ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন হবে : মির্জা ফখরুল পিরোজপুরের সড়কগুলো দ্রুত যান চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মানুষের সঙ্গে মিশে যাবেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে নেতৃত্ব দিবেন : জেলা প্রশাসকদের প্রতি এলজিআরডি মন্ত্রী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রচিত ‘দ্য লার্নিং নেশন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাল ইসলামপুরের ভুক্তভোগীরা বকশীগঞ্জে নকল করার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় দেওয়ানগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার মাদারগঞ্জে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিহত লিমন আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচির পরিবর্তন চায় সরিষাবাড়ীবাসী জলাবদ্ধতার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চায় জামালপুর পৌরবাসী

ঘর পেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে দুর্গম যমুনাতীরের মানুষেরা

আশ্রিতদের ঘরে ঘরে গিয়ে দলিল হস্তান্তর করা হয়। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

আশ্রিতদের ঘরে ঘরে গিয়ে দলিল হস্তান্তর করা হয়। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

লিয়াকত হোসাইন লায়ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ইসলামপুর, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় যমুনা নদীর ভাঙনে নিঃস্ব পরিবারগুলোর মাথা গোঁজার ঠাঁই এখন সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প। প্রতিবছর নদী ভাঙনের শিকার যমুনাতীরের মানুষগুলোর কাছে সরকারের দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। সম্প্রতি উপজেলায় যমুনার দুর্গম সাপধরী ইউনিয়নের চেঙ্গানীয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঠাঁই হয়েছে নদীভাঙা ও অসহায় ৪০টি পরিবারের। আশ্রয়ণ প্রকল্পে বিনা মূল্যের ঘর পেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা।

প্রায় ১০ বছর আগে ময়মনসিংহের জহুরুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় পানফুল বেগমের। অসহায় পানফুল অভাবের তাড়নায় ছোট বেলায় পাড়ি জমান ঢাকা শহরে। চাকরি নেন গার্মেন্টসে। সেই থেকে পরিচয় স্বামী জহুরুল ইসলামের সাথে। পরিচয় থেকে বিয়েতে গড়ায় তাদের জীবন। তাদের কুলজুড়ে আসে কন্যা সন্তান। এরপর থেকেই স্বামী আর খোঁজ নেয়নি, স্বামী আরেকটি বিয়ে করায় দেখতে আসেনি মেয়ের মুখও।

সদ্যজাত মেয়ে নিয়ে পানফুলের আশ্রয় হয় দরিদ্র শ্রমজীবী বাবার ঘরে। বাবার ভিটেমাটি না থাকায় এ বাড়ি ও বাড়ি কাজ করেই চলতো তার জীবন। এরপর থেকেই আশ্রয় নিয়েছেন এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি। অবশেষে পানফুলের আশ্রয় হয়েছে চেঙ্গানীয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে। মাথা গোঁজার ঠাঁই আর সরকারের ভাতা আর হাঁস-মুরগি পালন ও যমুনার চরে ফসল তুলেই চলছে ফুটফুটে সন্তানকে নিয়ে তার জীবন। শুধু পানফুলই নন, সাপধরী ইউনিয়নে যমুনার ভাঙন ও অসহায় নিঃস্ব ৪০টি পরিবারের আশ্রয় হয়েছে চেঙ্গানীয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে। তারা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ২৮ জুন শুক্রবার উপজেলা প্রশাসন প্রতিটি ঘরে গিয়ে আশ্রিতদের দলিল হস্তান্তর করেন।

সাপধরী ইউনিয়নের চেঙ্গানীয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প।ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম মন্ডল বলেন, সরকার সারাদেশেই আশ্রয়হীনদের গুচ্ছগ্রামে বিনা মূল্যে ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন। সেই ধারাবাহিকতায় দুর্গম চরগুলোতে গুচ্ছগ্রাম তৈরি করা হয়েছে। এতে অসহায় পরিবারগুলোর মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে। তবে এসব আশ্রয়ণ প্রকল্পে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিত করা দরকার।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু জানান, দুর্গম যমুনার চরসহ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে অসহায়, নদী ভাঙ্গনে আশ্রয়হীনদের জন্য গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়েছে। এতে অসহায় পরিবারগুলোর মাথা গোঁজার ঠাঁই হচ্ছে। প্রতিটি ঘর ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৪০টি ঘর তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও আশ্রয়ণ প্রকল্পে কমিউনিটি সেন্টার নির্মিত হচ্ছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন যমুনার দুর্গম চরে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়েছে। যমুনার দুর্গম সাপধরী ইউনিয়নের চেঙ্গানীয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে মূলত নদী ভাঙন ও অসহায় আশ্রয়হীন ৪০টি পরিবারকে ঘর ও দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। বন্যার সময় আশ্রয়ণ প্রকল্পটি আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন হবে : মির্জা ফখরুল

