শেরপুরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে সংঘবদ্ধ কিশোরদের হামলার ১০ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আল মুহতাসিম সায়িব (১৭) নামে এক কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছেন। ৯ জুন, দুপুরে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা।
নিহত সায়িব শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং পৌর শহরের দমদমা কালিগঞ্জ মহল্লার বাসিন্দা মালেক মিয়ার একমাত্র সন্তান।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২৯ মে, শুক্রবার তাতালপুর বিএম কলেজ রোড এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘবদ্ধ একদল কিশোর গ্যাং সদস্য সায়িবের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৮ জুন, সোমবার মারা যায়।
নিহতের বাবা মালেক মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার একমাত্র ছেলেকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার সন্তানের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। কোন বাবা-মায়ের যেন আর এভাবে সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে না হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সায়িবের স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনার পরপরই ১৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ভুক্তভোগীর মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মুগনিউর রহমান মনি : নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর, বাংলারচিঠিডটকম 


















