ঢাকা ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত জামালপুরে প্রয়াত বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান খোকা স্মরণে দোয়া মাহফিল গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায়ে ইউপি সদস্যসহ ৭ জনকে মৃত্যুদন্ড বকশীগঞ্জে অপপ্রচার রোধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সরিষাবাড়ীতে মৃত দুই গ্রাহকের নমিনির হাতে বীমা দাবির চেক হস্তান্তর মাদারগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত সরিষাবাড়ীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত উদ্ধার হলো খাস জমি, বন্ধ রাস্তা খুলে দেওয়ায় স্বস্তি নকলায় মাদক, দুর্নীতি ও বাল্যবিবাহ বিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন সরকারের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী

ঋতুর সাথে পেশা বদল ও বঞ্চনার শিকার, তবুও দুর্গম যমুনার চর ছাড়তে নারাজ স্থানীয়রা

ইসলামপুর : প্রাকৃতি সৌন্দর্যের এই দৃশ্যের আড়ালে থাকে চরবাসীর অনেক কষ্ট। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

ঋতু পরিবর্তনের সাথে নদ-নদীরও গতিপথ বদলে যায়। ঠিক তেমনি ঋতুর সাথে দুর্গম যমুনা চরের মানুষের পেশাও বদলায়। জামালপুরের ইসলামপুর দুর্গম যমুনা চরের বসবাসকারী মানুষের জীবন যেন রাষ্ট্রের চোখের আড়ালে থাকা এক দীর্ঘশ্বাস। নদীভাঙন, দারিদ্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করেও তাদের দুর্দশা নিরসনে নেই কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ।

যমুনা নদীর চরগুলোতে চারটি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক বেশি মানুষ। প্রতিনিয়তই প্রকৃতির সাথে লড়াই করছে। লড়াই করছেন নদীর নিষ্ঠুর ভাঙনের সাথে। যমুনা চরসহ নদী পাড়ে বসত করা এসব মানুষ নদীর গতি প্রকৃতির সাথে পাল্লা দিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। অভাব অনটন, ক্ষুধার যন্ত্রণা থাকলেও চরের মানুষ চর ছাড়তে নারাজ। নদীর টানেই চরের মানুষ আশায় বুক বেঁধে পড়ে থাকে ভাঙা ও জীর্ন র্ণ ঘরে। বুকভরা আশা, যে নদী দিনের পর দিন তাদের সর্বস্ব গ্রাস করেছে। তবুও বুকভরা আশা হারিয়ে যাওয়া জমি আবার জেগে উঠা। শত দুঃখ যন্ত্রণা নিয়ে অভাব-অনটন নিয়ে চরের মাটিকেই আঁকড়ে ধরে আছেন। তাদের ধারণা, ভাঙা গড়াই নদীর খেলা। বছরের পর বছর নদী ভাঙনে বারবার বসতবাড়ি স্থানান্তর তাদের নিত্যদিনের ঘটনা হলেও নদীভাঙন প্রতিরোধে টেকসই বাঁধ বা অবকাঠামো নির্মাণে তেমন অগ্রগতি নেই।

তাদের মতে বর্ষাকালে উত্তাল নদীর স্রোতধারার সাথে নদীবক্ষে বয়ে আনবে উর্বর পলি। শুস্ক মৌসুমে জেগে উঠা সেই নরম পলিতে ফসল ফলাবে। নদী যেমন দুঃখ দেয়, কেড়ে নেয় বসতবাড়ি আবাদি জমি। তেমনি নদীই তাদের সৌভাগ্য বয়ে আনে। জমি হারানোর ফলে কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়ে পরিবারগুলো চরম দারিদ্রের মুখে পড়ছে। শুষ্ক মৌসুমে জেগে উঠা নদীর বালির চরে মরিচ, ধান, পাট, চিনা, কাউন, বাদাম, তিল, তিশি চাষ করে আবার স্বাবলম্বিও হচ্ছে। এছাড়াও ঋতু পরিবর্তনের সাথে তারা পেশা বদল করে। এক সময় জেলে। কোন সময় নৌকার মাঝি। আবার এক সময় কৃষক। সময়ে ঘাটের ঘাটে কুলি-মজুরের কাজ করে।

ইসলামপুর : প্রাকৃতি সৌন্দর্যের এই দৃশ্যের আড়ালে থাকে চরবাসীর অনেক কষ্ট। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

চরবাসী রিপন মন্ডল বলেন, এই জীবনে শান্তি নাই। কখন নদী ঘর নিয়ে যাবে বলা যায় না। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা করাতে পারি না। অসুস্থ হলে নৌকায় করে শহরে নিতে হয়। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। বিশুদ্ধ পানির সংকট ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। অথচ এসব এলাকায় নেই স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্যোগকালে ত্রাণ এলেও তা অপ্রতুল। সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন নারীরা। নিরাপদ প্রসব ও চিকিৎসাসেবার অভাবে মাতৃত্ব হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ। একই সঙ্গে বিদ্যালয় সংকট ও যোগাযোগ সমস্যায় শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্বকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

