ঢাকা ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি ব্যবস্থার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী রামিসা হত্যা মামলার বিচার ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদরাসাশিক্ষার্থী কন্যাশিশু নিখোঁজ ঈদযাত্রায় রেলে বাড়তি চাপের মধ্যেও শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই : রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন, কৃষক গ্রেপ্তার বর্তমান সরকার একটি উৎপাদনমুখী রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে : শামীম তালুকদার উপাত্ত ছাড়া যে কোনো তথ্য কেবলই ব্যক্তিগত অভিমত : তথ্যমন্ত্রী জামালপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী নজরুল মেলা পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

জামালপুরে দুটি সংগঠনের বর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল বর্ষবরণ অনুষ্ঠান

জামালপুর : জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের শেষের দিকে দেখা দেয় বিশৃংখলা। কমে যায় দর্শক। অনুষ্ঠান বর্জন করে দুটি সংগঠন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ সাল উপলক্ষ্যে বর্ণ্যাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। ১৪ এপ্রিল, মঙ্গলবার সকালে বৈশাখী শোভাযাত্রা শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তবে তালিকায় নাম থাকার পরও পরিবেশনের সুযোগ না পাওয়ায় ও অনুষ্ঠান শেষ হওয়ায় আগেই বাদ্যযন্ত্র গুছিয়ে যন্ত্রীরা মঞ্চ ত্যাগ করায় দুইটি সংগঠনের বর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মীরা।

পহেলা বৈশাখে জামালপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জামালপুর শহরের বকুলতলা চত্বর থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাড়াও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। পরে সেখানে জেলা প্রশাসন, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ও জেলা শিশু একাডেমির আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ও জেলা শিশু একাডেমি ছাড়াও জেলার আটটি সাংস্কৃতিক সংগঠনকে অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। সংগঠনগুলো হলো- উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, নবাঙ্কুর শিশু-কিশোর সংগঠন, মনিমেলা খেলাঘর আসর, জামালপুর লালন একাডেমি, বর্ণালী, লোকজ, সড়ঙ্গ ও ধ্রুবতারা সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র।

সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। একে একে বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা মঞ্চে এসে তাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। শিশু-কিশোর সংগঠন নবাঙ্কুরের শিশু শিল্পীরা শোভাযাত্রা শেষে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার জন্য বসেছিল। ইতিমধ্যে তালিকায় নাম থাকা মনিমেলা খেলাঘর আসর তাদের পরিবেশনা শেষ করে এবং শিশু-কিশোর শিল্পীদের নিয়ে মঞ্চে উঠে আরেক সংগঠন বর্ণালী। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত বসে থাকায় শিশু শিল্পীদের মধ্যে অস্বস্তি শুরু হয়।

এ সময় নাবাঙ্কুর সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোসকে বিষয়টি জানানো হয় এবং কোন সময় তাদের পরিবেশনা হবে সেটি জানাতে চাওয়া হয়। তবে সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোস কোন সংগঠনের পরে কোন সংগঠন মঞ্চে আসবে, সংগঠনের তালিকা প্রদর্শণ বা নবাঙ্কুরের শিল্পীরা কয়টায় মঞ্চে উঠার সুযোগ পাবে তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

এতে করে মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় শিশু শিল্পীদের নিয়ে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও অভিভাবকেরা অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করেন। পাশেই মডেল মসজিদে জোহর নামাজের আজান শুরু হলে বর্ণালী সংগঠন তাদের পরিবেশনা সংক্ষিপ্ত করে মঞ্চ ত্যাগ করে। অনুষ্ঠানের পুরো সময় জুড়ে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মঞ্চে অবস্থান করলেও সে সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না।

এ সময় হঠাৎ করে যন্ত্রশিল্পীরা তাদের বাদ্যযন্ত্র গুছিয়ে মঞ্চ ত্যাগ করেন। আজানের বিরতির পর বাদ্যযন্ত্র শিল্পীরা না থাকার পরও ধ্রুবতারা সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্রকে মঞ্চে ডাকা হয় তাদের পরিবেশনার জন্য। মঞ্চে ধ্রুবতারা সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্রের শিশু শিল্পীদের আবৃতি পরিবেশনা চলাকালে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোসের অনুপস্থিতিতেই জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি রেজভী আল জামালী রনজু জামালপুর লালন একাডেমির শিল্পীদের গান পরিবেশনের জন্য মঞ্চে ডাকেন।

কিন্তু যন্ত্র শিল্পীরা বাদ্যযন্ত্র গুছিয়ে রাখায় এবং যন্ত্র শিল্পীরা সেখানে উপস্থিত না থাকায় জামালপুর লালন একাডেমির শিল্পীরা মঞ্চে উঠতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য শিল্পীরা অনুষ্ঠান বর্জন করে সেখান থেকে চলে আসেন। এতে করে কোন ঘোষণা ছাড়াই অনুষ্ঠান শেষ হয়।

