ঐতিহ্যবাহী জামালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিদর্শন করেছেন জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য আইনজীবী শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।
১৪ মার্চ, শনিবার বিদ্যালয়টি পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও জামালপুর পৌরসভার প্রশাসক মৌসুমী খানম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেন প্রমুখ।
জামালপুর উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। জামালপুর জিলা স্কুলের উপর চাপ কমাতে এলাকাবাসীর চাহিদা মোতাবেক তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের আন্তরিকতায় বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে সময়ের প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ বিদ্যালয়টির শিক্ষার গুণগত ও মান উন্নয়নে সকল মহলের কাছে সমাদৃত হয়। বিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী রাজনীতি, চিকিৎসা, প্রশাসন এবং ব্যবসা বাণিজ্য তথা এলাকা ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রেখে আসছেন। বর্তমান সংসদ সদস্য আইনজীবী শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন এই বিদ্যালয়ের একজন গর্বিত ছাত্র। কালের বিবর্তনে এবং নীতিনির্ধারক মহলের সুদৃষ্টি না পড়ায় অবকাঠামোগতভাবে এখনও পিছিয়ে আছে বিদ্যালয়টি।

পুরাতন ভবনটি ২০০৭ সালে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে ঘোষণা করা হয়। জায়গার সংকুলান না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছিলেন শিক্ষকেরা। ২০২৫ সালে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের পরিদর্শনের পর ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৭২০ জন শিক্ষার্থী ও ২৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। জায়গার সংকুলান না হওয়ায় পাঠদানে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এছাড়া অনতিবিলম্বে পরিত্যক্ত ভবনটি ভাঙা না হলে সামান্য ভূমিকম্পে ধ্বসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, আমি এই স্কুলের ছাত্র ছিলাম। পৌরসভার মেয়র থাকাকালীন কিছুটা সংস্কার করেছি। মাঠে মাটি ভরাট, রাস্তা পাকাকরণসহ সামর্থের মধ্যে চেষ্টা করেছি। সাবেক ছাত্ররাও চাঁদা দিয়েছে সংস্কার কাজে।
তিনি জেলা প্রশাসককে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী বিভাগের মাধ্যমে সকল সম্ভাব্যতা যাছাই করে প্রাক্কলন তৈরির তাগিদ দেন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণ করে নতুন ভবন নির্মাণে সর্বাত্মক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী প্রশাসনিকভাবে দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দিবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
এ সময় বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি লোকমান হোসেন খান, প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক, কর্মচারী, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
জাহাঙ্গীর সেলিম : সম্পাদক, বাংলারচিঠিডটকম 



















