এতিম, হতদরিদ্র, মেধাবী এবং বিপদাপন্ন শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা অব্যাহত রাখা এবং ভাল মানুষ হিসেবে সমাজে নিজেদের প্রতিষ্ঠা লাভে ভিত্তি তৈরি করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ১৫৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপবৃত্তির আর্থিক সহায়তার টাকা বিতরণ করেছে বেসরকারি সেবামূলক সংস্থা দোস্ত এইড। এ উপলক্ষে ৮ জুলাই, মঙ্গলবার সকালে জামালপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির বীর মুক্তিযোদ্ধা গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংস্থাটি।
জামালপুরের জেলা প্রশাসক হাছিনা বেগমের সভাপতিত্বে শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা বিতরণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত আন্তর্জাতিক এনজিও প্রধানগণ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামালপুরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম পিপিএম-সেবা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাত শহীদ পিংকী, দোস্ত এইডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, UNIW এর কাউন্সিল মেম্বার আবু বকর মাহমুদ নিয়াজ, ড. মোকতার আলাশরি, সদর সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন, উবাইদে চানাকজি, আদিল ইারানগুনালি, মুহাম্মদ হুসাইন আকটা, হালিত ইসাগলু, মাহফুজ নাফিজ কাদিনান, মুসাব কাদিনান, হাদিয়েত ওগুজহান, IIFSO এর সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, জামালপুর জেলা এনজিও সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম, ব্র্যাক জামালপুর জেলা প্রধান ফারুক হোসেন, জামালপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ফজলে এলাহি মাকাম, ওয়ার্ল্ড ভিশনের জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রাম এপির এরিয়া ম্যানেজার বিমল জেমস কস্তা, এফপিএবি জামালপুরের প্রধান মাহিনুর সিদ্দিকা, ব্যুরো বাংলাদেশ জেলা প্রধান হাফিজুর রহমান, টিআইবি জেলা প্রধান আরিফ হোসেন, ইসলামিক রিলিফ জেলা কো-অর্ডিনেটর আব্দুল্লাহ, পারি উন্নয়ন সংস্থার জেলা সমন্বয়ক রাজু, দোস্ত এইডের হেড অব অ্যাকাউন্টস এণ্ড এডমিন কহিনুর আলম চৌধুরী, প্রোজেক্ট ম্যানেজার আবুল কায়েস, অপারেশন ম্যানেজার জহুরুল ইসলামসহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে দোস্ত এইডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেখানে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে আমাদের সন্তানদেরকেও আগামীর বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। এই লক্ষ্যকে সামনে নিয়েই দোস্ত এইডের স্কলারশিপ প্রোজেক্ট।
তিনি বলেন, এই প্রোজেক্টের মাধ্যমে সারাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এতিম শিক্ষার্থীদেরকে নিয়মিত মাসিক বৃত্তি প্রদান করা হয়। আমরা প্রতিটি বৃত্তি অনুষ্ঠানে দেশ ও বিদেশের প্রমিনেন্ট ব্যক্তিদেরকে নিয়ে আসার চেষ্টা করি। এর মূল উদ্দেশ্য হল- এতিম শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদেরকে এই বার্তা দেওয়া যেন তারা নিজেদেরকে একা অনুভব না করেন। আমরা তাদেরকে বোঝাতে চাই যে, এতিম শিক্ষার্থীদের পাশে মাথার ছাতা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দোস্ত এইড।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার একটি দেশ। এই সম্ভাবনাকে খুব সহজেই বাস্তবে রূপ দান সম্ভব। টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৮ সালে দোস্ত এইড প্রতিষ্ঠা করা হয়। এসডিজির প্রায় সবগুলো অভীষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে দোস্ত এইড। দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, বেকারত্ব দূরীকরণ, স্বাবলম্বীকরণ, ছানি অপারেশন, হুইলচেয়ার বিতরণ, প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন, গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণ, শিক্ষাবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, টিউবওয়েল, সাবমার্সিবল পাম্প ও অযুখানা স্থাপন, বৃক্ষরোপণ, মসজিদ মাদরাসা নির্মাণ, ফুড প্যাকেট বিতরণ, কুরবানির মাংস বিতরণসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে অতি অল্প সময়েই দেশব্যাপী দোস্ত এইডের সেবা পৌঁছে দিতে পেরেছে। বাংলাদেশের উন্নয়নে আন্তরিক সহযোগী হিসেবে কাজ করতে এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে আন্তর্জাতিক অতিথিবৃন্দের উদ্দেশ্যে উদাত্ত আহ্বান জানান।
IIFSO-এর সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বলেন, দোস্ত এইডের শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রমে অংশ নিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই সংস্থাটি শুধু অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, বরং ভালোবাসা, সম্মান ও আত্মবিশ্বাসও বিলিয়ে দেয় এতিম ও প্রান্তিক শিশুদের মাঝে। এই ধরনের কার্যক্রম তরুণ প্রজন্মকে আলোকিত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। আমি দোস্ত এইডের কার্যক্রমে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত এবং IIFSO সবসময় তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা একটি ন্যায্য ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তুলতে পারি।
UNIW এর কাউন্সিল মেম্বার আদিল ইরানুগালি বলেন , আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, এতিম শিক্ষার্থীদের পাশে দোস্ত এইড সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি দোস্ত এইডের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ফাণ্ড নিয়ে আসতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার কাছে সব সময়ই প্রচেষ্টা চালিয়ে যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আন্তরিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলমের দোস্ত এইড এখন সমগ্র বিশ্বে সমাদৃত। দাতা সংস্থাগুলো দোস্ত এইডের ব্যাপারে অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী রাখে। তিনি দোস্ত এইডের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।

চমৎকার আয়োজনের জন্য দোস্ত এইডের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক হাছিনা বেগম বলেন, অসহায় মানুষের দু:খ লাঘবে দোস্ত এইড প্রতিনিয়ত ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এ কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। এ ছাড়াও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের জামালপুরে নিয়ে আসার মাধ্যমে জামালপুরের সুনাম বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি দোস্ত এইডের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অসহায় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সবসময়ই পাশে দাঁড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক অতিথিবৃন্দের প্রতিও আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।
পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম পিপিএম-সেবা বলেন, দোস্ত এইডের উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিনিধিদল নিয়মিত আসেন। এটি নিঃসন্দেহে সংস্থার স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে অন্যতম সহায়ক। দাতা সংস্থাদের নিয়মিত আগমন এই অঞ্চলের মানুষের জন্য আরও সুফল বয়ে আনবে।
আলোচনা শেষে জেলা প্রশাসক ও দোস্ত এইডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী অসহায় ১৫৩ জন এতিম, হতদরিদ্র, মেধাবী এবং বিপদাপন্ন শিক্ষার্থীদের মাঝে নয় লাখ ১৮ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলারচিঠিডটকম 



















