ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলের আশ্বাস দিল ইরান জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, ‘প্যানিক বায়িং’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার সাংবাদিক প্রবেশে কেন্দ্র সচিবের নিষেধাজ্ঞা মাদারগঞ্জে যমুনার বালুর চরে ফিরেছে সবুজ প্রাণ মাদকাসক্ত ছেলেকে ধরিয়ে দিলেন মা, হল ছয় মাসের জেল জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকারি গুদামে ১৭.৭১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া : তথ্যমন্ত্রী অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি উন্মোচন

মির্জা আজম সাহেব কেন পালিয়েছেন : শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন

হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপিনেতা শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মির্জা আজম প্রসঙ্গে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আইনজীবী শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেছেন, মির্জা আজম সাহেব অনেক বড় বড় কথা বলেছেন। অনেক বড় বড় বক্তৃতা করেছেন। আজকে মির্জা আজম সাহেব কোথায় গিয়েছেন? কেন পালিয়েছেন? আমরা বলতে চাই। সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয়েছে মির্জা আজমের ৯০৭ কোটি টাকার সম্পদ আছে। শুধু মির্জা আজমই নয়। মির্জা আজমের পরিবারের সকল সদস্য দুর্নীতিতে জড়িয়ে গেছে। মির্জা আজমের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তিনি মেলান্দহ-মাদারগঞ্জের মাটিতে পা দিবেন, আওয়ামী লীগ যদি এটা মনে করেন। তাহলে আপনাদের জীবনে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

২৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির প্রথম দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তৃতায় শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন এসব কথা বলেন।

শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ফেসবুকে লেখালেখি শুরু করেছেন। কিছু কিছু নেতা পলাতক থেকেও উঁকিঝুঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেকেই বের হয়ে আসার চেষ্টা করছেন। বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ তাদের নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রমনার বটমূলে বোমা মেরে সাংস্কৃতিক কর্মীদের হত্যা করেছে। বিডিআর বিদ্রোহের নামে বাংলাদেশের প্রথিতযশা চৌকস সেনা কর্মকর্তাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বাংলাদেশের সীমান্ত অরক্ষিত করে ফেলেছে। রাতের অন্ধকারে শাপলা চত্বরে বাংলাদেশের বরেণ্য আলেম ওলামাদের হত্যা করা হয়েছে। অসংখ্য আলেম ওলামাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে দীর্ঘদিন জেল খাটানো হয়েছে। ইলিয়াস আলীসহ সাড়ে চার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা, গুম, খুন করা হয়েছে। এই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সর্বশেষ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে শত শত ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে।

বিএনপিনেতা শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, আজকে সেই শেখ হাসিনা ভারতে বসে লুটের টাকা দিয়ে আরাম আয়েসে খাচ্ছেন। আর আপনারা বলেন যে, শেখ হাসিনা আসছে। শেখ হাসিনা আসছে না। আমাদের দাবি শেখ হাসিনাকে এই বাংলাদেশে আনতে হবে। তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এই বাংলাদেশে যে গণহত্যা চালিয়েছে। আইনে বিচার করে সেই হত্যার দায়ে শেখ হাসিনাকে ফাঁসিকাষ্ঠে না ঝুলানো পর্যন্ত সেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখেন না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এখন আর রাজনৈতিক দল না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এখন সন্ত্রাসী, লুটেরা ও দুর্নীতিবাজদের দল। সেই আওয়ামী লীগের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হুশিয়ার করে দিতে চাই। আমরা একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বপ্ন নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ ধৈর্য্য ধারণ করে, অনেক কিছু সহ্য করে, হজম করে আজকে শান্তিপূর্ণভাবে এখানে অবস্থান করছি। যদি কোন কারণে আপনারা অশান্তি করার চেষ্টা করেন। কোনো উঁকিঝুঁকি পাড়ার চেষ্টা করেন। বিএনপির নেতাকর্মীরাই শুধু নয়। বিএনপির নেতৃত্বে এই হাজরাবাড়ীর জনগণ আগামী দিনে আপনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। কাজেই সাবধান হয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, আপনারা ১৭ বছরে অন্যায় অপকর্ম যে পরিমাণ করেছেন সেই তুলনায় এখন পর্যন্ত কিছুই হয় নাই। এখনও নিরাপদে আছেন। এখনও আপনাদের সম্পদ নিরাপদে আছে। এখনও সময় আছে সতর্ক হয়ে যান। যদি কোন রকমের ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করেন। আগামী দিনে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের যেখানেই পাওয়া যাবে। সেখানেই প্রতিরোধ করা হবে।

