ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির বাণী : দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী : সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য অপতথ্য রোধে গণমাধ্যমকর্মীদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান বিমান ও পর্যটনমন্ত্রীর ড. ইউনূসকে ‘হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান, দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন ৪০০ অতিথি মাদারগঞ্জে অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের ফিজির সমুদ্রসীমায় মোতায়েন হবে অস্ট্রেলিয়ার সৌরশক্তিচালিত সামরিক ড্রোন রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা ‘লজ্জাজনক’ : ট্রাম্প ইরানী ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে কিউবার ব্যাংকের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৪ যমুনা সার কারখানা পরিদর্শনে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা

জলাবদ্ধতার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চায় জামালপুর পৌরবাসী

জামালপুর : জামালপুর পৌরসভার শেখেরভিটা এলাকায় জলাবদ্ধতা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

গ্রীষ্মকালের সামান্য বৃষ্টিতেই জামালপুর শহরের একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে গেছে। ঘরে ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। সাপের দংশন থেকে শুরু করে জলাবদ্ধতার কারণে পানিবন্দি মানুষ বহুমাত্রিক যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়েছে। নিদারুণ কষ্ট আর দুর্ভোগ থেকে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

এ অসহনীয় অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। এ নিয়ে আমার ধারাবাহিক উপস্থাপনার আজকের অংশে সকলের মতামত ও পরামর্শ কামনা করছি।

জামালপুর শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে গবাখালি খাল, বংশখাল পানামুক্ত, আবর্জনামুক্ত, দখলমুক্ত করতে হবে। একই সাথে দেওয়ানগঞ্জ-জামালপুর রেললাইনের দুই পাশে দখল করে রাখা এবং জলাভূমি অবৈধভাবে ভরাট করে ফেলার কারণে অবাধ পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অপরদিকে অপরিকল্পিতভাবে দালান নির্মাণ, বাধ তৈরি, পুকুর খনন, প্রাচীর নির্মাণের কারণেও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া জনঅসচেতনতা এবং ময়লা-আবর্জনা বিশেষ করে পলিথিন, প্লাস্টিকসহ মেডিকেল বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার অচলাবস্থার কারণেও জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এখন সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি মাস্টার প্লান তৈরি করতে হবে।

জামালপুর : বাড়িঘরে পানি উঠেছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

গত বছর আমরা সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি জানিয়েছিলাম শুকনো মৌসুমে জামালপুর শহরে বিদ্যমান বংশখাল, গবাখালি খাল, বানিয়া বাজার খালসহ সকল ড্রেন পরিষ্কার করা হোক। সেই দাবি পূরণ করা হয় নাই। ময়লা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা হয় নাই। কমিউনিটির সম্পৃক্ততায় ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনা সভা করা হয় নাই। আমি ব্যক্তি উদ্যোগে ছয়টি সভা করেছিলাম। এরপর আর পৌর কর্তৃপক্ষের সাড়া না পেয়ে সভাগুলো আর করা সম্ভব হয় নাই। কমিউনিটির সাথে সভা আবারও করা উচিৎ পৌরসভার উদ্যোগে। আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।

ইতিমধ্যে জামালপুর পৌরসভার পলাশতলা, হাটচন্দ্রা, বনপাড়া, শেখেরভিটা, যুগিরগোপা, বেলটিয়া, বাগেরহাটা, দাপুনিয়া, শাহাপুর, লাঙ্গলজোড়া, স্টেশন এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ১০ সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উৎপাত শুরু হয়েছে। শিশুরা পানিতে পড়ে ডুবে যাওয়ার চরম ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। সাতজনকে সাপে দংশন করেছে। বৈশাখেই এ অবস্থা। ভরবর্ষায় কি অবস্থা হবে তা ভাবতেই ভয় হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই পানিবন্দি ভুক্তভোগী বিক্ষুব্ধ মানুষ উপায়ান্তর না দেখে পথে নেমে এসেছে। সড়ক অবরোধ করছে। তারা জলজট ও পানিবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি চায়। পৌর প্রশাসক মহোদয় ও তা দল কমিউনিটির লোকজন নিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির বাণী : দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ

জলাবদ্ধতার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চায় জামালপুর পৌরবাসী

আপডেট সময় ১০:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

গ্রীষ্মকালের সামান্য বৃষ্টিতেই জামালপুর শহরের একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে গেছে। ঘরে ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। সাপের দংশন থেকে শুরু করে জলাবদ্ধতার কারণে পানিবন্দি মানুষ বহুমাত্রিক যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়েছে। নিদারুণ কষ্ট আর দুর্ভোগ থেকে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

এ অসহনীয় অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। এ নিয়ে আমার ধারাবাহিক উপস্থাপনার আজকের অংশে সকলের মতামত ও পরামর্শ কামনা করছি।

জামালপুর শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে গবাখালি খাল, বংশখাল পানামুক্ত, আবর্জনামুক্ত, দখলমুক্ত করতে হবে। একই সাথে দেওয়ানগঞ্জ-জামালপুর রেললাইনের দুই পাশে দখল করে রাখা এবং জলাভূমি অবৈধভাবে ভরাট করে ফেলার কারণে অবাধ পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অপরদিকে অপরিকল্পিতভাবে দালান নির্মাণ, বাধ তৈরি, পুকুর খনন, প্রাচীর নির্মাণের কারণেও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া জনঅসচেতনতা এবং ময়লা-আবর্জনা বিশেষ করে পলিথিন, প্লাস্টিকসহ মেডিকেল বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার অচলাবস্থার কারণেও জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এখন সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি মাস্টার প্লান তৈরি করতে হবে।

জামালপুর : বাড়িঘরে পানি উঠেছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

গত বছর আমরা সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি জানিয়েছিলাম শুকনো মৌসুমে জামালপুর শহরে বিদ্যমান বংশখাল, গবাখালি খাল, বানিয়া বাজার খালসহ সকল ড্রেন পরিষ্কার করা হোক। সেই দাবি পূরণ করা হয় নাই। ময়লা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা হয় নাই। কমিউনিটির সম্পৃক্ততায় ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনা সভা করা হয় নাই। আমি ব্যক্তি উদ্যোগে ছয়টি সভা করেছিলাম। এরপর আর পৌর কর্তৃপক্ষের সাড়া না পেয়ে সভাগুলো আর করা সম্ভব হয় নাই। কমিউনিটির সাথে সভা আবারও করা উচিৎ পৌরসভার উদ্যোগে। আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।

ইতিমধ্যে জামালপুর পৌরসভার পলাশতলা, হাটচন্দ্রা, বনপাড়া, শেখেরভিটা, যুগিরগোপা, বেলটিয়া, বাগেরহাটা, দাপুনিয়া, শাহাপুর, লাঙ্গলজোড়া, স্টেশন এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ১০ সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উৎপাত শুরু হয়েছে। শিশুরা পানিতে পড়ে ডুবে যাওয়ার চরম ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। সাতজনকে সাপে দংশন করেছে। বৈশাখেই এ অবস্থা। ভরবর্ষায় কি অবস্থা হবে তা ভাবতেই ভয় হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই পানিবন্দি ভুক্তভোগী বিক্ষুব্ধ মানুষ উপায়ান্তর না দেখে পথে নেমে এসেছে। সড়ক অবরোধ করছে। তারা জলজট ও পানিবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি চায়। পৌর প্রশাসক মহোদয় ও তা দল কমিউনিটির লোকজন নিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।