ঘর পেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে দুর্গম যমুনাতীরের মানুষেরা

আপডেট সময় ০৭:৫৮:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুন ২০২৪
আশ্রিতদের ঘরে ঘরে গিয়ে দলিল হস্তান্তর করা হয়। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

লিয়াকত হোসাইন লায়ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ইসলামপুর, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় যমুনা নদীর ভাঙনে নিঃস্ব পরিবারগুলোর মাথা গোঁজার ঠাঁই এখন সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প। প্রতিবছর নদী ভাঙনের শিকার যমুনাতীরের মানুষগুলোর কাছে সরকারের দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। সম্প্রতি উপজেলায় যমুনার দুর্গম সাপধরী ইউনিয়নের চেঙ্গানীয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঠাঁই হয়েছে নদীভাঙা ও অসহায় ৪০টি পরিবারের। আশ্রয়ণ প্রকল্পে বিনা মূল্যের ঘর পেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা।

প্রায় ১০ বছর আগে ময়মনসিংহের জহুরুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় পানফুল বেগমের। অসহায় পানফুল অভাবের তাড়নায় ছোট বেলায় পাড়ি জমান ঢাকা শহরে। চাকরি নেন গার্মেন্টসে। সেই থেকে পরিচয় স্বামী জহুরুল ইসলামের সাথে। পরিচয় থেকে বিয়েতে গড়ায় তাদের জীবন। তাদের কুলজুড়ে আসে কন্যা সন্তান। এরপর থেকেই স্বামী আর খোঁজ নেয়নি, স্বামী আরেকটি বিয়ে করায় দেখতে আসেনি মেয়ের মুখও।

সদ্যজাত মেয়ে নিয়ে পানফুলের আশ্রয় হয় দরিদ্র শ্রমজীবী বাবার ঘরে। বাবার ভিটেমাটি না থাকায় এ বাড়ি ও বাড়ি কাজ করেই চলতো তার জীবন। এরপর থেকেই আশ্রয় নিয়েছেন এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি। অবশেষে পানফুলের আশ্রয় হয়েছে চেঙ্গানীয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে। মাথা গোঁজার ঠাঁই আর সরকারের ভাতা আর হাঁস-মুরগি পালন ও যমুনার চরে ফসল তুলেই চলছে ফুটফুটে সন্তানকে নিয়ে তার জীবন। শুধু পানফুলই নন, সাপধরী ইউনিয়নে যমুনার ভাঙন ও অসহায় নিঃস্ব ৪০টি পরিবারের আশ্রয় হয়েছে চেঙ্গানীয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে। তারা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ২৮ জুন শুক্রবার উপজেলা প্রশাসন প্রতিটি ঘরে গিয়ে আশ্রিতদের দলিল হস্তান্তর করেন।

সাপধরী ইউনিয়নের চেঙ্গানীয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প।ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম মন্ডল বলেন, সরকার সারাদেশেই আশ্রয়হীনদের গুচ্ছগ্রামে বিনা মূল্যে ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন। সেই ধারাবাহিকতায় দুর্গম চরগুলোতে গুচ্ছগ্রাম তৈরি করা হয়েছে। এতে অসহায় পরিবারগুলোর মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে। তবে এসব আশ্রয়ণ প্রকল্পে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিত করা দরকার।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু জানান, দুর্গম যমুনার চরসহ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে অসহায়, নদী ভাঙ্গনে আশ্রয়হীনদের জন্য গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়েছে। এতে অসহায় পরিবারগুলোর মাথা গোঁজার ঠাঁই হচ্ছে। প্রতিটি ঘর ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৪০টি ঘর তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও আশ্রয়ণ প্রকল্পে কমিউনিটি সেন্টার নির্মিত হচ্ছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন যমুনার দুর্গম চরে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়েছে। যমুনার দুর্গম সাপধরী ইউনিয়নের চেঙ্গানীয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে মূলত নদী ভাঙন ও অসহায় আশ্রয়হীন ৪০টি পরিবারকে ঘর ও দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। বন্যার সময় আশ্রয়ণ প্রকল্পটি আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।