ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্থানান্তরের আবেদন নেই : জাল কাগজে বদলে গেল সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থীর ভোটার এলাকা জামালপুরে রোটারি ক্লাবের উদ্যোগে মাদকবিরোধী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত বকশীগঞ্জে ইউএনও’র অভিযানে ২৩ বস্তা সার জব্দ বীর মুক্তিযোদ্ধা আহসানুল করিমের দাফন সম্পন্ন, দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় সম্মান স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের অপরাধে যুবকের কারাদণ্ড দেওয়ানগঞ্জে নদী থেকে শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার ডেঙ্গু রোগীদের মশারি দিলেন যুবদলনেতা সোহেল রানা খান মাদারগঞ্জে ফ্রিজে ৪০ কেজি পচা মাংস, ব্যবসায়ীকে জরিমানা শেরপুর বার্ড ক্লাব ও শাইন এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ বিএনপিনেতা শাহ মাসুদের নির্বাচনী গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ

স্থানান্তরের আবেদন নেই : জাল কাগজে বদলে গেল সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থীর ভোটার এলাকা

ইসলামপুর : ইসলামপুর উপজেলা নির্বাচন অফিস। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় জালিয়াতির মাধ্যমে ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থী ও তার ভাইয়ের ভোটার এলাকা অন্য উপজেলা স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।

জানা গেছে, উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের পূর্ব কান্দারচর গ্রামের নূরনবী শেখ ও তার ভাই মিলন শেখ। পূর্ব পূরুষ থেকেই ওই এলাকায় বসবাস করছেন। নূরনবী শেখ বিগত ২০২১ সালের ই্উনিয়ন পরিষদের সাধারণ সদস্য পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয়ে আবারও আগামী ইউপি নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ সময় ভোটার তালিকা যাচাই করতে গিয়ে জানতে পারেন তার ও সহোদর ভাইয়ের ভোটার এলাকা অন্য উপজেলায় স্থানান্তর হয়েছে। স্থানীয় একটি চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে অফিস সহকারীদের সহায়তায় অর্থের বিনিময়ে এমন ঘটনা ঘটেছে।

১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, ২০ জুলাই, সোমবার নূরনবী শেখ ও মিলন শেখের ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করা হয়। এরপর ২৫ আগস্ট, মঙ্গলবার ইসলামপুর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আবেদনগুলো পাঠানো হয়। অনুমোদনের পর মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে নূরনবী শেখের ভোটার এলাকা দুরমুঠ ইউনিয়নের হাতিজা গ্রামে এবং মিলন মিয়ার ভোটার এলাকা জাঙ্গালিয়া গ্রামে স্থানান্তর করা হয়।

নূরনবী শেখ বলেন, আমার পূর্ব পুরুষ থেকেই ইসলামপুর উপজেলার পূর্ব কান্দার চর গ্রামে বসবাস করছি। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিতও হয়েছি। এবার নির্বাচন প্রস্তুতি নিতে ভোটার তালিকা যাচাই করতে গিয়ে জানতে পারি, আমার ও ভাইয়ের ভোটার এলাকা অন্য উপজেলায় স্থানান্তর করা হয়েছে। আমি যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারি। সে জন্য স্থানীয় একটি চক্র মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহকারীদের যোগসাজসে জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছে।

মিলন শেখ বলেন, আমার ভাইয়ের মেম্বার পদে তাদের প্রার্থিতা বাধাগ্রস্ত করতে অর্থের বিনিময়ে এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। স্থানীয় একটি মহল জালিয়াতির মাধ্যমে এমন কাজ করেছে। তারা উপজেলা নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করে জালিয়াতির সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে দাবি জানান।

এলাকাবাসীর দাবী, নূরনবী শেখ ও তার ভাইয়ের নাম পুনরায় চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভক্ত করে তার ভোটাধিকার ও নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এ ব্যাপারে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ভূইয়া এই প্রতিবেদককে বলেন, ভোটার এলাকা স্থানান্তরের যাবতীয় কাজ মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সম্পন্ন করেছে। আমরা শুধু অনুমোদন দিয়েছি।

মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ কামরুল হাসান এই প্রতিবেদককে বলেন, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামপুরের বাসিন্দা দুই ব্যক্তির ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে মেলান্দহে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে জানতে পেরেছি, একটি চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন করেছিল। তখন বিষয়টি বুঝতে পারিনি। ভোটার এলাকা ঠিক করে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

স্থানান্তরের আবেদন নেই : জাল কাগজে বদলে গেল সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থীর ভোটার এলাকা

স্থানান্তরের আবেদন নেই : জাল কাগজে বদলে গেল সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থীর ভোটার এলাকা

আপডেট সময় ০৯:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় জালিয়াতির মাধ্যমে ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থী ও তার ভাইয়ের ভোটার এলাকা অন্য উপজেলা স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।

জানা গেছে, উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের পূর্ব কান্দারচর গ্রামের নূরনবী শেখ ও তার ভাই মিলন শেখ। পূর্ব পূরুষ থেকেই ওই এলাকায় বসবাস করছেন। নূরনবী শেখ বিগত ২০২১ সালের ই্উনিয়ন পরিষদের সাধারণ সদস্য পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয়ে আবারও আগামী ইউপি নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ সময় ভোটার তালিকা যাচাই করতে গিয়ে জানতে পারেন তার ও সহোদর ভাইয়ের ভোটার এলাকা অন্য উপজেলায় স্থানান্তর হয়েছে। স্থানীয় একটি চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে অফিস সহকারীদের সহায়তায় অর্থের বিনিময়ে এমন ঘটনা ঘটেছে।

১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, ২০ জুলাই, সোমবার নূরনবী শেখ ও মিলন শেখের ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করা হয়। এরপর ২৫ আগস্ট, মঙ্গলবার ইসলামপুর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আবেদনগুলো পাঠানো হয়। অনুমোদনের পর মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে নূরনবী শেখের ভোটার এলাকা দুরমুঠ ইউনিয়নের হাতিজা গ্রামে এবং মিলন মিয়ার ভোটার এলাকা জাঙ্গালিয়া গ্রামে স্থানান্তর করা হয়।

নূরনবী শেখ বলেন, আমার পূর্ব পুরুষ থেকেই ইসলামপুর উপজেলার পূর্ব কান্দার চর গ্রামে বসবাস করছি। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিতও হয়েছি। এবার নির্বাচন প্রস্তুতি নিতে ভোটার তালিকা যাচাই করতে গিয়ে জানতে পারি, আমার ও ভাইয়ের ভোটার এলাকা অন্য উপজেলায় স্থানান্তর করা হয়েছে। আমি যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারি। সে জন্য স্থানীয় একটি চক্র মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহকারীদের যোগসাজসে জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছে।

মিলন শেখ বলেন, আমার ভাইয়ের মেম্বার পদে তাদের প্রার্থিতা বাধাগ্রস্ত করতে অর্থের বিনিময়ে এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। স্থানীয় একটি মহল জালিয়াতির মাধ্যমে এমন কাজ করেছে। তারা উপজেলা নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করে জালিয়াতির সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে দাবি জানান।

এলাকাবাসীর দাবী, নূরনবী শেখ ও তার ভাইয়ের নাম পুনরায় চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভক্ত করে তার ভোটাধিকার ও নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এ ব্যাপারে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ভূইয়া এই প্রতিবেদককে বলেন, ভোটার এলাকা স্থানান্তরের যাবতীয় কাজ মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সম্পন্ন করেছে। আমরা শুধু অনুমোদন দিয়েছি।

মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ কামরুল হাসান এই প্রতিবেদককে বলেন, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামপুরের বাসিন্দা দুই ব্যক্তির ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে মেলান্দহে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে জানতে পেরেছি, একটি চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন করেছিল। তখন বিষয়টি বুঝতে পারিনি। ভোটার এলাকা ঠিক করে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।