ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করলেন তাকাইচি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ মোকাবিলায় ভারতে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদা রহমানের আহ্বান সাংবাদিক আবুল কাশেমের বাসায় চুরি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট! যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ৪৭০ আসন ও ১২ বিলিয়ন ডলারের লড়াই কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক জরায়ু কেটে ফেলার অভিযোগ, এম এ রশীদ হাসপাতালের দুই ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শেরপুরে এবার ধুম কাছিম উদ্ধার ও অবমুক্ত জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী জামালপুরে সিডসের শিখন বিনিময় সফরে এসে সন্তুষ্ট কারিতাস দল

জামালপুরে গ্রাম আদালত বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

জামালপুর : গ্রাম আদালত বিষয়ক কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন ইউএনও নাজনিন আখতার। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

‘অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে, চলো যাই গ্রাম আদালতে’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে জামালপুরে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১১ জুন, বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ‘গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

জামালপুর সদর উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প আয়োজিত এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহাদৎ হোসেন, সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিজন কুমার বিশ্বাস, তরঙ্গ মহিলা কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শামীমা খান, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক মো. শফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক বজলুর রহমান, আসমাউল আসিফ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার বলেন, গ্রামের মুরুব্বিদের মাধ্যমে বা পঞ্চায়েত প্রথায় যে বিচার-সালিস করা হত তার আনুষ্ঠানিক কাঠামো হল গ্রাম আদালত। গ্রাম আদালতে স্বল্প খরচে দ্রুততম সময়ে অনেক প্রতিকার পাওয়া যায়। গ্রাম আদালতের বিচার পদ্ধতির কারণে ন্যায় বিচার পাওয়া সম্ভব। এখানে অর্থ ও সময় সাশ্রয় হয়, মানুষ সুফল পায়। তবে ছোটখাট বিষয়ে আদালতে যাওয়ার প্রবণতা কমলে গ্রাম আদালত সফল হবে। প্রান্তিক মানুষ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।

কর্মশালার সঞ্চালক স্থানীয় সরকার বিভাগের বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক মাহফুজা রহমান জানান, জামালপুর সদর, দেওয়ানগঞ্জ ও মাদারগঞ্জ উপজেলার মোট ৩০টি ইউনিয়নে বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত জেলার সাতটি উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নে দেওয়ানি অপরাধ বিষয়ে এক হাজার ২০৬ জন পুরুষ ভুক্তভোগী ও ২৭১ জন নারী ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন। এর মধ্যে এক হাজার ১৯৫ জন পুরুষ ও ২৬২ জন নারীর অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে।

এছাড়াও ফৌজদারি অপরাধের বিষয়ে এক হাজার ২৮২ জন পুরুষ ও ৩৩২ জন নারী ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন। এর মধ্যে এক হাজার ২৫৫ জন পুরুষ ও ৩৩০ জন নারীর অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে। অবশিষ্ট অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়াধীন। তাছাড়া দেওয়ানি বিষয়ে রায় বাস্তবায়ন হয়েছে এক হাজার ১৯৭টি ও ফৌজদারি বিষয়ে রায় বাস্তবায়ন হয়েছে এক হাজার ৩২৮টি। দেওয়ানি অভিযোগে আট কোটি ৭২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ও ফৌজদারি অভিযোগে ২৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করলেন তাকাইচি

জামালপুরে গ্রাম আদালত বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ০৯:৩৪:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

‘অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে, চলো যাই গ্রাম আদালতে’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে জামালপুরে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১১ জুন, বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ‘গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

জামালপুর সদর উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প আয়োজিত এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহাদৎ হোসেন, সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিজন কুমার বিশ্বাস, তরঙ্গ মহিলা কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শামীমা খান, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক মো. শফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক বজলুর রহমান, আসমাউল আসিফ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার বলেন, গ্রামের মুরুব্বিদের মাধ্যমে বা পঞ্চায়েত প্রথায় যে বিচার-সালিস করা হত তার আনুষ্ঠানিক কাঠামো হল গ্রাম আদালত। গ্রাম আদালতে স্বল্প খরচে দ্রুততম সময়ে অনেক প্রতিকার পাওয়া যায়। গ্রাম আদালতের বিচার পদ্ধতির কারণে ন্যায় বিচার পাওয়া সম্ভব। এখানে অর্থ ও সময় সাশ্রয় হয়, মানুষ সুফল পায়। তবে ছোটখাট বিষয়ে আদালতে যাওয়ার প্রবণতা কমলে গ্রাম আদালত সফল হবে। প্রান্তিক মানুষ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।

কর্মশালার সঞ্চালক স্থানীয় সরকার বিভাগের বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক মাহফুজা রহমান জানান, জামালপুর সদর, দেওয়ানগঞ্জ ও মাদারগঞ্জ উপজেলার মোট ৩০টি ইউনিয়নে বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত জেলার সাতটি উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নে দেওয়ানি অপরাধ বিষয়ে এক হাজার ২০৬ জন পুরুষ ভুক্তভোগী ও ২৭১ জন নারী ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন। এর মধ্যে এক হাজার ১৯৫ জন পুরুষ ও ২৬২ জন নারীর অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে।

এছাড়াও ফৌজদারি অপরাধের বিষয়ে এক হাজার ২৮২ জন পুরুষ ও ৩৩২ জন নারী ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন। এর মধ্যে এক হাজার ২৫৫ জন পুরুষ ও ৩৩০ জন নারীর অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে। অবশিষ্ট অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়াধীন। তাছাড়া দেওয়ানি বিষয়ে রায় বাস্তবায়ন হয়েছে এক হাজার ১৯৭টি ও ফৌজদারি বিষয়ে রায় বাস্তবায়ন হয়েছে এক হাজার ৩২৮টি। দেওয়ানি অভিযোগে আট কোটি ৭২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ও ফৌজদারি অভিযোগে ২৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।