ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলের আশ্বাস দিল ইরান জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, ‘প্যানিক বায়িং’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার সাংবাদিক প্রবেশে কেন্দ্র সচিবের নিষেধাজ্ঞা মাদারগঞ্জে যমুনার বালুর চরে ফিরেছে সবুজ প্রাণ মাদকাসক্ত ছেলেকে ধরিয়ে দিলেন মা, হল ছয় মাসের জেল জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকারি গুদামে ১৭.৭১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া : তথ্যমন্ত্রী অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি উন্মোচন

নিয়োগে স্বজনপ্রীতি : বকশীগঞ্জে একই প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকসহ ৭ স্বজন

গোয়ালগাঁও পূর্বপাড়া জয়মনা ইছিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়। ইনসেটে প্রধান শিক্ষক। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

গোয়ালগাঁও পূর্বপাড়া জয়মনা ইছিমদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়। ইনসেটে প্রধান শিক্ষক। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবু
নিজস্ব প্রতিবেদক, বকশীগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের বকশীগঞ্জের গোয়ালগাঁও পূর্বপাড়া জয়মনা ইছিমদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫টি পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ সাতটি পদে তার স্বজনদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। এসব পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বকশীগঞ্জ পৌর এলাকার গোয়ালগাঁও পূর্বপাড়ায় ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জয়মনা ইছিমদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়। প্রথমে ২০১০ সালে নিম্ন-মাধ্যমিক স্তরে এবং ২০২২ সালে মাধ্যমিক স্তরে এমপিওভুক্ত হয় এই বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৫০ জন হলেও এখন পর্যন্ত এই বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারীসহ ১৫ জন কর্মরত রয়েছেন।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সারাদেশে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, দুর্নীতির খবর উঠে আসে। এরমধ্যে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের একটি বিদ্যালয়ের একই পরিবারের ১৭ জনের নিয়োগের খবর বের হলে সারাদেশে তোলপাড় হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবারতন্ত্রের বিষয়টি নিয়েও তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

বিশেষ করে গোয়ালগাঁও পূর্বপাড়া জয়মনা ইছিমদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তার স্বজনদের নিয়োগ পাওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালাম বিভিন্ন কায়দায় তার পরিবার ও স্বজনদের শিক্ষক-কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

প্রধান শিক্ষক ছাড়াও তার স্বজনদের মধ্যে যারা রয়েছেন তারা হলেন- তার আপন ভাতিজা মিজানুর রহমানকে সহকারী শিক্ষক (কৃষি শিক্ষা), ভাতিজা মো. আক্তার হোসেনকে সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার, আপন ভাতিজা মো. লিটন মিয়াকে নৈশ প্রহরী, চাচাত ভাইয়ের ছেলে সবুজ মিয়াকে পিয়ন, আরেক ভাতিজার স্ত্রী মনেজা বেগমকে আয়া ও প্রধান শিক্ষকের শ্যালক রবিউল ইসলামকে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালাম সব সময় তার পছন্দের ও তার ব্যক্তিগত লোকদের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বানিয়ে তার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময়ে তার নিকট আত্মীয়দের নিয়োগ দিয়েছেন।

এতে করে বিদ্যালয়ের জনবল নিয়োগে তার স্বজনপ্রীতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় এলাকার মানুষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, এলাকায় অনেকের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এই বিদ্যালয়ে অনেক যোগ্য প্রার্থীদের প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির কারণে তার পরিবারের বাইরে চাকুরি হয়নি। একারণে পূর্বের নিয়োগ প্রক্রিয়া কিভাবে সম্পন্ন হয়েছে তা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মানুষ।

স্থানীয়দের দাবি, বিগত সরকারের সময় তিনি আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে দাপট দেখিয়ে নিজের লোকদের নিয়োগ দিয়েছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাননি কেউ।

এ ব্যাপারে গোয়ালগাঁও পূর্বপাড়া জয়মনা ইছিমদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালাম জানান, আমার পরিবার বিদ্যালয়ে ৭৬ শতাংশ জমি দিয়েছেন। ফলে যোগ্যতা থাকাই নিজের স্বজনদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন এই প্রধান শিক্ষক।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিয়োগে স্বজনপ্রীতি : বকশীগঞ্জে একই প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকসহ ৭ স্বজন

আপডেট সময় ০৮:২৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪
গোয়ালগাঁও পূর্বপাড়া জয়মনা ইছিমদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়। ইনসেটে প্রধান শিক্ষক। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবু
নিজস্ব প্রতিবেদক, বকশীগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের বকশীগঞ্জের গোয়ালগাঁও পূর্বপাড়া জয়মনা ইছিমদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫টি পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ সাতটি পদে তার স্বজনদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। এসব পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বকশীগঞ্জ পৌর এলাকার গোয়ালগাঁও পূর্বপাড়ায় ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জয়মনা ইছিমদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়। প্রথমে ২০১০ সালে নিম্ন-মাধ্যমিক স্তরে এবং ২০২২ সালে মাধ্যমিক স্তরে এমপিওভুক্ত হয় এই বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৫০ জন হলেও এখন পর্যন্ত এই বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারীসহ ১৫ জন কর্মরত রয়েছেন।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সারাদেশে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, দুর্নীতির খবর উঠে আসে। এরমধ্যে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের একটি বিদ্যালয়ের একই পরিবারের ১৭ জনের নিয়োগের খবর বের হলে সারাদেশে তোলপাড় হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবারতন্ত্রের বিষয়টি নিয়েও তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

বিশেষ করে গোয়ালগাঁও পূর্বপাড়া জয়মনা ইছিমদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তার স্বজনদের নিয়োগ পাওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালাম বিভিন্ন কায়দায় তার পরিবার ও স্বজনদের শিক্ষক-কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

প্রধান শিক্ষক ছাড়াও তার স্বজনদের মধ্যে যারা রয়েছেন তারা হলেন- তার আপন ভাতিজা মিজানুর রহমানকে সহকারী শিক্ষক (কৃষি শিক্ষা), ভাতিজা মো. আক্তার হোসেনকে সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার, আপন ভাতিজা মো. লিটন মিয়াকে নৈশ প্রহরী, চাচাত ভাইয়ের ছেলে সবুজ মিয়াকে পিয়ন, আরেক ভাতিজার স্ত্রী মনেজা বেগমকে আয়া ও প্রধান শিক্ষকের শ্যালক রবিউল ইসলামকে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালাম সব সময় তার পছন্দের ও তার ব্যক্তিগত লোকদের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বানিয়ে তার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময়ে তার নিকট আত্মীয়দের নিয়োগ দিয়েছেন।

এতে করে বিদ্যালয়ের জনবল নিয়োগে তার স্বজনপ্রীতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় এলাকার মানুষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, এলাকায় অনেকের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এই বিদ্যালয়ে অনেক যোগ্য প্রার্থীদের প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির কারণে তার পরিবারের বাইরে চাকুরি হয়নি। একারণে পূর্বের নিয়োগ প্রক্রিয়া কিভাবে সম্পন্ন হয়েছে তা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মানুষ।

স্থানীয়দের দাবি, বিগত সরকারের সময় তিনি আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে দাপট দেখিয়ে নিজের লোকদের নিয়োগ দিয়েছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাননি কেউ।

এ ব্যাপারে গোয়ালগাঁও পূর্বপাড়া জয়মনা ইছিমদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালাম জানান, আমার পরিবার বিদ্যালয়ে ৭৬ শতাংশ জমি দিয়েছেন। ফলে যোগ্যতা থাকাই নিজের স্বজনদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন এই প্রধান শিক্ষক।