সরকারিভাবে ধান ক্রয় প্রসঙ্গে আইনজীবী শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, আওয়ামী সরকার ধান কিনেছে যখন কৃষকের কাছে ধান নাই। কৃষক পরিশ্রম করে ধান উৎপাদন করেছে। সেই ধানের ন্যায্য দাম পায় নাই কৃষক। আওয়ামী লীগের নেতারাও ধান ক্রয়ের নামে স্লিপ বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ইউনিয়ন পর্যায়ে ধান ক্রয় ক্রেন্দ্র খোলা হবে। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকার ধান ক্রয় করবে। যাতে দলীয় কোনো নেতাকর্মী এই সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে না পারে।

সম্মেলন মঞ্চে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ও শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন আরও বলেন, বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এদেশের মহিলাদের নিরাপদ করার জন্য যা যা পদক্ষেপ নেয়া দরকার বিএনপি সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এই মহিলাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ঋণ দিয়ে আত্মকর্ম সংস্থানের সাথে সম্পৃক্ত করা হবে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সারাদেশে পরিবার ভিত্তিক কার্ড তৈরি করা হবে। প্রতিটি পরিবারকে কার্ড দেওয়া হবে। ওই পরিবার প্রধানের কার্ডধারী হবে ওই মহিলা সদস্য, পুরুষ সদস্য নয়। মহিলাদের সমঅধিকারসহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করার জন্য বিএনপি সেই সমস্ত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কাজেই বিএনপি ৩১ দফার মধ্য দিয়ে এই বাংলাদেশের সকল পেশা ও শ্রেণির মানুষকে রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত করে এই বাংলাদেশের মালিকানা বাংলাদেশের জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে চায়। আমরা সেই বিএনপির সাথেই আগামী দিনে এই নির্বাচনে সুষ্ঠু, সুন্দর প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার বিএনপির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা করবো।

এর আগে জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু করা হয়। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম।

হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সম্পাদক ও মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. শফিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান সজিব, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার  হোসেন কর্নেল, মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনোয়ার হাওলাদার, সদস্য সচিব নূরুল আলম সিদ্দিকী, হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব শাহ তালাত মাহমুদসহ পৌরবিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

পরে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে মো. ইসমাইল হোসেনকে সভাপতি ও শাহ তালাত মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক করে হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

মির্জা আজম সাহেব কেন পালিয়েছেন : শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন

আপডেট সময় ১২:২২:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪

মির্জা আজম প্রসঙ্গে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আইনজীবী শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেছেন, মির্জা আজম সাহেব অনেক বড় বড় কথা বলেছেন। অনেক বড় বড় বক্তৃতা করেছেন। আজকে মির্জা আজম সাহেব কোথায় গিয়েছেন? কেন পালিয়েছেন? আমরা বলতে চাই। সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয়েছে মির্জা আজমের ৯০৭ কোটি টাকার সম্পদ আছে। শুধু মির্জা আজমই নয়। মির্জা আজমের পরিবারের সকল সদস্য দুর্নীতিতে জড়িয়ে গেছে। মির্জা আজমের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তিনি মেলান্দহ-মাদারগঞ্জের মাটিতে পা দিবেন, আওয়ামী লীগ যদি এটা মনে করেন। তাহলে আপনাদের জীবনে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

২৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির প্রথম দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তৃতায় শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন এসব কথা বলেন।

শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ফেসবুকে লেখালেখি শুরু করেছেন। কিছু কিছু নেতা পলাতক থেকেও উঁকিঝুঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেকেই বের হয়ে আসার চেষ্টা করছেন। বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ তাদের নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রমনার বটমূলে বোমা মেরে সাংস্কৃতিক কর্মীদের হত্যা করেছে। বিডিআর বিদ্রোহের নামে বাংলাদেশের প্রথিতযশা চৌকস সেনা কর্মকর্তাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বাংলাদেশের সীমান্ত অরক্ষিত করে ফেলেছে। রাতের অন্ধকারে শাপলা চত্বরে বাংলাদেশের বরেণ্য আলেম ওলামাদের হত্যা করা হয়েছে। অসংখ্য আলেম ওলামাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে দীর্ঘদিন জেল খাটানো হয়েছে। ইলিয়াস আলীসহ সাড়ে চার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা, গুম, খুন করা হয়েছে। এই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সর্বশেষ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে শত শত ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে।

