ঢাকা ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সারাদেশে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় ১১ জুলাই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাজনীতি ভোগের জন্য নয়, এটি জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের মাধ্যম : তথ্যমন্ত্রী নিখোঁজ শিশু সাদের সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন বকশীগঞ্জে বসতঘর লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত আসুন ‘সবুজ বসতি’ গড়ে তুলি : প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন ৩ ব্যক্তি ও ৩ প্রতিষ্ঠান শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ঘাটতি নেই : শামা নকলায় চলন্ত বাসে যাত্রী তোলা নিয়ে মারামারি, পথচারী নিহত যৌতুক : স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা মামলার রায়ে আসামি স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

গণমাধ্যম শিল্প বাঁচাতে সাংবাদিকদের সম্মানজনক ওয়েজবোর্ড জরুরি : তথ্যমন্ত্রী

জামালপুর : ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত ইফতার মাহফিল পরবর্তী ডিআরইউ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি : সংগৃহীত

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যম শিল্পকে একটি সম্মানজনক পর্যায়ে নিতে হলে এবং মেধাবী পেশাজীবীদের এই পেশায় ধরে রাখতে হলে সাংবাদিকদের জন্য সম্মানজনক ওয়েজবোর্ড নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, একটা গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির শ্রমিকেরও যে পরিমাণ কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা (জব সিকিউরিটি) আছে, অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সেই নিরাপত্তা নেই।

৬ মার্চ, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত ইফতার মাহফিল পরবর্তী ডিআরইউ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মালিকপক্ষ সাংবাদিকদের বেতন দিতে বাধ্য থাকবে না- এমন কোনো আইনের মধ্যে এই শিল্প চলতে পারে না। মালিকের লাভ হয়নি বলে একজন মেধাবী সাংবাদিকের বেতন হবে না, এটা হতে পারে না। এই সমস্যাগুলোর সমাধান না করলে গণমাধ্যম জগৎ কখনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পাবে না।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন এবং পত্রিকা নিবন্ধনের সামগ্রিক পরিস্থিতির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জাতীয় স্বার্থেরই অংশ।

তিনি বলেন, সরকার কেবল প্রশংসা পকেটে ভরবে আর ভুলের সমালোচনার দায়িত্ব নেবে-তা হতে পারে না। মন্ত্রণালয়ের প্রধান অংশীদার গণমাধ্যম, তাই সমস্যাটা আমাদের একই চশমা দিয়ে দেখতে হবে। রোগের ডায়াগনোসিস রাইটলি না হলে ট্রিটমেন্ট হবে না।

মন্ত্রী গণমাধ্যম শিল্পের সমস্যা সমাধানে ঐকমত্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, অচিরেই সাংবাদিকদের সকল ইউনিয়ন ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় শুরু হবে।

প্রতিটি সংগঠন থেকে ৩-৫ জন বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি চেয়ে তিনি বলেন, যাদের স্টাডি ও পর্যবেক্ষণ করার গভীরতা আছে, তারা যেন সমস্যার সঠিক চিহ্নিতকরণ ও কার্যকর সমাধান করার প্রস্তাব করতে পারেন।

বিজ্ঞাপন ও সরকারি অনুদান প্রসঙ্গে মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, নীতিমালা বহির্ভূতভাবে সরকারি অর্থ খরচ করা যাবে না। আমি জমিদার নই যে, যাকে খুশি তাকে দেব। আমরা খুব দ্রুত একটা নীতিমালার মধ্যে ঢুকবই।

প্রযুক্তিগত রূপান্তর নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়টি একটি ‘হাইব্রিড সিস্টেম’। কেউ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, কেউ আবার কলম ছাড়া চলতে পারছে না। এই বিবর্তনের যুগে পেশাদারিত্বের মান বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, শুধু নেতিবাচক কথা বললে হবে না, রাষ্ট্রকে ইতিবাচক প্রস্তাব করতে হবে। একাধিক প্রস্তাব থাকলে আমরা সেখান থেকে টেকসই সমাধান বেছে নেব।

ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।

ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রীর কাছে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রস্তাবে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সাংবাদিকদের একটি বাস্তবসম্মত ওয়েজবোর্ড কার্যকর, সাপ্তাহিক ছুটি দুইদিন, বছরে দুই ঈদের ছুটি পাঁচদিন করে এবং অবসর ভাতা চালু করা এখন সময়ের দাবি।

