জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার সারের সরবরাহ ও কঠোর মনিটরিংয়ের ফলে কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কৃষকেরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী সার পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। এদিকে ডিলারেরাও সরকার নির্ধারিত মূল্যে নিয়ম মেনে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করছেন। সার পেয়ে খুশি স্থানীয় কৃষকেরা।
উপজেলার কৃষি অফিসের তথ্য মতে, চলতি বছরে মেলান্দহ উপজেলার দুটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন চাষাবাদ করা হয়েছে। বন্যা না হওয়া ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় ব্যাপক রোপা আমন ধান চাষ করা হয়েছে। ধানের পাশাপাশি শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করেছেন কৃষকেরা। তবে চাষাবাদের অন্যতম উপকরণ সার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল এই উপজেলার কৃষকেরা। সকল সংকট কাটিয়ে কৃষি অফিসের তদারকিতে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে কৃষকদের মধ্যে সার সরবরাহ করা হচ্ছে।
উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. এবাদুল ইসলাম বলেন, আগে সার পাওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ায়ে থাকতে থাকতে দিন শেষ হইত। অনেক সময় গোডাউনে তালা পাইতাম। বেশি দাম দিয়াও সার মিলত না। এখন কোন ঝামেলা ছাড়াই সরকারি দামে ঠিকমত সার পাইতাছি। ফসলের জমিতে সময়মত সার দিতে পারায় আশা করি ফলন ভাল হবে।
আরেক কৃষক আব্দুস ছাত্তার মিয়া বলেন, সরকার নির্ধারিত দামেই সার কিনতে পারতাছি। আগের মত আর বাড়তি টাকা গুণতে হয় না। কৃষি অফিসের নির্দেশে ডিলারেরাও ঠিকমত সার দিচ্ছে।

সরকার নির্ধারিত মূল্যে স্বচ্ছতার সাথে সার বিতরণের কথা জানিয়েছেন সার ডিলারেরা। বিক্রয় প্রতিনিধি মাসুদুর রহমান বলেন, কৃষি অফিসের সার্বিক নির্দেশনায় সঠিকভাবে কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ করা হচ্ছে। কোন ধরনের সার সংকটের কথা কৃষকেরা বলছেন না। সারের জন্য কৃষকদের মধ্য কোন ধরনের শাঙ্কাও দেখছি না।
উপজেলার বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার লুৎফর রহমান বলেন, সরকার যে পরিমাণ বরাদ্দ দিচ্ছে তাতে করে কৃষকদের চাহিদা ভালভাবেই পূরণ করা যাচ্ছে। আমাদের কাছে সারের পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও মজুত রয়েছে। কোন কৃষকের যেন সার নিয়ে হয়রানি হতে না হয়, সেদিকে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি। সরকার নির্ধারিত মূল্যেই প্রতি বস্তা সার বিক্রি করছি।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমানুল্লাহ বলেন, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি ও কৃষকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রতিদিন কাজ করছি। নিয়মিত ব্লক পরিদর্শন করছি। কৃষকদের সার ও সারের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে পরামর্শ দিচ্ছি। বর্তমানে সারের কোন সংকট নেই।
আরেক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন বলেন, আমরা মাঠপর্যায়ে সবসময় তদারকি করছি। যাতে কোন ডিলার কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে বা নির্ধারিত মূল্যের বেশি দাম রাখতে না পারে। কৃষকেরা যাতে তাদের জমির পরিমাপ অনুযায়ী সঠিক সময়ে ও সঠিক মূল্যে সার পান, তা নিশ্চিত করছি। বর্তমানে কৃষকদের মধ্যে কোন অসন্তোষ নেই।
মেলান্দহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুর রৌফ এই প্রতিবেদককে বলেন, মেলান্দহ উপজেলায় সারের কোন ঘাটতি বা সংকট নেই। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সারের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তা সঠিকভাবে মাঠ পর্যায়ে বণ্টন করা হচ্ছে। আমরা নিয়মিত মনিটরিং টিম পরিচালনা করছি। যাতে নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কেউ সার বিক্রি করতে না পারে। কৃষকদের উৎপাদনে সহায়তা করতে আমাদের কৃষি বিভাগ সবসময় পাশে রয়েছে।
মুত্তাছিম বিল্লাহ : নিজস্ব প্রতিবেদক, মেলান্দহ, বাংলারচিঠিডটকম 


















