ঢাকা ০১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার : আইনমন্ত্রী স্বাধীনতা পুরস্কার হস্তান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রী ২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রতারক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মনির গ্রেপ্তার মুন মেমোরিয়ালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা বকশীগঞ্জের কৃষকেরা বিনামূল্যে পেল বীজ সার গণপরিবহনে যাত্রীবান্ধব সেবার দাবিতে সনাকের মানববন্ধন শেরপুরে ১ লাখ ৬১ হাজার শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে টাইমের ২০২৬ সালের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় তারেক রহমান আগামী দুই মাসেও জ্বালানি তেলের সমস্যা হবে না : জ্বালানি মুখপাত্র

মাদারগঞ্জে প্রণোদনায়ও বাড়ছে না গমের আবাদ

মাদারগঞ্জ : গম ক্ষেত। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে গমের আবাদ। সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হলেও কৃষকদের আগ্রহ ফেরানো যাচ্ছে না। লাভ কম, শ্রমিক সংকট, মাড়াইয়ের জটিলতা, বৈরী আবহাওয়া ও ভালমানের বীজের অভাবসহ নানা সমস্যায় গম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন চাষিরা। ফলে চাষিরা গমের পরিবর্তে ভুট্টা, ধানসহ অন্যান্য লাভজনক ফসলের চাষাবাদে ঝুঁকছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মাত্র ৬৫ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। গত বছর এই আবাদ ছিল ৭৫ হেক্টর। এর আগের বছরগুলোতে গমের আবাদ আরও বেশি ছিল। ২০২২ সালে ৩৩৫ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছিল। গত তিন বছরের ব্যবধানে আবাদ কমে এসেছে পাঁচগুণেরও বেশি।

গম চাষে উৎসাহ বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উঠান বৈঠক, মাঠএলাকা প্রদর্শনী ও কৃষক প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দেড় শতাধিক কৃষককে প্রণোদনা হিসাবে উন্নত জাতের গমবীজ ও সার দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গমের খেত দেখা গেলেও আবাদ খুবই সীমিত। কোথাও কোথাও গমের শীষ বের হতে শুরু করেছে। কৃষকেরা জানান, সময়মত বীজ বপণ, সেচ ও সার প্রয়োগ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গম চাষে উৎপাদন খরচ বেশি হলেও লাভ কম। পাশাপাশি মাড়াইয়ের যন্ত্রের সংকট ও ইঁদুরের উপদ্রব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে ভুট্টা চাষে খরচ কম, ফলন বেশি এবং রোগবালাইও তুলনামূলক কম।

জোড়খালী ইউনিয়নের ফুলজোড় গ্রামের কৃষক উজ্জল মিয়া বলেন, গমের চেয়ে ভুট্টা চাষে খরচ কম। লাভ বেশি। তাই আমরা গম ছেড়ে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছি।

একই এলাকার কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আগে ১০ বিঘা জমিতে গম করেছি। এখন পুরোটাই ভুট্টা চাষ করছি। ভুট্টায় সেচ কম লাগে। খরচও কম। বিঘায় ৪০-৪৫ মণ ফলন হয়। গমে ১৩-১৪ মণ। গমে লোকসানের ভয় থাকে সব সময়। তাই কয়েক বছর ধরে ভুট্টাতেই ঝুঁকছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, কৃষকেরা এখন লাভজনক ফসলের দিকেই ঝুঁকছেন। গমের পরিবর্তে ভুট্টা, ধান ও সরিষার আবাদ বাড়ছে। তবু গমের আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গম চাষ সম্প্রসারণে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গম কাটার পর মাড়াইয়ের সমস্যা, ইঁদুরের উপদ্রব এবং অন্যান্য ফসলে তুলনামূলক বেশি লাভ হওয়ায় অনেক কৃষক গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী

মাদারগঞ্জে প্রণোদনায়ও বাড়ছে না গমের আবাদ

আপডেট সময় ০৯:০০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে গমের আবাদ। সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হলেও কৃষকদের আগ্রহ ফেরানো যাচ্ছে না। লাভ কম, শ্রমিক সংকট, মাড়াইয়ের জটিলতা, বৈরী আবহাওয়া ও ভালমানের বীজের অভাবসহ নানা সমস্যায় গম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন চাষিরা। ফলে চাষিরা গমের পরিবর্তে ভুট্টা, ধানসহ অন্যান্য লাভজনক ফসলের চাষাবাদে ঝুঁকছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মাত্র ৬৫ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। গত বছর এই আবাদ ছিল ৭৫ হেক্টর। এর আগের বছরগুলোতে গমের আবাদ আরও বেশি ছিল। ২০২২ সালে ৩৩৫ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছিল। গত তিন বছরের ব্যবধানে আবাদ কমে এসেছে পাঁচগুণেরও বেশি।

গম চাষে উৎসাহ বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উঠান বৈঠক, মাঠএলাকা প্রদর্শনী ও কৃষক প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দেড় শতাধিক কৃষককে প্রণোদনা হিসাবে উন্নত জাতের গমবীজ ও সার দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গমের খেত দেখা গেলেও আবাদ খুবই সীমিত। কোথাও কোথাও গমের শীষ বের হতে শুরু করেছে। কৃষকেরা জানান, সময়মত বীজ বপণ, সেচ ও সার প্রয়োগ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গম চাষে উৎপাদন খরচ বেশি হলেও লাভ কম। পাশাপাশি মাড়াইয়ের যন্ত্রের সংকট ও ইঁদুরের উপদ্রব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে ভুট্টা চাষে খরচ কম, ফলন বেশি এবং রোগবালাইও তুলনামূলক কম।

জোড়খালী ইউনিয়নের ফুলজোড় গ্রামের কৃষক উজ্জল মিয়া বলেন, গমের চেয়ে ভুট্টা চাষে খরচ কম। লাভ বেশি। তাই আমরা গম ছেড়ে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছি।

একই এলাকার কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আগে ১০ বিঘা জমিতে গম করেছি। এখন পুরোটাই ভুট্টা চাষ করছি। ভুট্টায় সেচ কম লাগে। খরচও কম। বিঘায় ৪০-৪৫ মণ ফলন হয়। গমে ১৩-১৪ মণ। গমে লোকসানের ভয় থাকে সব সময়। তাই কয়েক বছর ধরে ভুট্টাতেই ঝুঁকছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, কৃষকেরা এখন লাভজনক ফসলের দিকেই ঝুঁকছেন। গমের পরিবর্তে ভুট্টা, ধান ও সরিষার আবাদ বাড়ছে। তবু গমের আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গম চাষ সম্প্রসারণে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গম কাটার পর মাড়াইয়ের সমস্যা, ইঁদুরের উপদ্রব এবং অন্যান্য ফসলে তুলনামূলক বেশি লাভ হওয়ায় অনেক কৃষক গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।