ঢাকা ১০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির জামালপুরে রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বকশীগঞ্জে কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ উদ্বোধন ফলবান কলাগাছ কর্তনের ন্যায্য বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত মাদারগঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপিত মাদারগঞ্জে ছাগল-ভেড়ার পিপিআর রোগ নির্মূলে টিকাদান কর্মসূচি শুরু প্রবীণদের স্বার্থরক্ষায় বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সচেতন এবং সতর্ক রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি মানুষের বার্ধক্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া আবশ্যক : রাষ্ট্রপতি দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফলবান কলাগাছ কর্তনের ন্যায্য বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

শেরপুর : সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী মো. সারওয়ার জাহান। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও ফ্যাসিস্ট সোলায়মান মোল্লা গং এর হাত থেকে বাঁচতে এবং ফলবান কলাগাছ কর্তনের ন্যায্য বিচার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরপুর শহরের খরমপুর এলাকার নির্ঝর কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্ষতিগ্রস্ত আরাফ আল বেহেস্তী হক রিংকুর বড় ভাই মো. সারওয়ার জাহান।

এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত আরাফ আল বেহেস্তী হক রিংকু, তার স্ত্রী তাওহীদা লীম, বড় বোন সেহেলী পারভীন, শাহনেওয়াজ পারভীন, বোন জামাই মাসুদ আহমদ লেনিন, স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ আলমসহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে মো. সারওয়ার জাহান বলেন, ভূূমিদস্যু, সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিস্ট সোলায়মান মোল্লা ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি হিসাবে রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চাপ সৃষ্টি, মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো, এলাকায় মাদক ব্যাবসা ও চুরি-ডাকাতির নেতৃত্ব প্রদান এবং লোকজন জড়ো করে প্রতিপক্ষকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে। সোলায়মান মোল্লাদের ভয়ে ভীত হয়ে ওই এলাকার লোকজন তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পান। যারা তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার চেষ্টা করেন তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করে থাকেন সোলায়মান মোল্লারা।

সারওয়ার জাহান আরো বলেন, আসামিরা জামিনে বের হয়ে রিংকু, তার নয় বছরের শিশু সন্তান, স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অপহরণ, খুন ও গুম করার হুমকি দিয়ে আসছে। বাড়ির মালামাল ও প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের নীরিহ অবলা প্রাণী ষাড় গরু লুট করারও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। রিংকুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে নিজের বাড়ি ফেলে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছি। বৃদ্ধা মা বাধ্য হয়ে একাই ওই বাড়ি পাহাড়া দিচ্ছেন।

আসামিপক্ষ ফ্যাসিস্ট সোলায়মান মোল্লারা প্রতিনিয়ত অপহরণ, হত্যা, গুম, মালামাল লুটপাট ও জমি দখলের হুমকি দিয়ে আসছে। রাজনৈতিক একটি প্রভাবশালী মহল আসামীদের পক্ষ নিয়ে গুরুতর এই ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, প্রথমে অভিযোগ দায়ের করার জন্য শ্রীবরদী থানায় গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলাটি নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে পুলিশ সুপারের সাথে এই ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তার নির্দেশে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগটি আমলে নেন। ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার রাতেই প্রধান আসামি সোলায়মান মোল্লার ছেলে মেহেদী হাসান প্রিন্স ও খোকা মিয়াকে গ্রেফতার করেন। কিন্তু ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার সকালেই ওই দুজনের জামিন হয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রধান আসামি সোলায়মান মোল্লা ও অপরাপর আসামি ঝাবরু, কালু মিয়া, মুসলিম, শুটকু মিয়া আদালতে হাজির হলে তাদেরকেও জামিন দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, জেলার শ্রীবরদী উপজেলার পশ্চিম বিলভরট এলাকায় অবস্থিত রিংকুর বাড়ি থেকে ১৫০ ফিট পশ্চিম পাশে তার ৩০ শতাংশ জমির উপর রোপিত প্রায় ৪০০ কলাগাছ অনৈতিক চাঁদা দাবির টাকা দিতে না পারায় কেটে ফেলা হয়। এর মধ্যে অধিকাংশই ছিল ফলবান। গত ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রাণীশিমুল ইউনিয়নের পশ্চিম বিলভরট এলাকার ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী মো. সোলায়মান মোল্লা ও তার ছেলে মেহেদী হাসান প্রিন্সরা গভীর রাতে রাম দা, কিরিচ, রড, লোহার পাইপ, বর্শাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কলাবাগানে হামলা চালিয়ে ফলবানসহ সকল কলাগাছ কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলে। ওই কলাবাগানে সাথী ফসল হিসাবে লাগানো বেগুন, মরিচ, লাউ, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন গাছের চারাও নষ্ট করা হয়। পাহারারত থাকা অবস্থায় রিংকু, তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে। তাদের ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে গেলেও সোলায়মানরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী

