ঢাকা ০৮:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সহায়তা প্রদানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে : আসাদুল হাবিব দুলু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ আয়কর রসিদেই জানানো হবে করের টাকা কোথায় ব্যয় হচ্ছে : তিতুমীর বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সংবিধানের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে : ওয়ারেছ আলী মামুন দেশের ইতিহাসে তারেক জিয়া এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান সাড়ে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা  স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায়ে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড সাংবাদিকতার জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন : উপদেষ্টা ডা. জাহেদ জামালপুরে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কনসালটেশন সেসন অনুষ্ঠিত

যেকোনো উসকানির মুখে ধীর ও শান্ত থাকতে দেশবাসীর প্রতি তারেক রহমানের আহ্বান

জামালপুর : পূর্বাচলের জুলাই-৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে গণসংবর্ধনা মঞ্চে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি : বাসস

যেকোনো উসকানির মুখে ধীর ও শান্ত থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর পূর্বাচলে ৩০০ ফিটে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে প্রিয় জন্মভূমিতে ফিরে ঐতিহাসিক ভাষণে তারেক রহমান বলেন, যেসব জাতীয় নেতারা এ মঞ্চে আছেন; যারা মঞ্চের বাইরে আছেন; আমরা সবাই মিলে এ দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যেকোনো মূল্যে আমাদের এ দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যেকোনো উসকানির মুখে আমাদের ধীর ও শান্ত থাকতে হবে। আমরা দেশে শান্তি চাই; আমরা দেশে শান্তি চাই; আমরা দেশে শান্তি চাই।

তিনি আরও বলেন, আমার একটি পরিকল্পনা আছে, দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।

নির্বাসন ও সংগ্রামের দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মায়ের কাছে ফিরলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২৫ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইটটি ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। পরে তারেক রহমান সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলিঙ্গন ও কুশল বিনিময় করেন।

এছাড়া বিমানবন্দরে ফুলের মালা দিয়ে তারেক রহমানকে বরণ করে নেন তার শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু।

বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে বের হয়ে খালি জায়গায় খালি পায়ে মাটি স্পর্শ করে একমুটো মাটি হাতে নেন তারেক রহমান। এরপর বুলেট ফ্রুফ গাড়ি বাদ দিয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ খচিত লাল সবুজের রং এর একটি বাসে চড়ে তার জন্য পূর্বাচলে ৩০০ ফিটে সংবর্ধনা মঞ্চের দিকে রওনা হন। তিন ঘন্টারও বেশি সময় লাগে বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিটে সংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছাতে। সেখানে ১৬ মিনিট বক্তৃতা করেন তারেক রহমান।
তার সাথে বাসে ছিলেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ববৃন্দ। পুরো রাস্তায় তিনি বাসটির সামনে থেকে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। বাঁধ ভাঙ্গা উল্লাসে ফেটে পড়েন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করে রাখে।

এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় তিনি স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে রওনা হন।

২৫ ডিসেম্বর সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে ফ্লাইটটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সিলেটে প্রায় এক ঘণ্টার গ্রাউন্ড টার্নঅ্যারাউন্ডের পর তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বেলা ১১টা ১৩ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে এবং বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে লালসবুজ রঙে সাজানো বাসে করে রাজধানীর ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট) এলাকায় গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন তারেক রহমান।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারেক রহমানের প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হল সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাঁর গুরুতর অসুস্থ মা, বাংলাদেশের অভিভাবক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাওয়া। তবে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে, জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে, যাত্রাপথের মাঝামাঝি রাজধানীর ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ এলাকায় দলের পক্ষ থেকে তৈরি করা গণঅভ্যর্থনা মঞ্চে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দোয়া কামনা, কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এরপর এভারকেয়ার হাসপাতাল মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে রওনা হন।

দীর্ঘ দেড় যুগ পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সর্বসাধারণের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ, কৌতূহল ও আবেগের সঞ্চার হয়েছে। এই প্রত্যাবর্তন শুধু একজন নেতার দেশে ফেরা নয়, বরং সর্বজনীন প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার মেলবন্ধন, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জনসমাগম। সূত্র : বাসস

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সহায়তা প্রদানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

যেকোনো উসকানির মুখে ধীর ও শান্ত থাকতে দেশবাসীর প্রতি তারেক রহমানের আহ্বান

আপডেট সময় ১০:১৯:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

যেকোনো উসকানির মুখে ধীর ও শান্ত থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর পূর্বাচলে ৩০০ ফিটে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে প্রিয় জন্মভূমিতে ফিরে ঐতিহাসিক ভাষণে তারেক রহমান বলেন, যেসব জাতীয় নেতারা এ মঞ্চে আছেন; যারা মঞ্চের বাইরে আছেন; আমরা সবাই মিলে এ দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যেকোনো মূল্যে আমাদের এ দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যেকোনো উসকানির মুখে আমাদের ধীর ও শান্ত থাকতে হবে। আমরা দেশে শান্তি চাই; আমরা দেশে শান্তি চাই; আমরা দেশে শান্তি চাই।

তিনি আরও বলেন, আমার একটি পরিকল্পনা আছে, দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।

নির্বাসন ও সংগ্রামের দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মায়ের কাছে ফিরলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২৫ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইটটি ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। পরে তারেক রহমান সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলিঙ্গন ও কুশল বিনিময় করেন।

এছাড়া বিমানবন্দরে ফুলের মালা দিয়ে তারেক রহমানকে বরণ করে নেন তার শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু।

বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে বের হয়ে খালি জায়গায় খালি পায়ে মাটি স্পর্শ করে একমুটো মাটি হাতে নেন তারেক রহমান। এরপর বুলেট ফ্রুফ গাড়ি বাদ দিয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ খচিত লাল সবুজের রং এর একটি বাসে চড়ে তার জন্য পূর্বাচলে ৩০০ ফিটে সংবর্ধনা মঞ্চের দিকে রওনা হন। তিন ঘন্টারও বেশি সময় লাগে বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিটে সংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছাতে। সেখানে ১৬ মিনিট বক্তৃতা করেন তারেক রহমান।
তার সাথে বাসে ছিলেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ববৃন্দ। পুরো রাস্তায় তিনি বাসটির সামনে থেকে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। বাঁধ ভাঙ্গা উল্লাসে ফেটে পড়েন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করে রাখে।

এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় তিনি স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে রওনা হন।

২৫ ডিসেম্বর সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে ফ্লাইটটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সিলেটে প্রায় এক ঘণ্টার গ্রাউন্ড টার্নঅ্যারাউন্ডের পর তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বেলা ১১টা ১৩ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে এবং বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে লালসবুজ রঙে সাজানো বাসে করে রাজধানীর ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট) এলাকায় গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন তারেক রহমান।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারেক রহমানের প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হল সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাঁর গুরুতর অসুস্থ মা, বাংলাদেশের অভিভাবক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাওয়া। তবে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে, জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে, যাত্রাপথের মাঝামাঝি রাজধানীর ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ এলাকায় দলের পক্ষ থেকে তৈরি করা গণঅভ্যর্থনা মঞ্চে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দোয়া কামনা, কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এরপর এভারকেয়ার হাসপাতাল মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে রওনা হন।

দীর্ঘ দেড় যুগ পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সর্বসাধারণের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ, কৌতূহল ও আবেগের সঞ্চার হয়েছে। এই প্রত্যাবর্তন শুধু একজন নেতার দেশে ফেরা নয়, বরং সর্বজনীন প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার মেলবন্ধন, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জনসমাগম। সূত্র : বাসস