মন্ত্রী প্রস্তাবের বাস্তব সম্মত সমাধানে সকল অংশীজনের সঙ্গে শিগগিরই বসবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমসহ ডিআরইউ-এর সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ। সূত্র : বাসস

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

গণমাধ্যম শিল্প বাঁচাতে সাংবাদিকদের সম্মানজনক ওয়েজবোর্ড জরুরি : তথ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:৪১:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যম শিল্পকে একটি সম্মানজনক পর্যায়ে নিতে হলে এবং মেধাবী পেশাজীবীদের এই পেশায় ধরে রাখতে হলে সাংবাদিকদের জন্য সম্মানজনক ওয়েজবোর্ড নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, একটা গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির শ্রমিকেরও যে পরিমাণ কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা (জব সিকিউরিটি) আছে, অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সেই নিরাপত্তা নেই।

৬ মার্চ, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত ইফতার মাহফিল পরবর্তী ডিআরইউ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মালিকপক্ষ সাংবাদিকদের বেতন দিতে বাধ্য থাকবে না- এমন কোনো আইনের মধ্যে এই শিল্প চলতে পারে না। মালিকের লাভ হয়নি বলে একজন মেধাবী সাংবাদিকের বেতন হবে না, এটা হতে পারে না। এই সমস্যাগুলোর সমাধান না করলে গণমাধ্যম জগৎ কখনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পাবে না।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন এবং পত্রিকা নিবন্ধনের সামগ্রিক পরিস্থিতির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জাতীয় স্বার্থেরই অংশ।

তিনি বলেন, সরকার কেবল প্রশংসা পকেটে ভরবে আর ভুলের সমালোচনার দায়িত্ব নেবে-তা হতে পারে না। মন্ত্রণালয়ের প্রধান অংশীদার গণমাধ্যম, তাই সমস্যাটা আমাদের একই চশমা দিয়ে দেখতে হবে। রোগের ডায়াগনোসিস রাইটলি না হলে ট্রিটমেন্ট হবে না।

মন্ত্রী গণমাধ্যম শিল্পের সমস্যা সমাধানে ঐকমত্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, অচিরেই সাংবাদিকদের সকল ইউনিয়ন ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় শুরু হবে।

প্রতিটি সংগঠন থেকে ৩-৫ জন বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি চেয়ে তিনি বলেন, যাদের স্টাডি ও পর্যবেক্ষণ করার গভীরতা আছে, তারা যেন সমস্যার সঠিক চিহ্নিতকরণ ও কার্যকর সমাধান করার প্রস্তাব করতে পারেন।

বিজ্ঞাপন ও সরকারি অনুদান প্রসঙ্গে মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, নীতিমালা বহির্ভূতভাবে সরকারি অর্থ খরচ করা যাবে না। আমি জমিদার নই যে, যাকে খুশি তাকে দেব। আমরা খুব দ্রুত একটা নীতিমালার মধ্যে ঢুকবই।

প্রযুক্তিগত রূপান্তর নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়টি একটি ‘হাইব্রিড সিস্টেম’। কেউ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, কেউ আবার কলম ছাড়া চলতে পারছে না। এই বিবর্তনের যুগে পেশাদারিত্বের মান বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, শুধু নেতিবাচক কথা বললে হবে না, রাষ্ট্রকে ইতিবাচক প্রস্তাব করতে হবে। একাধিক প্রস্তাব থাকলে আমরা সেখান থেকে টেকসই সমাধান বেছে নেব।

ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।

ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রীর কাছে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রস্তাবে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সাংবাদিকদের একটি বাস্তবসম্মত ওয়েজবোর্ড কার্যকর, সাপ্তাহিক ছুটি দুইদিন, বছরে দুই ঈদের ছুটি পাঁচদিন করে এবং অবসর ভাতা চালু করা এখন সময়ের দাবি।

মন্ত্রী প্রস্তাবের বাস্তব সম্মত সমাধানে সকল অংশীজনের সঙ্গে শিগগিরই বসবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমসহ ডিআরইউ-এর সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ। সূত্র : বাসস