ফলবান কলাগাছ কর্তনের ন্যায্য বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ০৯:৫৯:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও ফ্যাসিস্ট সোলায়মান মোল্লা গং এর হাত থেকে বাঁচতে এবং ফলবান কলাগাছ কর্তনের ন্যায্য বিচার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরপুর শহরের খরমপুর এলাকার নির্ঝর কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্ষতিগ্রস্ত আরাফ আল বেহেস্তী হক রিংকুর বড় ভাই মো. সারওয়ার জাহান।

এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত আরাফ আল বেহেস্তী হক রিংকু, তার স্ত্রী তাওহীদা লীম, বড় বোন সেহেলী পারভীন, শাহনেওয়াজ পারভীন, বোন জামাই মাসুদ আহমদ লেনিন, স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ আলমসহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে মো. সারওয়ার জাহান বলেন, ভূূমিদস্যু, সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিস্ট সোলায়মান মোল্লা ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি হিসাবে রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চাপ সৃষ্টি, মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো, এলাকায় মাদক ব্যাবসা ও চুরি-ডাকাতির নেতৃত্ব প্রদান এবং লোকজন জড়ো করে প্রতিপক্ষকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে। সোলায়মান মোল্লাদের ভয়ে ভীত হয়ে ওই এলাকার লোকজন তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পান। যারা তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার চেষ্টা করেন তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করে থাকেন সোলায়মান মোল্লারা।

সারওয়ার জাহান আরো বলেন, আসামিরা জামিনে বের হয়ে রিংকু, তার নয় বছরের শিশু সন্তান, স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অপহরণ, খুন ও গুম করার হুমকি দিয়ে আসছে। বাড়ির মালামাল ও প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের নীরিহ অবলা প্রাণী ষাড় গরু লুট করারও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। রিংকুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে নিজের বাড়ি ফেলে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছি। বৃদ্ধা মা বাধ্য হয়ে একাই ওই বাড়ি পাহাড়া দিচ্ছেন।

আসামিপক্ষ ফ্যাসিস্ট সোলায়মান মোল্লারা প্রতিনিয়ত অপহরণ, হত্যা, গুম, মালামাল লুটপাট ও জমি দখলের হুমকি দিয়ে আসছে। রাজনৈতিক একটি প্রভাবশালী মহল আসামীদের পক্ষ নিয়ে গুরুতর এই ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, প্রথমে অভিযোগ দায়ের করার জন্য শ্রীবরদী থানায় গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলাটি নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে পুলিশ সুপারের সাথে এই ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তার নির্দেশে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগটি আমলে নেন। ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার রাতেই প্রধান আসামি সোলায়মান মোল্লার ছেলে মেহেদী হাসান প্রিন্স ও খোকা মিয়াকে গ্রেফতার করেন। কিন্তু ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার সকালেই ওই দুজনের জামিন হয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রধান আসামি সোলায়মান মোল্লা ও অপরাপর আসামি ঝাবরু, কালু মিয়া, মুসলিম, শুটকু মিয়া আদালতে হাজির হলে তাদেরকেও জামিন দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, জেলার শ্রীবরদী উপজেলার পশ্চিম বিলভরট এলাকায় অবস্থিত রিংকুর বাড়ি থেকে ১৫০ ফিট পশ্চিম পাশে তার ৩০ শতাংশ জমির উপর রোপিত প্রায় ৪০০ কলাগাছ অনৈতিক চাঁদা দাবির টাকা দিতে না পারায় কেটে ফেলা হয়। এর মধ্যে অধিকাংশই ছিল ফলবান। গত ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রাণীশিমুল ইউনিয়নের পশ্চিম বিলভরট এলাকার ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী মো. সোলায়মান মোল্লা ও তার ছেলে মেহেদী হাসান প্রিন্সরা গভীর রাতে রাম দা, কিরিচ, রড, লোহার পাইপ, বর্শাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কলাবাগানে হামলা চালিয়ে ফলবানসহ সকল কলাগাছ কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলে। ওই কলাবাগানে সাথী ফসল হিসাবে লাগানো বেগুন, মরিচ, লাউ, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন গাছের চারাও নষ্ট করা হয়। পাহারারত থাকা অবস্থায় রিংকু, তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে। তাদের ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে গেলেও সোলায়মানরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।