জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় জামায়াতনেতা অধ্যাপক মো. হারুন অর রশিদের ইটভাটায় হামলা, ভাংচুর ও নগদ টাকা লুটপাটের ঘটনার সাথে যুবদল ও বিএনপির কেউ জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন মেলান্দহ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মনোয়ার হোসেন মনু। ১১ জানুয়ারি শনিবার বিকালে ওই ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে যুবদলনেতা মনোয়ার হোমেন মনু বলেন, আমি শুনেছি যে, অনেক মানুষই ইটভাটা মালিক হারুন অর রশিদের কাছে টাকা পান। কিন্তু আমরা সেই ইটভাটায় কখনও যাই না। আমি নাকি চাঁদা চাইছি, আমার নেতৃত্বে ইটভাটায় হামলা হয়েছে, এমন অভিযোগে আমার বিরুদ্ধে যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। মিথ্যা অভিযোগ করে আমার দলের ভাবমূর্তি ও আমার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। এমন কোন প্রমাণ দেখাতে পারবেন না যে আমি ওই ইটভাটায় গেছি। আর যদি প্রমাণ না দেখাতে পারেন। সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করবো। আমার যে সম্মানহানি করল। বিএনপির যে সম্মানহানি করল এর জন্য আমি জোরালো বিচার চাই।
সংবাদ সম্মেলনে ওই ইটভাটায় ভাড়া দেওয়া জমির মালিক ভুক্তভোগী মো. নবিন বলেন, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইটভাটা মালিক হারুন অর রশিদ আমার জমি ভাড়ায় ব্যবহার করেন। ভাড়ার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আমাকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করান। এরপরও আমার জমিতে আমাকে যেতে দেয় না। শুনেছি আমার জমি নাকি অন্যজনের কাছে ভাড়া দিয়ে দিছেন। আমাকে বলেন নাই। ঘটনার রাতে হারুনের লোকজন আমার বাড়িঘর ভাংচুর করেছে। কামলাকে মারধর করে আটটি গরু চুরি করেছে। যুবদলনেতা মনোয়ার হোসেন মনুসহ আরও যারযার কথা বলেছে তারা কিন্তু আমার সাথে জড়িত নাই। আমার সঙ্গে হারুন অর রশিদের বিবাধ চলছে। জমি ভাড়া দিয়ে আমি তো কোন অন্যায় করিনি। আমাকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তারসহ নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন হারুন। আমি এর বিচার চাই। আমি আমার জমি ফেরৎ চাই।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় আরও বেশ কয়েকজন জমির মালিক ওই ইটভাটায় জমি ভাড়া দিয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জমির দখল বুঝে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। তারাও অধ্যাপক হারুন অর রশিদ তার লোকজনদের বিচার চান।
ইটভাটা মালিক অধ্যাপক হারুন অর রশিদের অভিযোগ, মেলান্দহে উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মনোয়ার হোসেন মনু ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদ না দেওয়ায় তার নেতৃত্বে মো. নবীনসহ একদল লোক পশ্চিম বুরুঙ্গা গাংপাড় এলাকায় তার মালিকানাধীন এবিবি ব্রিকস ইটভাটায় হামলা, ভাঙচুর ও নগদ ৫ লাখ টাকা লুট করেছে। এ ঘটনায় মেলান্দহ থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন বলে জানান ইটভাটার মালিক অধ্যাপক মো. হারুন অর রশিদ।
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম 















