ঢাকা ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেবে না জনগণ : স্পিকার চট্টগ্রামে নেতাকর্মীদের ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ওমরাহযাত্রীর পরিবারের দায়িত্ব নিলেন ধর্মমন্ত্রী ক্রীড়া এখন একটি পেশা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেওয়ানগঞ্জে প্রশাসনের কড়া নজরদারির মধ্য দিয়ে শেষ হল দুর্গোৎসব সরিষাবাড়ীতে নানা আনুষ্ঠানিকতায় প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হল দুর্গোৎসব ইসলামপুরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুর্গাপূজা লাউ গাছের সাথে এ কেমন শত্রুতা, সম্বলটুকু হারিয়ে দিশেহারা কৃষক জয়ান উদ্দিন ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধ প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা জেলেনস্কির কিউবায় জ্বালানি সরবরাহে খনিজ কোম্পানি শেরিটকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি

গ্যাস পুড়ছে দিনে প্রায় ৩ কোটি টাকার, উৎপাদনের খবর নেই যমুনায়

সরিষাবাড়ী : যমুনা সারকারখানা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

দীর্ঘ সাত মাস বন্ধ থাকার পর গ্যাস সংযোগ পেলেও প্রয়োজনীয় চাপের অভাবে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। স্টার্ট-আপ কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে প্রতিদিন প্রায় আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার গ্যাস ব্যয় হলেও তৈরি হচ্ছে না কোনো সার।

​কারখানা সূত্র জানায়, যমুনা সার কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য গ্যাসের আদর্শ চাপ প্রয়োজন ৪৬ এমএমসিএফ। তবে ন্যূনতম ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ চাপ পাওয়া গেলেও উৎপাদন চালনা করা সম্ভব। বর্তমানে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড মাত্র ২৭ থেকে ২৮ এমএমসিএফ চাপে গ্যাস সরবরাহ করছে। এই স্বল্প চাপের কারণে স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়া চালু রাখা গেলেও মূল উৎপাদন শুরু করা যাচ্ছে না।

​গ্যাস সংকটের কারণে টানা সাত মাস বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর, রবিবার দুপুর ১২টা থেকে কারখানাটির স্টার্ট-আপ কার্যক্রম শুরু হয়। গ্যাসের চাপ পর্যাপ্ত থাকলে গত ২৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার  থেকেই বাণিজ্যিকভাবে সার উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় চাপ না পাওয়ায় গত ১১ দিনে প্রায় ২৮ থেকে ৩৩ কোটি টাকার গ্যাস পুড়লেও সার উৎপাদন শূন্যেই রয়ে গেছে। ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৯১ সাল থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সার কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা এক হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং এক হাজার ৭৮ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া। তবে যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে এটি দৈনিক এক হাজার ২০০ টন থেকে  এক হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনে সক্ষম। জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও রাজবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় সার সরবরাহে এই কারখানাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় সার সরবরাহের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবহন খাতেও স্থবিরতা নেমে এসেছে।

​কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. দেলোয়ার হোসেন ১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদককে বলেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় সার উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না এবং স্টার্ট-আপে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে। তিতাস কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। তারা দুই-এক দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় চাপ বৃদ্ধি করার আশ্বাস দিয়েছে।

​কারখানা কর্তৃপক্ষের আশা, গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ নিশ্চিত হওয়া মাত্রই দ্রুত বাণিজ্যিক উৎপাদনে ফেরা সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের উৎপাদন ঘাটতি কাটিয়ে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে সার সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, অন্যদিকে প্রতিদিনের বড় অঙ্কের গ্যাস ব্যয়ের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেবে না জনগণ : স্পিকার

গ্যাস পুড়ছে দিনে প্রায় ৩ কোটি টাকার, উৎপাদনের খবর নেই যমুনায়

আপডেট সময় ১০:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘ সাত মাস বন্ধ থাকার পর গ্যাস সংযোগ পেলেও প্রয়োজনীয় চাপের অভাবে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। স্টার্ট-আপ কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে প্রতিদিন প্রায় আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার গ্যাস ব্যয় হলেও তৈরি হচ্ছে না কোনো সার।

​কারখানা সূত্র জানায়, যমুনা সার কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য গ্যাসের আদর্শ চাপ প্রয়োজন ৪৬ এমএমসিএফ। তবে ন্যূনতম ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ চাপ পাওয়া গেলেও উৎপাদন চালনা করা সম্ভব। বর্তমানে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড মাত্র ২৭ থেকে ২৮ এমএমসিএফ চাপে গ্যাস সরবরাহ করছে। এই স্বল্প চাপের কারণে স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়া চালু রাখা গেলেও মূল উৎপাদন শুরু করা যাচ্ছে না।

​গ্যাস সংকটের কারণে টানা সাত মাস বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর, রবিবার দুপুর ১২টা থেকে কারখানাটির স্টার্ট-আপ কার্যক্রম শুরু হয়। গ্যাসের চাপ পর্যাপ্ত থাকলে গত ২৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার  থেকেই বাণিজ্যিকভাবে সার উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় চাপ না পাওয়ায় গত ১১ দিনে প্রায় ২৮ থেকে ৩৩ কোটি টাকার গ্যাস পুড়লেও সার উৎপাদন শূন্যেই রয়ে গেছে। ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৯১ সাল থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সার কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা এক হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং এক হাজার ৭৮ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া। তবে যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে এটি দৈনিক এক হাজার ২০০ টন থেকে  এক হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনে সক্ষম। জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও রাজবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় সার সরবরাহে এই কারখানাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় সার সরবরাহের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবহন খাতেও স্থবিরতা নেমে এসেছে।

​কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. দেলোয়ার হোসেন ১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদককে বলেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় সার উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না এবং স্টার্ট-আপে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে। তিতাস কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। তারা দুই-এক দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় চাপ বৃদ্ধি করার আশ্বাস দিয়েছে।

​কারখানা কর্তৃপক্ষের আশা, গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ নিশ্চিত হওয়া মাত্রই দ্রুত বাণিজ্যিক উৎপাদনে ফেরা সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের উৎপাদন ঘাটতি কাটিয়ে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে সার সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, অন্যদিকে প্রতিদিনের বড় অঙ্কের গ্যাস ব্যয়ের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে।