ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেওয়ানগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার মাদারগঞ্জে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিহত লিমন আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচির পরিবর্তন চায় সরিষাবাড়ীবাসী জলাবদ্ধতার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চায় জামালপুর পৌরবাসী সুপেয় পানি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও অনিশ্চিত সেবা, ভোগান্তিতে পৌরবাসী স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের জন্য অংশীদারদের নিয়ে পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বকশীগঞ্জে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উদযাপিত দুর্নীতির দায়ে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সাজ্জাতুল বরখাস্ত সারাদেশে গত ২৪ ঘন্টায় হামের নতুন রোগী ৯৫, মৃত্যু ৫ খুদে শিক্ষার্থীরাই ‘আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’ : প্রধানমন্ত্রী

দেওয়ানগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্য ঢেঁকি

দেওয়ানগঞ্জ ঢেঁকিতে চালের গুড়া তৈরি করছেন কৃষাণীরা। ছবি : বিল্লাল হোসেন মন্ডল

দেওয়ানগঞ্জে ঢেঁকিতে চালের গুড়া তৈরি করছেন কৃষাণীরা। ছবি : বিল্লাল হোসেন মন্ডল

দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্য ঢেঁকি। বিভিন্ন ধরনের আধুনি যন্ত্র আবিষ্কার হওয়ার ফলে হারিয়ে যাচ্ছে ঢেঁকির পুরোনো ঐতিহ্য। কালের বিবর্তনে ঢেঁকি এখন শুধু ঐতিহ্যের স্মৃতি। দিন দিন ঢেঁকি শিল্প বিলুপ্ত হলেও সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নেই।

বাংলার ঐতিহ্যবাহি ঢেঁকি আগের মত এখন আর চোখে পড়ে না। একসময় ঢেঁকি ছিল গ্রামীণ জনপদের চাল ও চালের গুঁড়া বা আটা তৈরির একমাত্র যন্ত্র। অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে কৃষক ধান কাটার পর কৃষাণীদের ঘরে ধান থেকে চাল ও চালের গুঁড়া করার ধুম পরে যেত। জামাই আদর করা হতো বিভিন্ন রকমের পিঠা, পুলি, ফিরনি, পায়েস দিয়ে।

এছাড়াও নবান্ন উৎসব, বিয়ে, ঈদ, পূজায় ঢেঁকির মাধ্যমে ধান থেকে আটা তৈরি করা হতো। আটা তৈরি করতে ঢেঁকিতে কাজ করতে হতো রাত থেকে ভোর পর্যন্ত। ঢেঁকিছাটা আউশ ধানের চালের পান্তা ভাত খেতেও খুব স্বাদ হতো।

এক যুগ আগেও মানুষ ঢেঁকির মাধ্যমে ধান থেকে চিড়া, আটা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করত। ঢেঁকির ধুপধাপ শব্দে মুখোরিত ছিল বাংলার জনপদ। কিন্তু এখন ঢেঁকির সেই শব্দ শোনা যায় না। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়াই ঢেঁকির শব্দ নেই। হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদের ঐতিহ্যবাহি কাঠের তৈরি ঢেঁকি। জ্বালানি তেল বা বিদ্যুতচালিত মেশিন দিয়ে ধান ও চাল তৈরির কারণে ঢেঁকি আজ কদরহীন। এলাকার গ্রামগুলোতে ঘুরে এখন ঢেঁকির দেখা মিলে না।

ঢেঁকি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলার বাঁশতলী গ্রামের ছফর উদ্দিন জানান, আগে বেশির ভাগ বাড়িতেই ঢেঁকি ছিল। ঢেঁকিছাটা চাল ও চালের পিঠার গন্ধ এখন আর নেই। পিঠার স্বাদ ও গন্ধ এখনও মনে পড়ে। প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে গ্রাম বাংলার ঢেঁকির ব্যবহার কমে গেছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেওয়ানগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

দেওয়ানগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্য ঢেঁকি

আপডেট সময় ০৬:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯
দেওয়ানগঞ্জে ঢেঁকিতে চালের গুড়া তৈরি করছেন কৃষাণীরা। ছবি : বিল্লাল হোসেন মন্ডল

দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্য ঢেঁকি। বিভিন্ন ধরনের আধুনি যন্ত্র আবিষ্কার হওয়ার ফলে হারিয়ে যাচ্ছে ঢেঁকির পুরোনো ঐতিহ্য। কালের বিবর্তনে ঢেঁকি এখন শুধু ঐতিহ্যের স্মৃতি। দিন দিন ঢেঁকি শিল্প বিলুপ্ত হলেও সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নেই।

বাংলার ঐতিহ্যবাহি ঢেঁকি আগের মত এখন আর চোখে পড়ে না। একসময় ঢেঁকি ছিল গ্রামীণ জনপদের চাল ও চালের গুঁড়া বা আটা তৈরির একমাত্র যন্ত্র। অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে কৃষক ধান কাটার পর কৃষাণীদের ঘরে ধান থেকে চাল ও চালের গুঁড়া করার ধুম পরে যেত। জামাই আদর করা হতো বিভিন্ন রকমের পিঠা, পুলি, ফিরনি, পায়েস দিয়ে।

এছাড়াও নবান্ন উৎসব, বিয়ে, ঈদ, পূজায় ঢেঁকির মাধ্যমে ধান থেকে আটা তৈরি করা হতো। আটা তৈরি করতে ঢেঁকিতে কাজ করতে হতো রাত থেকে ভোর পর্যন্ত। ঢেঁকিছাটা আউশ ধানের চালের পান্তা ভাত খেতেও খুব স্বাদ হতো।

এক যুগ আগেও মানুষ ঢেঁকির মাধ্যমে ধান থেকে চিড়া, আটা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করত। ঢেঁকির ধুপধাপ শব্দে মুখোরিত ছিল বাংলার জনপদ। কিন্তু এখন ঢেঁকির সেই শব্দ শোনা যায় না। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়াই ঢেঁকির শব্দ নেই। হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদের ঐতিহ্যবাহি কাঠের তৈরি ঢেঁকি। জ্বালানি তেল বা বিদ্যুতচালিত মেশিন দিয়ে ধান ও চাল তৈরির কারণে ঢেঁকি আজ কদরহীন। এলাকার গ্রামগুলোতে ঘুরে এখন ঢেঁকির দেখা মিলে না।

ঢেঁকি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলার বাঁশতলী গ্রামের ছফর উদ্দিন জানান, আগে বেশির ভাগ বাড়িতেই ঢেঁকি ছিল। ঢেঁকিছাটা চাল ও চালের পিঠার গন্ধ এখন আর নেই। পিঠার স্বাদ ও গন্ধ এখনও মনে পড়ে। প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে গ্রাম বাংলার ঢেঁকির ব্যবহার কমে গেছে।