জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন সমবায় সমিতিতে জমা রাখা আমানতের টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে লাঠি হাতে বিক্ষোভ মিছিল ও উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।
এ সময় তারা উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। ২৭ সেপ্টেম্বর, রবিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, টাকা উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন বিরতিহীনভাবে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবেন। ২৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার সকাল ৯টা থেকে কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দিয়ে তারা সব দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথাও জানান।
‘আন্দোলনরত সকল বঞ্চিত গ্রাহক’ ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রায় দেড় হাজার গ্রাহক অংশ নেন। দুপুরে মাদারগঞ্জ পৌরসভার গাবেরগ্রাম চৌরাস্তা মোড় এলাকা থেকে অর্থ উদ্ধার আন্দোলনের নেতা শিবলুল বারী রাজুর নেতৃত্বে লাঠি হাতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা উপজেলা পরিষদ চত্বরে আসেন। একপর্যায়ে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন তারা।
কর্মসূচি চলাকালে রকিবুল ইসলাম নামে একজন গ্রাহক ও অর্থ উদ্ধার কমিটির এক নেতার সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে তাকেসহ ১০ জন নারীকে উপজেলা পরিষদের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বিকাল সাড়ে ৫টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনিসহ ১০ জন নারী গ্রাহক সেখানে অবরুদ্ধ ছিলেন।
জেলা সমবায় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মাদারগঞ্জের ২৩টি সমবায় সমিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব সমিতির গ্রাহকসংখ্যা ৩২ হাজার ৪২৪ জন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব গ্রাহকের প্রায় ৭২০ কোটি ১৯ হাজার ১৫০ টাকা আটকে আছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক, প্রবাসী, দিনমজুর, পোশাকশ্রমিক ও চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এসব সমবায় সমিতির অধিকাংশের পরিচালক আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী। পাশাপাশি জামায়াতের নেতাদেরও একাধিক সমবায় সমিতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
অর্থ উদ্ধার আন্দোলনের নেতা শিবলুল বারী রাজু বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে আন্দোলন চলছে। এখনও গ্রাহকেরা তাদের আমানতের টাকা ফেরত পাননি। গ্রাহকদের আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। সংসদ সদস্যের দেওয়া প্রতিশ্রুতি সাধারণ গ্রাহকেরা মেনে নেননি। ওই প্রতিশ্রুতি ভুক্তভোগী গ্রাহকদের স্বার্থের পরিবর্তে সমবায়গুলোর মালিকপক্ষের স্বার্থ রক্ষা করবে বলে তিনি দাবি করেন।
রকিবুল নামে এক গ্রাহককে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে শিবলুল বারী রাজু এই প্রতিবেদককে বলেন, আন্দোলনের সময় ওই ব্যক্তি বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের সামনে উসকানিমূলক ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এতে উপস্থিত গ্রাহকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ধাওয়া করেন।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় এই প্রতিবেদককে বলেন, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছয়জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী (ইউএনও) বলেন, এই বিষয়ে এমপি মহোদয় ও অর্থ উদ্ধার কমিটির সঙ্গে কথা হয়েছিল। তারা আন্দোলন করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। এখন কি কারণে আবার আন্দোলন করছেন। সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তিনি জেলা পর্যায়ের একটি সভায় আছেন বলেও জানান।
খাদেমুল ইসলাম : নিজস্ব প্রতিবেদক, মাদারগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম 


















