ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিশ্রুতির বন্যা : জনসেবা নাকি ভোটের রাজনীতি? মাদারগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের দায়ে পরীক্ষার্থী বহিষ্কার হাতির আক্রমণে নিহতের পরিবার পেল আর্থিক সহায়তা ইসলামপুরে মাদক ইভটিজিং বিরোধী মানববন্ধন জামালপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালে দুর্নীতির তদন্তের দাবি শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি শেরপুর জেলা কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত আইনজীবীর কার্যালয় থেকে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক উদ্ধার এক শিক্ষকেই চলছে পশ্চিম চর নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাহত পাঠদান উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সামছুল হুদার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
ইসলামপুর পৌরসভা

সুপেয় পানি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও অনিশ্চিত সেবা, ভোগান্তিতে পৌরবাসী

ইসলামপুর : ইসলামপুর পৌরসভা কার্যালয়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের ইসলামপুর পৌর এলাকায় সুপেয় পানি প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা এখনও হয়নি। ফলে নিম্নমানের কাজ সংযোগের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগে জনমনে চরম ক্ষোভের দেখা দিয়েছে।

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাঙ্খিত সেবা না পাওয়ায় পৌরবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তদারকি ও দুর্নীতির কারণে হয়ত প্রকল্পটি অনিশ্চিত হতে যাচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্য নিরাপদ পানি সরবরাহের দাবী জানান পৌরবাসী।

ইসলামপুর পৌর প্রকৌশলী ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে পাঁচ কোটি ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকার এই প্রকল্পে দুই হাজার ৪০০টি পরিবারকে নিরাপদ পানির আওতায় আনার পরিল্পনা নেয়া হয়। দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস আর কর্পোরেশন কাজ পায়। তবে প্রকল্পের কাজ সীমিত অগ্রগতি হলেও ইতোমধ্যে তিন কোটি ৮৩ লাখ ৮৯ হাজার ৮৩২ টাকার বিল উত্তোলনের করা হয়েছে।

জানা গেছে, পৌর এলাকার পাটনিপাড়া, বেপারীপাড়া, দরজীপাড়া, বোয়ালমারী, কুড়িপাড়া, খালেপাড়া, থানামোড়, নটারকান্দা, ফকিরপাড়া, মাজারবাড়ী, উত্তর ও দক্ষিণ দরিয়াবাদ এবং ঠাকুরগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় আংশিক পাইপ লাইন বসানো হয়েছে। তবে অধিকাংশ এলাকায় এখনও পানি সরবরাহ শুরু হয়নি। কোথাও পাইপ বসিয়ে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। কোথাও সংযোগের জন্য টাকা নেয়া হলেও পানি পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী তারা মাস্টার বলেন, পৌরসভা থেকে আমাদের বলা হল ৫০০ টাকা জমা দিলে দ্রুত বাড়িতে পানির লাইন আসবে। আমাদের আয়রন পানির সমস্যার কারণে দ্রুত নিরাপদ পানি পাওয়ার আশ্বাসে টাকা দিয়েছি। আজ এতদিন হয়ে গেল,পানির কোন খবর নেই। আমাদের সাথে এমন প্রতারণা কেন করা হচ্ছে? স্থানীয় বাসিন্দা মতি শেখ, লিয়াকত হোসাইন, শফিকুল ইসলাম, নজরুল মেলেটারি তারাও একই অভিযোগ করেন।

গৃহিনী মাছুমা আক্তার মিলি বরেন, আমাদের এলাকায় আইরন যুক্ত পানি থাকায় সুপেয় পানির লাইন দেওয়ার কথা বলে রসিদের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সুপেয় পানির দেখা মেলেনি। সড়ক খোঁড়া রেখে দেওয়ায় আমাদের চলাচলে কষ্ট হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পে নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক স্থানে সংযোগের আগেই পাইপ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে পুরো পানি সরবরাহ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

ইসলামপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, প্রকল্পের কাজ চলমান। ধাপে ধাপে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নেয়া এটা পৌরসভার আওতাধীন।

ইসলামপুর পৌরসভা সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোফাখখারুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন,  পরীক্ষামূলকভাবে পানি সরবরাহ করা হয়েছে। যারা লাইন পাননি তাহারা পর্যায়ক্রমেই সংযোগ পাবেন। তবে আমি যোগদান করার পর থেকে কোন বিল দেওয়া হয়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধি আরিফুল হক শাকিল এ প্রতিবেদককে বলেন, কাজ যতটুকু করেছি তার পুরো বিল না এখনো পাইনি। বর্তমানে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিশ্রুতির বন্যা : জনসেবা নাকি ভোটের রাজনীতি?

