বাল্যবিয়ে, মাদক, পলিথিন, স্কুল থেকে ঝরে পড়া, শিশুশ্রম, ক্ষুধা, অপুষ্টি নির্মূলকরণসহ শিশুদের সর্বোত্তম সুরক্ষার লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ড ভিশন ও উন্নয়ন সংঘের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রামের (এপি) উদ্যোগে ১৬ জুলাই, বুধবার জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক হাছিনা বেগম। তিনি বলেন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিদ্যালয় ও অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক, সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে বাল্যবিয়ে, মাদক, জুয়া এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ভুয়া জন্মনিবন্ধন বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবকের অসচেতনতা, তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং প্রচলিত আইন মেনে না চলার সংস্কৃতি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তবে প্রশাসন এক্ষেত্রে কঠোর ভূমিকা পালন করছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বাল্যবিয়ে, মাদক প্রতিরোধে স্কুল, কলেজে কমিটি গঠন এবং তা কার্যকর করতে মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। তিনি উন্নয়ন সংঘ ও ওয়ার্ল্ড ভিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রশংসা করে বলেন, সরকারের উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে সামাজিক ব্যধিগুলো দূর করা সহজ হবে। প্রতিটি এনজিওকে এসব কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সমাবেশে প্রধান আলোচক ছিলেন পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম পিপিএম। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উন্নয়ন সংঘের নির্বাহী পরিচালক মো. রফিকুল আলম মোল্লা। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাত শহীদ পিংকি, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক কামরুন্নাহার, ইউএনএফপিএ এর প্রতিনিধি মো. আতাহার আলী, জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রামের আঞ্চলিক জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সেবাস্টিয়ান পিউরিফিকেশন, জামালপুর এপির এরিয়া ম্যানেজার বিমল জেমস কস্তা, উন্নয়ন সংঘের জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রামের ব্যবস্থাপক মিনারা পারভীন, বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন মিলন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা শিশু কল্যাণ অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর সেলিম ও উন্নয়ন সংঘের পরিচালক কর্মসূচি মুর্শেদ ইকবাল।

সভায় পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, ফাইভ জিরো প্লাস কন্সেপ্টটি এ সময়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবকিছুই লুকিয়ে আছে এর মাঝে। ফাইভ জিরো প্লাস কাজে লাগাতে পারলে শিশুর বিকাশ ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তিনি মোবাইলের অপব্যবহার রোধে অভিভাবক ও শিক্ষকদের ভূমিকার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

জামালপুর সদরের ই্উএনও জিন্নাত শহীদ পিংকি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোন বাবা-মা বিয়ে দিতে চাইলে শিক্ষক এবং উপজেলা প্রশাসনের সাথে যেন যোগাযোগ করতে হবে তোমাদের। বাল্যবিয়ে, মাদক, শিশুশ্রম, অপুষ্টি, ক্ষুধা, স্কুল থেকে ঝরে পড়া, প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জ্য নির্মূলের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
সভার সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে রফিকুল আলম মোল্লা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বাল্যবিয়ে ও মাদকবিরোধী শপথবাক্য পাঠ করান। সমাবেশে সাত শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

সভা শেষে জামালপুর সদর ও ইসলামপুর উপজেলায় জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রামের উদ্যোগে ৪৫ হাজার ফলদ গাছের চারা বিতরণের কাজ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক হাছিনা বেগম। পরে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ অতিথিবৃন্দ বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন। শেষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে মশানিধন ওষুধ স্প্রে করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলারচিঠিডটকম 



















