ময়মনসিংহের ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার পর তার মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পোড়ানোসহ সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের উপর চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকালে জামালপুর শহরের দয়াময়ী মোড়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়ছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, জামালপুর জেলা শাখার ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, জেলা শাখার সভাপতি প্রদীপ কুমার সোম রানুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লক্ষীকান্ত পন্ডিত, সাধারণ সম্পাদক রমেন বণিক, সহ-সভাপতি অজয় পাল, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সুভাশীষ তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক পরিতোষ পন্ডিত, উদীচী জেলা সংসদের সহ-সভাপতি গৌতম সিংহ সাহা, দয়াময়ী মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন কুমার সিংহ চপল, পুজা উদযাপন পরিষদ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধার্থ শংকর রায়, সদর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার দেবনাথ, প্রণব বসাক সুবল, দিপক সাহা প্রমুখ।
হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লক্ষীকান্ত পন্ডিত, সাধারণ সম্পাদক রমেন বণিক ময়মনসিংহের ভালুকায় গার্মেন্টসকর্মী দিপু চন্দ্র দাসকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, দিপু চন্দ্র দাসকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। অথচ কোন উপদেষ্টা তার পরিবারের কোন খোঁজ নেননি। আমরা কি এদেশের নাগরিক না। নাকি আপনারা আমাদের এদেশে রাখতে চান না। ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ৭১ এ বাংলাদেশ হওয়ার পর থেকেই আমাদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করে আসতেছি। কিছুই পাই নাই। তারপরেও আন্দোলন করতেছি। কিন্তু আজকে আমাদের দাঁড়াতে হয়েছে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তার জন্য।
তিনি আরও বলেন, আজকে ধর্ম অবমাননার ধুঁয়া তুলে নিজ হাতে আইন হাতে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে দিপু চন্দ্র দাসকে। অথচ দিপু চন্দ্র দাস এ বিষয়ে কিছুই জানে না। সংখ্যালঘু ও আদিবাসীরা বেঁচে থাকার গ্যারান্টি চাই সরকারের কাছে। আমরা মনে করেছিলাম ৫ আগস্টের পর নতুন একটি বাংলাদেশ পেয়েছি যেখানে বৈষম্য, হানাহানি, ভয়ভীতি থাকবে না। কিন্তু আমাদের সেই আশা ভঙ্গ হয়ে যাচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলারচিঠিডটকম 



















