ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাংবাদিক লায়নের পিতার ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত প্রধানমন্ত্রীর বাণী : সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী : মানবিক ও নিরাপদ দেশ গড়ার আহ্বান আগামীকাল ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস একটি অসহায় পরিবারের পাশে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা দুর্গম যমুনার চরে হেকমত আতঙ্কে অবরুদ্ধ অসহায় এক পরিবার শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ইউক্রেনের বেসামরিক সম্মাননা প্রদান মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তৎপরতা শুরু স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এআই টুল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখছে গুগল

কাজিপুরে যমুনার তীব্র ভাঙন, দিশেহারা নদীপাড়ের হাজারো মানুষ

সরিষাবাড়ী : চরগিরিশ ইউনিয়নে যমুনা নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম 

যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথেই দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। ইতিমধ্যে সরিষাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনার পূর্বপাড়ে শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। গত দুই সপ্তাহের ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শতাধিক বসতবাড়ি, মসজিদ, মাদরাসা, একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।

ভাঙনকবলিতদের অভিযোগ, বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতি দিলেও নদীভাঙন রোধে কার্যকরী কোন প্রদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তবে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ জানান, ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন হলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে ভাঙনকবলিত এলাকায় স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিতে ৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার বিকালে উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়নের নৌকাঘাটে যমুনার তীরে এক ঘণ্টা ধরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী।

সরিষাবাড়ী : চরগিরিশ ইউনিয়নের নৌকাঘাটে যমুনার তীরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ভাঙনকবলিত এলাকাবাসী। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুততম সময়ে চরের ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘যমুনা’ নামে পৃথক উপজেলা গঠনের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা যমুনার ভাঙনে দিশেহারা চরবাসীকে রক্ষায় স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মনির মিয়া বলেন, কয়েক দিনের ভাঙনে আমার ৩০ বিঘা জমির ধান ভেসে গেছে। গত এক মাসে দু’বার ঘর সরাতে হয়েছে।

নাটুয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, উজানে প্রতিদিন তিন থেকে চার শতাধিক বালুবাহী ড্রেজার চলছে। এর ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে এই এলাকায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এর প্রতিকার চাই। গত মাসেই প্রায় দুই শতাধিক ঘরবাড়ি, বাজার, মসজিদ ও কয়েকশ একর আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে।

সরিষাবাড়ী : চরগিরিশ ইউনিয়নে যমুনা নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কাজিপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফারুক বলেন, নদীর পশ্চিম তীরে বাঁধ নির্মাণে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও পূর্বতীর রক্ষায় কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আমরা দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি।

কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাইমা জাহান সুমাইয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি মাত্র দু’দিন হল দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি। নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। শিগগিরই বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালানো হবে।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন,  ভাঙন কবলিত এলাকাটি বিস্তীর্ণ। ইতিমধ্যে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলেই ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাংবাদিক লায়নের পিতার ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কাজিপুরে যমুনার তীব্র ভাঙন, দিশেহারা নদীপাড়ের হাজারো মানুষ

আপডেট সময় ০৭:০৫:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথেই দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। ইতিমধ্যে সরিষাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনার পূর্বপাড়ে শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। গত দুই সপ্তাহের ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শতাধিক বসতবাড়ি, মসজিদ, মাদরাসা, একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।

ভাঙনকবলিতদের অভিযোগ, বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতি দিলেও নদীভাঙন রোধে কার্যকরী কোন প্রদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তবে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ জানান, ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন হলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে ভাঙনকবলিত এলাকায় স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিতে ৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার বিকালে উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়নের নৌকাঘাটে যমুনার তীরে এক ঘণ্টা ধরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী।

সরিষাবাড়ী : চরগিরিশ ইউনিয়নের নৌকাঘাটে যমুনার তীরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ভাঙনকবলিত এলাকাবাসী। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুততম সময়ে চরের ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘যমুনা’ নামে পৃথক উপজেলা গঠনের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা যমুনার ভাঙনে দিশেহারা চরবাসীকে রক্ষায় স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মনির মিয়া বলেন, কয়েক দিনের ভাঙনে আমার ৩০ বিঘা জমির ধান ভেসে গেছে। গত এক মাসে দু’বার ঘর সরাতে হয়েছে।

নাটুয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, উজানে প্রতিদিন তিন থেকে চার শতাধিক বালুবাহী ড্রেজার চলছে। এর ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে এই এলাকায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এর প্রতিকার চাই। গত মাসেই প্রায় দুই শতাধিক ঘরবাড়ি, বাজার, মসজিদ ও কয়েকশ একর আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে।

সরিষাবাড়ী : চরগিরিশ ইউনিয়নে যমুনা নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কাজিপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফারুক বলেন, নদীর পশ্চিম তীরে বাঁধ নির্মাণে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও পূর্বতীর রক্ষায় কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আমরা দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি।

কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাইমা জাহান সুমাইয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি মাত্র দু’দিন হল দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি। নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। শিগগিরই বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালানো হবে।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন,  ভাঙন কবলিত এলাকাটি বিস্তীর্ণ। ইতিমধ্যে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলেই ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।