নবাঙ্কুর শিশু-কিশোর সংগঠনের সভাপতি রফিকুজ্জামান মল্লিক বলেন, সাধারণত শিশুদের সংগঠনকে আগে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু সকালে শোভাযাত্রা শেষ করে দুপুর পর্যন্ত অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার জন্য বসে থাকায় তাদের মধ্যে অস্বস্তি শুরু হয়। আমাদের পরিবেশনা কখন হবে বিষয়টি জানতে চাইলে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা কোন কর্ণপাত করেন না। তালিকায় নবাঙ্কুর কত নম্বরে তা দেখাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। পরে আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান স্থল থেকে চলে আসি। আমাদের সাথে কথা না বলে সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা নিজেই তার ইচ্ছামত অনুষ্ঠানসূচি তৈরি করেছেন।

জামালপুর লালন একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, আজকের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের জন্য জামালপুর লালন একাডেমিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু অনুষ্ঠানসূচি বা কোন সংগঠনের পর কোন সংগঠন অংশ নিবে তা নিয়ে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা আমাদের সাথে কোন যোগাযোগ করেননি। এমন সময় আমাদের মঞ্চে ডাকা হয় যখন কোন বাদ্যযন্ত্র শিল্পী ছিল না। উল্লেখযোগ্য কোন দর্শকও ছিল না। এ কারণে আমরা অনুষ্ঠান বর্জন করি।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আইনজীবী ইউসুফ আলী বলেন, বর্ষবরণ অনুষ্ঠান উদযাপনের জন্য সাংস্কৃতিক উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই উপ-কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলাম। কোন কোন সংগঠন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিবে তার তালিকা উপ-কমিটির তৈরি করার কথা ছিল। কিন্তু উপ-কমিটির সদস্য সচিব জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা এ বিষয়ে কারও সাথে কথা না বলেই তিনি নিজের ইচ্ছামত তালিকা তৈরি করেছেন। জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই যন্ত্র শিল্পীরা মঞ্চ ত্যাগ করা সংশ্লিষ্টদের চরম দায়িত্বহীনতা। জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তার আচরণে সংস্কৃতি কর্মীরা ভীষণ ক্ষুব্ধ।

এ ব্যাপারে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোস এ প্রতিবেদককে বলেন, সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে বসে কথা বলেছি। কিভাবে অনুষ্ঠানসূচি তৈরি হবে সেই সিদ্ধান্ত তারা দিয়েছেন। এখন অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় কেউ কেউ বলেছে আমাকে আগে পরিবেশনা করতে দিন। এখন আমি কাকে ছেড়ে কাকে আগে দিব? তাই দুটি সংগঠন রাগ করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে গেছে। এখানে আমার কিছু করার ছিল না। দুটি সংগঠন অংশ না নেয়ায় ও বাদ্যযন্ত্র শিল্পীদের আরেকটি অনুষ্ঠান থাকায় তারা সেখানে চলে গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি ব্যবস্থার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

জামালপুরে দুটি সংগঠনের বর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল বর্ষবরণ অনুষ্ঠান

আপডেট সময় ১০:৪২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

জামালপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ সাল উপলক্ষ্যে বর্ণ্যাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। ১৪ এপ্রিল, মঙ্গলবার সকালে বৈশাখী শোভাযাত্রা শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তবে তালিকায় নাম থাকার পরও পরিবেশনের সুযোগ না পাওয়ায় ও অনুষ্ঠান শেষ হওয়ায় আগেই বাদ্যযন্ত্র গুছিয়ে যন্ত্রীরা মঞ্চ ত্যাগ করায় দুইটি সংগঠনের বর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মীরা।

পহেলা বৈশাখে জামালপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জামালপুর শহরের বকুলতলা চত্বর থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাড়াও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। পরে সেখানে জেলা প্রশাসন, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ও জেলা শিশু একাডেমির আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ও জেলা শিশু একাডেমি ছাড়াও জেলার আটটি সাংস্কৃতিক সংগঠনকে অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। সংগঠনগুলো হলো- উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, নবাঙ্কুর শিশু-কিশোর সংগঠন, মনিমেলা খেলাঘর আসর, জামালপুর লালন একাডেমি, বর্ণালী, লোকজ, সড়ঙ্গ ও ধ্রুবতারা সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র।

সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। একে একে বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা মঞ্চে এসে তাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। শিশু-কিশোর সংগঠন নবাঙ্কুরের শিশু শিল্পীরা শোভাযাত্রা শেষে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার জন্য বসেছিল। ইতিমধ্যে তালিকায় নাম থাকা মনিমেলা খেলাঘর আসর তাদের পরিবেশনা শেষ করে এবং শিশু-কিশোর শিল্পীদের নিয়ে মঞ্চে উঠে আরেক সংগঠন বর্ণালী। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত বসে থাকায় শিশু শিল্পীদের মধ্যে অস্বস্তি শুরু হয়।