বিএনপিনেতা শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, আজকে সেই শেখ হাসিনা ভারতে বসে লুটের টাকা দিয়ে আরাম আয়েসে খাচ্ছেন। আর আপনারা বলেন যে, শেখ হাসিনা আসছে। শেখ হাসিনা আসছে না। আমাদের দাবি শেখ হাসিনাকে এই বাংলাদেশে আনতে হবে। তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এই বাংলাদেশে যে গণহত্যা চালিয়েছে। আইনে বিচার করে সেই হত্যার দায়ে শেখ হাসিনাকে ফাঁসিকাষ্ঠে না ঝুলানো পর্যন্ত সেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখেন না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এখন আর রাজনৈতিক দল না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এখন সন্ত্রাসী, লুটেরা ও দুর্নীতিবাজদের দল। সেই আওয়ামী লীগের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হুশিয়ার করে দিতে চাই। আমরা একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বপ্ন নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ ধৈর্য্য ধারণ করে, অনেক কিছু সহ্য করে, হজম করে আজকে শান্তিপূর্ণভাবে এখানে অবস্থান করছি। যদি কোন কারণে আপনারা অশান্তি করার চেষ্টা করেন। কোনো উঁকিঝুঁকি পাড়ার চেষ্টা করেন। বিএনপির নেতাকর্মীরাই শুধু নয়। বিএনপির নেতৃত্বে এই হাজরাবাড়ীর জনগণ আগামী দিনে আপনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। কাজেই সাবধান হয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, আপনারা ১৭ বছরে অন্যায় অপকর্ম যে পরিমাণ করেছেন সেই তুলনায় এখন পর্যন্ত কিছুই হয় নাই। এখনও নিরাপদে আছেন। এখনও আপনাদের সম্পদ নিরাপদে আছে। এখনও সময় আছে সতর্ক হয়ে যান। যদি কোন রকমের ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করেন। আগামী দিনে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের যেখানেই পাওয়া যাবে। সেখানেই প্রতিরোধ করা হবে।

সরকারিভাবে ধান ক্রয় প্রসঙ্গে আইনজীবী শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, আওয়ামী সরকার ধান কিনেছে যখন কৃষকের কাছে ধান নাই। কৃষক পরিশ্রম করে ধান উৎপাদন করেছে। সেই ধানের ন্যায্য দাম পায় নাই কৃষক। আওয়ামী লীগের নেতারাও ধান ক্রয়ের নামে স্লিপ বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ইউনিয়ন পর্যায়ে ধান ক্রয় ক্রেন্দ্র খোলা হবে। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকার ধান ক্রয় করবে। যাতে দলীয় কোনো নেতাকর্মী এই সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে না পারে।

সম্মেলন মঞ্চে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ও শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন আরও বলেন, বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এদেশের মহিলাদের নিরাপদ করার জন্য যা যা পদক্ষেপ নেয়া দরকার বিএনপি সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এই মহিলাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ঋণ দিয়ে আত্মকর্ম সংস্থানের সাথে সম্পৃক্ত করা হবে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সারাদেশে পরিবার ভিত্তিক কার্ড তৈরি করা হবে। প্রতিটি পরিবারকে কার্ড দেওয়া হবে। ওই পরিবার প্রধানের কার্ডধারী হবে ওই মহিলা সদস্য, পুরুষ সদস্য নয়। মহিলাদের সমঅধিকারসহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করার জন্য বিএনপি সেই সমস্ত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কাজেই বিএনপি ৩১ দফার মধ্য দিয়ে এই বাংলাদেশের সকল পেশা ও শ্রেণির মানুষকে রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত করে এই বাংলাদেশের মালিকানা বাংলাদেশের জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে চায়। আমরা সেই বিএনপির সাথেই আগামী দিনে এই নির্বাচনে সুষ্ঠু, সুন্দর প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার বিএনপির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা করবো।

এর আগে জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু করা হয়। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম।

হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সম্পাদক ও মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. শফিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান সজিব, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার  হোসেন কর্নেল, মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনোয়ার হাওলাদার, সদস্য সচিব নূরুল আলম সিদ্দিকী, হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব শাহ তালাত মাহমুদসহ পৌরবিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

পরে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে মো. ইসমাইল হোসেনকে সভাপতি ও শাহ তালাত মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক করে হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।