চরবাসীর দাবি, শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলেই এ অঞ্চলটি উপযুক্ত বাসযোগ্য হবে ।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

ঋতুর সাথে পেশা বদল ও বঞ্চনার শিকার, তবুও দুর্গম যমুনার চর ছাড়তে নারাজ স্থানীয়রা

আপডেট সময় ১০:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঋতু পরিবর্তনের সাথে নদ-নদীরও গতিপথ বদলে যায়। ঠিক তেমনি ঋতুর সাথে দুর্গম যমুনা চরের মানুষের পেশাও বদলায়। জামালপুরের ইসলামপুর দুর্গম যমুনা চরের বসবাসকারী মানুষের জীবন যেন রাষ্ট্রের চোখের আড়ালে থাকা এক দীর্ঘশ্বাস। নদীভাঙন, দারিদ্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করেও তাদের দুর্দশা নিরসনে নেই কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ।

যমুনা নদীর চরগুলোতে চারটি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক বেশি মানুষ। প্রতিনিয়তই প্রকৃতির সাথে লড়াই করছে। লড়াই করছেন নদীর নিষ্ঠুর ভাঙনের সাথে। যমুনা চরসহ নদী পাড়ে বসত করা এসব মানুষ নদীর গতি প্রকৃতির সাথে পাল্লা দিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। অভাব অনটন, ক্ষুধার যন্ত্রণা থাকলেও চরের মানুষ চর ছাড়তে নারাজ। নদীর টানেই চরের মানুষ আশায় বুক বেঁধে পড়ে থাকে ভাঙা ও জীর্ন র্ণ ঘরে। বুকভরা আশা, যে নদী দিনের পর দিন তাদের সর্বস্ব গ্রাস করেছে। তবুও বুকভরা আশা হারিয়ে যাওয়া জমি আবার জেগে উঠা। শত দুঃখ যন্ত্রণা নিয়ে অভাব-অনটন নিয়ে চরের মাটিকেই আঁকড়ে ধরে আছেন। তাদের ধারণা, ভাঙা গড়াই নদীর খেলা। বছরের পর বছর নদী ভাঙনে বারবার বসতবাড়ি স্থানান্তর তাদের নিত্যদিনের ঘটনা হলেও নদীভাঙন প্রতিরোধে টেকসই বাঁধ বা অবকাঠামো নির্মাণে তেমন অগ্রগতি নেই।

তাদের মতে বর্ষাকালে উত্তাল নদীর স্রোতধারার সাথে নদীবক্ষে বয়ে আনবে উর্বর পলি। শুস্ক মৌসুমে জেগে উঠা সেই নরম পলিতে ফসল ফলাবে। নদী যেমন দুঃখ দেয়, কেড়ে নেয় বসতবাড়ি আবাদি জমি। তেমনি নদীই তাদের সৌভাগ্য বয়ে আনে। জমি হারানোর ফলে কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়ে পরিবারগুলো চরম দারিদ্রের মুখে পড়ছে। শুষ্ক মৌসুমে জেগে উঠা নদীর বালির চরে মরিচ, ধান, পাট, চিনা, কাউন, বাদাম, তিল, তিশি চাষ করে আবার স্বাবলম্বিও হচ্ছে। এছাড়াও ঋতু পরিবর্তনের সাথে তারা পেশা বদল করে। এক সময় জেলে। কোন সময় নৌকার মাঝি। আবার এক সময় কৃষক। সময়ে ঘাটের ঘাটে কুলি-মজুরের কাজ করে।

ইসলামপুর : প্রাকৃতি সৌন্দর্যের এই দৃশ্যের আড়ালে থাকে চরবাসীর অনেক কষ্ট। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

চরবাসী রিপন মন্ডল বলেন, এই জীবনে শান্তি নাই। কখন নদী ঘর নিয়ে যাবে বলা যায় না। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা করাতে পারি না। অসুস্থ হলে নৌকায় করে শহরে নিতে হয়। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। বিশুদ্ধ পানির সংকট ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। অথচ এসব এলাকায় নেই স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্যোগকালে ত্রাণ এলেও তা অপ্রতুল। সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন নারীরা। নিরাপদ প্রসব ও চিকিৎসাসেবার অভাবে মাতৃত্ব হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ। একই সঙ্গে বিদ্যালয় সংকট ও যোগাযোগ সমস্যায় শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্বকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

চরবাসীর দাবি, শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলেই এ অঞ্চলটি উপযুক্ত বাসযোগ্য হবে ।