ইসলামপুর পৌরসভা

সুপেয় পানি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও অনিশ্চিত সেবা, ভোগান্তিতে পৌরবাসী

আপডেট সময় ০৯:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

জামালপুরের ইসলামপুর পৌর এলাকায় সুপেয় পানি প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা এখনও হয়নি। ফলে নিম্নমানের কাজ সংযোগের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগে জনমনে চরম ক্ষোভের দেখা দিয়েছে।

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাঙ্খিত সেবা না পাওয়ায় পৌরবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তদারকি ও দুর্নীতির কারণে হয়ত প্রকল্পটি অনিশ্চিত হতে যাচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্য নিরাপদ পানি সরবরাহের দাবী জানান পৌরবাসী।

ইসলামপুর পৌর প্রকৌশলী ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে পাঁচ কোটি ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকার এই প্রকল্পে দুই হাজার ৪০০টি পরিবারকে নিরাপদ পানির আওতায় আনার পরিল্পনা নেয়া হয়। দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস আর কর্পোরেশন কাজ পায়। তবে প্রকল্পের কাজ সীমিত অগ্রগতি হলেও ইতোমধ্যে তিন কোটি ৮৩ লাখ ৮৯ হাজার ৮৩২ টাকার বিল উত্তোলনের করা হয়েছে।

জানা গেছে, পৌর এলাকার পাটনিপাড়া, বেপারীপাড়া, দরজীপাড়া, বোয়ালমারী, কুড়িপাড়া, খালেপাড়া, থানামোড়, নটারকান্দা, ফকিরপাড়া, মাজারবাড়ী, উত্তর ও দক্ষিণ দরিয়াবাদ এবং ঠাকুরগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় আংশিক পাইপ লাইন বসানো হয়েছে। তবে অধিকাংশ এলাকায় এখনও পানি সরবরাহ শুরু হয়নি। কোথাও পাইপ বসিয়ে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। কোথাও সংযোগের জন্য টাকা নেয়া হলেও পানি পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী তারা মাস্টার বলেন, পৌরসভা থেকে আমাদের বলা হল ৫০০ টাকা জমা দিলে দ্রুত বাড়িতে পানির লাইন আসবে। আমাদের আয়রন পানির সমস্যার কারণে দ্রুত নিরাপদ পানি পাওয়ার আশ্বাসে টাকা দিয়েছি। আজ এতদিন হয়ে গেল,পানির কোন খবর নেই। আমাদের সাথে এমন প্রতারণা কেন করা হচ্ছে? স্থানীয় বাসিন্দা মতি শেখ, লিয়াকত হোসাইন, শফিকুল ইসলাম, নজরুল মেলেটারি তারাও একই অভিযোগ করেন।

গৃহিনী মাছুমা আক্তার মিলি বরেন, আমাদের এলাকায় আইরন যুক্ত পানি থাকায় সুপেয় পানির লাইন দেওয়ার কথা বলে রসিদের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সুপেয় পানির দেখা মেলেনি। সড়ক খোঁড়া রেখে দেওয়ায় আমাদের চলাচলে কষ্ট হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পে নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক স্থানে সংযোগের আগেই পাইপ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে পুরো পানি সরবরাহ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

ইসলামপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, প্রকল্পের কাজ চলমান। ধাপে ধাপে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নেয়া এটা পৌরসভার আওতাধীন।

ইসলামপুর পৌরসভা সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোফাখখারুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন,  পরীক্ষামূলকভাবে পানি সরবরাহ করা হয়েছে। যারা লাইন পাননি তাহারা পর্যায়ক্রমেই সংযোগ পাবেন। তবে আমি যোগদান করার পর থেকে কোন বিল দেওয়া হয়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধি আরিফুল হক শাকিল এ প্রতিবেদককে বলেন, কাজ যতটুকু করেছি তার পুরো বিল না এখনো পাইনি। বর্তমানে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।