ঢাকা ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীবরদীতে ফলবান কলাগাছ কর্তন : গ্রেপ্তার ২ বুকের পাটা থাকলে এখনই আসেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান সরিষাবাড়ী উপজেলা যুব ইউনিয়ন কমিটিতে সভাপতি রানা, এনায়েত সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত বকশীগঞ্জে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম পিয়ারপুরে অবৈধ ইটভাটার চিমনি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে বিশ্বমানের শিল্পে উন্নীত করা আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী ১ হাজার ৪৯৮ পর্যটন আকর্ষণ নিয়ে জাতীয় মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে : রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ ভাষণের প্রশংসা সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনকে নতুন বলরুম নির্মাণস্থল ঘুরিয়ে দেখালেন ট্রাম্প : হোয়াইট হাউস

শ্রীবরদীতে ফলবান কলাগাছ কর্তন : গ্রেপ্তার ২

শেরপুর : জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকেরা  স্থানয়ী কলাচাষী আরাফ আল বেহেস্তী হকের প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ফলবান কলাগাছ কেটে বিনষ্ট করে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ফলবান কলাগাছ কেটে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় উপজেলার রাণীশিমুল ইউনিয়নের পশ্চিম বিলভরট এলাকার মো. সোলায়মান মোল্লাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আরাফ আল বেহেস্তী হক ওরফে রিংকু।

অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন- মেহেদী হাসান প্রিন্স, ঝাবরু, কালু মিয়া, মুসলিম, শুটকু মিয়া ও খোকা মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ আমলে নিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার রাতে প্রধান আসামি সোলায়মান মোল্লার ছেলে মেহেদী হাসান প্রিন্স ও খোকা মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।

সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার রাত ১টার দিকে রিংকুর কলাবাগানে থাকা প্রায় ৪০০ কলাগাছ কেটে ফেলা হয়। এর মধ্যে অধিকাংশই ছিল ফলবান। ওই কলাবাগানে সাথী ফসল হিসাবে লাগানো বেগুন, মরিচ, লাউ, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন গাছের চারাও নষ্ট করা হয়। এতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। গাছ কাটার খবর পেয়ে তিনি (রিংকু) ও তার স্ত্রী ঘটনাস্থলে গেলে তাদের বাধা দেওয়া এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান।

‎ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সোলায়মান মোল্লা অতীতে ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি থাকার সময় রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চাপ সৃষ্টি, মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো, এলাকায় মাদক ব্যাবসা ও চুরি-ডাকাতির নেতৃত্ব প্রদান এবং লোকজন জড়ো করে প্রতিপক্ষকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে।

পশ্চিম বিলভরট এলাকার খোরশেদ আলম বলেন, সোলায়মান মোল্লাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রভাব বিস্তার ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগও শোনা যায়। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় দুলদুল আহমেদ জানান, জমি নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মামলা দেওয়ার ভয় দেখায় কৃষকলীগ নেতা সোলায়মান মোল্লা। অতীতে তার নানার জমি দখলেরও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান দুলদুল।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোলায়মান মোল্লা বলেছেন, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও কলাগাছ কাটার ঘটনায় আমি  জড়িত ছিলাম না।

এ বিষয়ে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম এই প্রতিবেদককে বলেন, এই বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

শ্রীবরদীতে ফলবান কলাগাছ কর্তন : গ্রেপ্তার ২

শ্রীবরদীতে ফলবান কলাগাছ কর্তন : গ্রেপ্তার ২

আপডেট সময় ১১:১২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ফলবান কলাগাছ কেটে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় উপজেলার রাণীশিমুল ইউনিয়নের পশ্চিম বিলভরট এলাকার মো. সোলায়মান মোল্লাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আরাফ আল বেহেস্তী হক ওরফে রিংকু।

অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন- মেহেদী হাসান প্রিন্স, ঝাবরু, কালু মিয়া, মুসলিম, শুটকু মিয়া ও খোকা মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ আমলে নিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার রাতে প্রধান আসামি সোলায়মান মোল্লার ছেলে মেহেদী হাসান প্রিন্স ও খোকা মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।

সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার রাত ১টার দিকে রিংকুর কলাবাগানে থাকা প্রায় ৪০০ কলাগাছ কেটে ফেলা হয়। এর মধ্যে অধিকাংশই ছিল ফলবান। ওই কলাবাগানে সাথী ফসল হিসাবে লাগানো বেগুন, মরিচ, লাউ, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন গাছের চারাও নষ্ট করা হয়। এতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। গাছ কাটার খবর পেয়ে তিনি (রিংকু) ও তার স্ত্রী ঘটনাস্থলে গেলে তাদের বাধা দেওয়া এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান।

‎ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সোলায়মান মোল্লা অতীতে ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি থাকার সময় রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চাপ সৃষ্টি, মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো, এলাকায় মাদক ব্যাবসা ও চুরি-ডাকাতির নেতৃত্ব প্রদান এবং লোকজন জড়ো করে প্রতিপক্ষকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে।

পশ্চিম বিলভরট এলাকার খোরশেদ আলম বলেন, সোলায়মান মোল্লাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রভাব বিস্তার ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগও শোনা যায়। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় দুলদুল আহমেদ জানান, জমি নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মামলা দেওয়ার ভয় দেখায় কৃষকলীগ নেতা সোলায়মান মোল্লা। অতীতে তার নানার জমি দখলেরও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান দুলদুল।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোলায়মান মোল্লা বলেছেন, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও কলাগাছ কাটার ঘটনায় আমি  জড়িত ছিলাম না।

এ বিষয়ে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম এই প্রতিবেদককে বলেন, এই বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।