতে আসেন, তাদের অনেকেরই ভাল কাজে দিচ্ছে।

উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার (সাকমো) নিকুঞ্জ কর্মকার বলেন, এখানে আর গ্রামের মধ্যে পার্থক্য হল গ্রামে সবাই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসে ভিড় করেন। তাদের আগ্রহ অনেক। কিন্তু এখানে দেখা গেল এখানকার নারীরা আসতে চায় না। তাদেরকে ডেকে ডেকে আনতে হচ্ছে। যারা আসছেন তারা কিন্তু চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। তাদের অনেকেই ভালও হচ্ছেন। তাবে এখানে এই চিকিৎসা শিবিরের দিন যদি এখানকার রোগীদের কিছু কিছু ওষুধ দেওয়া যেত তাহলে অনেক ভাল হত।

সংযোগ প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা রীনা আক্তার এ প্রতিবেদককে বলেন, রানীগঞ্জ যৌনপল্লীর নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরের এটিই শেষ চিকিৎসা শিবির। এই প্রকল্পের আওতায় এই যৌনপল্লীর ২০০ নারীকে গত এক বছরে পর্যায়ক্রমে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। প্রতিমাসে ২০ জন নারীকে সিভিল সার্জন অফিসে নিয়ে যাই। সেখানে মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মোবাশ্বিরা হক চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

রোগীদের মাঝে ওষুধ বিতরণ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা এখানকার নারীদের কথা বিবেচনা করে বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার বিষয়টি প্রকল্পের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। আসলে এই প্রকল্পটি যেভাবে নেয়া হয়েছে। আমরা মাঠপর্যায়ে সেভাবেই কার্যক্রম পরিচালনা করছি। চিকিৎসা শিবিরসহ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো থেকে শুরু করে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি।