শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২৮ অক্টোবর, বুধবারের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর।
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) ২৭ অক্টোবর, মঙ্গলবারের এক পূর্বাভাসে জানায়, ‘অর্ণব’ নামের ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানার সময় ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ রূপ নিতে পারে। এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার (৮৭ মাইল) হতে পারে। মুম্বাই থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে এ ধরণের ঝড়কে হারিকেন ও প্রশান্ত মহাসাগরে টাইফুন বলা হয়। বঙ্গোপসাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় নিয়মিত হুমকি হয়ে দেখা দেয়।
তবে এল নিনো আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে নজিরবিহীন উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
এদিকে প্রবল বৃষ্টিপাতের সতর্কতার মধ্যে প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কায় স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
দেশটির আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করেছে, ঝড়ের কারণে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস হতে পারে।
কলম্বোর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হতে পারে।
এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দিতে পারে, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগের খুঁটি উপড়ে যেতে পারে ও জমিতে থাকা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু ঘূর্ণিঝড়ের গতিপ্রকৃতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সোমবার তার কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অন্ধ্র প্রদেশের কর্তৃপক্ষ নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি জেলায় মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ‘সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী ৪ হাজার ৭০০-এর বেশি অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক 