এ সময় নাবাঙ্কুর সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোসকে বিষয়টি জানানো হয় এবং কোন সময় তাদের পরিবেশনা হবে সেটি জানাতে চাওয়া হয়। তবে সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোস কোন সংগঠনের পরে কোন সংগঠন মঞ্চে আসবে, সংগঠনের তালিকা প্রদর্শণ বা নবাঙ্কুরের শিল্পীরা কয়টায় মঞ্চে উঠার সুযোগ পাবে তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

এতে করে মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় শিশু শিল্পীদের নিয়ে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও অভিভাবকেরা অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করেন। পাশেই মডেল মসজিদে জোহর নামাজের আজান শুরু হলে বর্ণালী সংগঠন তাদের পরিবেশনা সংক্ষিপ্ত করে মঞ্চ ত্যাগ করে। অনুষ্ঠানের পুরো সময় জুড়ে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মঞ্চে অবস্থান করলেও সে সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না।

এ সময় হঠাৎ করে যন্ত্রশিল্পীরা তাদের বাদ্যযন্ত্র গুছিয়ে মঞ্চ ত্যাগ করেন। আজানের বিরতির পর বাদ্যযন্ত্র শিল্পীরা না থাকার পরও ধ্রুবতারা সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্রকে মঞ্চে ডাকা হয় তাদের পরিবেশনার জন্য। মঞ্চে ধ্রুবতারা সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্রের শিশু শিল্পীদের আবৃতি পরিবেশনা চলাকালে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোসের অনুপস্থিতিতেই জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি রেজভী আল জামালী রনজু জামালপুর লালন একাডেমির শিল্পীদের গান পরিবেশনের জন্য মঞ্চে ডাকেন।

কিন্তু যন্ত্র শিল্পীরা বাদ্যযন্ত্র গুছিয়ে রাখায় এবং যন্ত্র শিল্পীরা সেখানে উপস্থিত না থাকায় জামালপুর লালন একাডেমির শিল্পীরা মঞ্চে উঠতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য শিল্পীরা অনুষ্ঠান বর্জন করে সেখান থেকে চলে আসেন। এতে করে কোন ঘোষণা ছাড়াই অনুষ্ঠান শেষ হয়।

নবাঙ্কুর শিশু-কিশোর সংগঠনের সভাপতি রফিকুজ্জামান মল্লিক বলেন, সাধারণত শিশুদের সংগঠনকে আগে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু সকালে শোভাযাত্রা শেষ করে দুপুর পর্যন্ত অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার জন্য বসে থাকায় তাদের মধ্যে অস্বস্তি শুরু হয়। আমাদের পরিবেশনা কখন হবে বিষয়টি জানতে চাইলে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা কোন কর্ণপাত করেন না। তালিকায় নবাঙ্কুর কত নম্বরে তা দেখাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। পরে আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান স্থল থেকে চলে আসি। আমাদের সাথে কথা না বলে সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা নিজেই তার ইচ্ছামত অনুষ্ঠানসূচি তৈরি করেছেন।

জামালপুর লালন একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, আজকের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের জন্য জামালপুর লালন একাডেমিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু অনুষ্ঠানসূচি বা কোন সংগঠনের পর কোন সংগঠন অংশ নিবে তা নিয়ে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা আমাদের সাথে কোন যোগাযোগ করেননি। এমন সময় আমাদের মঞ্চে ডাকা হয় যখন কোন বাদ্যযন্ত্র শিল্পী ছিল না। উল্লেখযোগ্য কোন দর্শকও ছিল না। এ কারণে আমরা অনুষ্ঠান বর্জন করি।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আইনজীবী ইউসুফ আলী বলেন, বর্ষবরণ অনুষ্ঠান উদযাপনের জন্য সাংস্কৃতিক উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই উপ-কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলাম। কোন কোন সংগঠন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিবে তার তালিকা উপ-কমিটির তৈরি করার কথা ছিল। কিন্তু উপ-কমিটির সদস্য সচিব জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা এ বিষয়ে কারও সাথে কথা না বলেই তিনি নিজের ইচ্ছামত তালিকা তৈরি করেছেন। জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই যন্ত্র শিল্পীরা মঞ্চ ত্যাগ করা সংশ্লিষ্টদের চরম দায়িত্বহীনতা। জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তার আচরণে সংস্কৃতি কর্মীরা ভীষণ ক্ষুব্ধ।

এ ব্যাপারে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোস এ প্রতিবেদককে বলেন, সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে বসে কথা বলেছি। কিভাবে অনুষ্ঠানসূচি তৈরি হবে সেই সিদ্ধান্ত তারা দিয়েছেন। এখন অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় কেউ কেউ বলেছে আমাকে আগে পরিবেশনা করতে দিন। এখন আমি কাকে ছেড়ে কাকে আগে দিব? তাই দুটি সংগঠন রাগ করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে গেছে। এখানে আমার কিছু করার ছিল না। দুটি সংগঠন অংশ না নেয়ায় ও বাদ্যযন্ত্র শিল্পীদের আরেকটি অনুষ্ঠান থাকায় তারা সেখানে চলে গেছে।