ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলের আশ্বাস দিল ইরান জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, ‘প্যানিক বায়িং’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার সাংবাদিক প্রবেশে কেন্দ্র সচিবের নিষেধাজ্ঞা মাদারগঞ্জে যমুনার বালুর চরে ফিরেছে সবুজ প্রাণ মাদকাসক্ত ছেলেকে ধরিয়ে দিলেন মা, হল ছয় মাসের জেল জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকারি গুদামে ১৭.৭১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া : তথ্যমন্ত্রী অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি উন্মোচন

লক্ষ্মীরচর ইউপি সদস্য আছানের হত্যাকারীদের ফাঁসি চায় নিহতের পরিবার

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নিহত ইউপি সদস্য আছান আলীর ভাই বকুল হোসেন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নিহত ইউপি সদস্য আছান আলীর ভাই বকুল হোসেন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আছান আলীর হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তার পরিবারের স্বজনরা। ১০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে জামালপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই দাবি জানান নিহত ইউপি সদস্য আছান আলীর ছোট ভাই বকুল হোসেন।

বকুল হোসেন জানান, ২০২৩ সালের ১০ মার্চ জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা বাজারে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের মৃত ছবর উদ্দিনের ছেলে মো. কবির মো. মোস্তফার ছেলে লাইজু মিয়া, হারুনুর রশিদের ছেলে সম্রাট আলী, আব্দুর রহিমের ছেলে মো. মিলনসহ অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জনের একদল লোক দেশীয় অস্ত্র হাতে তার (বকুল হোসেন) ওপর হামলা করে। হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়।

এরপর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই বর্বরোচিত হামলার বিচার চেয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন তারই বড় ভাই লক্ষ্মীরচর ইউপি সদস্য মো. আছান আলী। ওই মামলায় সর্বমোট ২১ জনকে নামীয় আসামিসহ পরিচয় অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়। এরপর থেকে ওই মামলার আসামিরা তার বড় ভাই ইউপি সদস্য মো. আছান আলীকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হত্যার হুমকি দিতে থাকে। কিন্তু এ মামলা তুলে না নেয়ায় ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল আছান আলীকে ওই আসামিরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করে। ওই ঘটনায় আছান আলী নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জামালপুর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

বকুল হোসেন আরও বলেন, আসামিদের নামে থানায় এজাহার দায়ের ও নিজের জীবনের নিরাপত্তা চাইতে গিয়ে প্রাণ দিতে হলো আমার বড় ভাই আছান আলীকে। ৩১ আগস্ট লক্ষ্মীরচর ইউনিয়ন পরিষদের কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষ হারুন অর রশিদের নির্দেশে কবির, লাইজু, রাজু মিয়া, সম্রাট, মিলন, শিমুল, সাঈদ, সেলিম, রিফাত, মাসুদসহ অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জনের দল সন্ত্রাসী ইউপি সদস্য মো. আছান আলীর গতিরোধ করে রাম দা, চাইনিজ কুড়াল ও কোপা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে থাকে। এ সময় আছান আলীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ২৫০ শয্যা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর আছান আলীর অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। ওইদিন রাত ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তাররা ইউপি সদস্য আছান আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।

বকুল হোসেন আরও অভিযোগ করে জানান, শুধুমাত্র তার ওপর হামলার বিচার চেয়ে মামলার বাদী হওয়ায় তার বড় ভাই ইউপি সদস্য আছান আলীকে প্রাণ দিতে হয়েছে। আছান আলী হত্যার ঘটনায় জামালপুর সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

সংবাদ সম্মেলনে এই নৃশংস হত্যার বিচারসহ এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানান নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

সাংবাদিক সম্মেলনে নিহত ইউপি সদস্য আছান আলীর স্ত্রী শিল্পি বেগম, জামাতা শহিদুল ইসলামসহ নিহতের মেয়েরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মো. আছান আলী লক্ষ্মীরচর ইউনিয়ন পরিষদের টানা তিনবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন। ইউপি সদস্য থাকাকালীন তিনি প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন একাধিকবার।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

লক্ষ্মীরচর ইউপি সদস্য আছানের হত্যাকারীদের ফাঁসি চায় নিহতের পরিবার

আপডেট সময় ০৪:৪৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নিহত ইউপি সদস্য আছান আলীর ভাই বকুল হোসেন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আছান আলীর হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তার পরিবারের স্বজনরা। ১০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে জামালপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই দাবি জানান নিহত ইউপি সদস্য আছান আলীর ছোট ভাই বকুল হোসেন।

বকুল হোসেন জানান, ২০২৩ সালের ১০ মার্চ জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা বাজারে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের মৃত ছবর উদ্দিনের ছেলে মো. কবির মো. মোস্তফার ছেলে লাইজু মিয়া, হারুনুর রশিদের ছেলে সম্রাট আলী, আব্দুর রহিমের ছেলে মো. মিলনসহ অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জনের একদল লোক দেশীয় অস্ত্র হাতে তার (বকুল হোসেন) ওপর হামলা করে। হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়।

এরপর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই বর্বরোচিত হামলার বিচার চেয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন তারই বড় ভাই লক্ষ্মীরচর ইউপি সদস্য মো. আছান আলী। ওই মামলায় সর্বমোট ২১ জনকে নামীয় আসামিসহ পরিচয় অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়। এরপর থেকে ওই মামলার আসামিরা তার বড় ভাই ইউপি সদস্য মো. আছান আলীকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হত্যার হুমকি দিতে থাকে। কিন্তু এ মামলা তুলে না নেয়ায় ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল আছান আলীকে ওই আসামিরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করে। ওই ঘটনায় আছান আলী নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জামালপুর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

বকুল হোসেন আরও বলেন, আসামিদের নামে থানায় এজাহার দায়ের ও নিজের জীবনের নিরাপত্তা চাইতে গিয়ে প্রাণ দিতে হলো আমার বড় ভাই আছান আলীকে। ৩১ আগস্ট লক্ষ্মীরচর ইউনিয়ন পরিষদের কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষ হারুন অর রশিদের নির্দেশে কবির, লাইজু, রাজু মিয়া, সম্রাট, মিলন, শিমুল, সাঈদ, সেলিম, রিফাত, মাসুদসহ অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জনের দল সন্ত্রাসী ইউপি সদস্য মো. আছান আলীর গতিরোধ করে রাম দা, চাইনিজ কুড়াল ও কোপা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে থাকে। এ সময় আছান আলীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ২৫০ শয্যা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর আছান আলীর অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। ওইদিন রাত ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তাররা ইউপি সদস্য আছান আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।

বকুল হোসেন আরও অভিযোগ করে জানান, শুধুমাত্র তার ওপর হামলার বিচার চেয়ে মামলার বাদী হওয়ায় তার বড় ভাই ইউপি সদস্য আছান আলীকে প্রাণ দিতে হয়েছে। আছান আলী হত্যার ঘটনায় জামালপুর সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

সংবাদ সম্মেলনে এই নৃশংস হত্যার বিচারসহ এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানান নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

সাংবাদিক সম্মেলনে নিহত ইউপি সদস্য আছান আলীর স্ত্রী শিল্পি বেগম, জামাতা শহিদুল ইসলামসহ নিহতের মেয়েরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মো. আছান আলী লক্ষ্মীরচর ইউনিয়ন পরিষদের টানা তিনবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন। ইউপি সদস্য থাকাকালীন তিনি প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন একাধিকবার।