ঢাকা ০৩:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ আগামী ১ জুন শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু : আইনমন্ত্রী ঘুষি মেরে অটোচালকের নাক ফাটিয়ে দিলেন ট্রাফিক পুলিশ বিধবা ইয়াসমিনকে ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে মাদারগঞ্জ উপজেলা যুবদল আইন সহায়তা ফাউন্ডেশনের বগারচর ইউনিয়ন শাখার কমিটি অনুমোদন বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি ব্যবস্থার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী রামিসা হত্যা মামলার বিচার ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদরাসাশিক্ষার্থী কন্যাশিশু নিখোঁজ ঈদযাত্রায় রেলে বাড়তি চাপের মধ্যেও শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই : রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন, কৃষক গ্রেপ্তার

জলাবদ্ধতার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চায় জামালপুর পৌরবাসী

জামালপুর : জামালপুর পৌরসভার শেখেরভিটা এলাকায় জলাবদ্ধতা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

গ্রীষ্মকালের সামান্য বৃষ্টিতেই জামালপুর শহরের একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে গেছে। ঘরে ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। সাপের দংশন থেকে শুরু করে জলাবদ্ধতার কারণে পানিবন্দি মানুষ বহুমাত্রিক যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়েছে। নিদারুণ কষ্ট আর দুর্ভোগ থেকে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

এ অসহনীয় অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। এ নিয়ে আমার ধারাবাহিক উপস্থাপনার আজকের অংশে সকলের মতামত ও পরামর্শ কামনা করছি।

জামালপুর শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে গবাখালি খাল, বংশখাল পানামুক্ত, আবর্জনামুক্ত, দখলমুক্ত করতে হবে। একই সাথে দেওয়ানগঞ্জ-জামালপুর রেললাইনের দুই পাশে দখল করে রাখা এবং জলাভূমি অবৈধভাবে ভরাট করে ফেলার কারণে অবাধ পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অপরদিকে অপরিকল্পিতভাবে দালান নির্মাণ, বাধ তৈরি, পুকুর খনন, প্রাচীর নির্মাণের কারণেও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া জনঅসচেতনতা এবং ময়লা-আবর্জনা বিশেষ করে পলিথিন, প্লাস্টিকসহ মেডিকেল বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার অচলাবস্থার কারণেও জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এখন সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি মাস্টার প্লান তৈরি করতে হবে।

জামালপুর : বাড়িঘরে পানি উঠেছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

গত বছর আমরা সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি জানিয়েছিলাম শুকনো মৌসুমে জামালপুর শহরে বিদ্যমান বংশখাল, গবাখালি খাল, বানিয়া বাজার খালসহ সকল ড্রেন পরিষ্কার করা হোক। সেই দাবি পূরণ করা হয় নাই। ময়লা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা হয় নাই। কমিউনিটির সম্পৃক্ততায় ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনা সভা করা হয় নাই। আমি ব্যক্তি উদ্যোগে ছয়টি সভা করেছিলাম। এরপর আর পৌর কর্তৃপক্ষের সাড়া না পেয়ে সভাগুলো আর করা সম্ভব হয় নাই। কমিউনিটির সাথে সভা আবারও করা উচিৎ পৌরসভার উদ্যোগে। আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।

ইতিমধ্যে জামালপুর পৌরসভার পলাশতলা, হাটচন্দ্রা, বনপাড়া, শেখেরভিটা, যুগিরগোপা, বেলটিয়া, বাগেরহাটা, দাপুনিয়া, শাহাপুর, লাঙ্গলজোড়া, স্টেশন এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ১০ সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উৎপাত শুরু হয়েছে। শিশুরা পানিতে পড়ে ডুবে যাওয়ার চরম ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। সাতজনকে সাপে দংশন করেছে। বৈশাখেই এ অবস্থা। ভরবর্ষায় কি অবস্থা হবে তা ভাবতেই ভয় হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই পানিবন্দি ভুক্তভোগী বিক্ষুব্ধ মানুষ উপায়ান্তর না দেখে পথে নেমে এসেছে। সড়ক অবরোধ করছে। তারা জলজট ও পানিবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি চায়। পৌর প্রশাসক মহোদয় ও তা দল কমিউনিটির লোকজন নিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জলাবদ্ধতার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চায় জামালপুর পৌরবাসী

আপডেট সময় ১০:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

গ্রীষ্মকালের সামান্য বৃষ্টিতেই জামালপুর শহরের একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে গেছে। ঘরে ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। সাপের দংশন থেকে শুরু করে জলাবদ্ধতার কারণে পানিবন্দি মানুষ বহুমাত্রিক যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়েছে। নিদারুণ কষ্ট আর দুর্ভোগ থেকে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

এ অসহনীয় অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। এ নিয়ে আমার ধারাবাহিক উপস্থাপনার আজকের অংশে সকলের মতামত ও পরামর্শ কামনা করছি।

জামালপুর শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে গবাখালি খাল, বংশখাল পানামুক্ত, আবর্জনামুক্ত, দখলমুক্ত করতে হবে। একই সাথে দেওয়ানগঞ্জ-জামালপুর রেললাইনের দুই পাশে দখল করে রাখা এবং জলাভূমি অবৈধভাবে ভরাট করে ফেলার কারণে অবাধ পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অপরদিকে অপরিকল্পিতভাবে দালান নির্মাণ, বাধ তৈরি, পুকুর খনন, প্রাচীর নির্মাণের কারণেও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া জনঅসচেতনতা এবং ময়লা-আবর্জনা বিশেষ করে পলিথিন, প্লাস্টিকসহ মেডিকেল বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার অচলাবস্থার কারণেও জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এখন সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি মাস্টার প্লান তৈরি করতে হবে।

জামালপুর : বাড়িঘরে পানি উঠেছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

গত বছর আমরা সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি জানিয়েছিলাম শুকনো মৌসুমে জামালপুর শহরে বিদ্যমান বংশখাল, গবাখালি খাল, বানিয়া বাজার খালসহ সকল ড্রেন পরিষ্কার করা হোক। সেই দাবি পূরণ করা হয় নাই। ময়লা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা হয় নাই। কমিউনিটির সম্পৃক্ততায় ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনা সভা করা হয় নাই। আমি ব্যক্তি উদ্যোগে ছয়টি সভা করেছিলাম। এরপর আর পৌর কর্তৃপক্ষের সাড়া না পেয়ে সভাগুলো আর করা সম্ভব হয় নাই। কমিউনিটির সাথে সভা আবারও করা উচিৎ পৌরসভার উদ্যোগে। আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।

ইতিমধ্যে জামালপুর পৌরসভার পলাশতলা, হাটচন্দ্রা, বনপাড়া, শেখেরভিটা, যুগিরগোপা, বেলটিয়া, বাগেরহাটা, দাপুনিয়া, শাহাপুর, লাঙ্গলজোড়া, স্টেশন এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ১০ সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উৎপাত শুরু হয়েছে। শিশুরা পানিতে পড়ে ডুবে যাওয়ার চরম ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। সাতজনকে সাপে দংশন করেছে। বৈশাখেই এ অবস্থা। ভরবর্ষায় কি অবস্থা হবে তা ভাবতেই ভয় হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই পানিবন্দি ভুক্তভোগী বিক্ষুব্ধ মানুষ উপায়ান্তর না দেখে পথে নেমে এসেছে। সড়ক অবরোধ করছে। তারা জলজট ও পানিবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি চায়। পৌর প্রশাসক মহোদয় ও তা দল কমিউনিটির লোকজন নিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।